শরিকদের ‘এই আসা এই যাওয়া’ পাতে নিচ্ছে না বিএনপি

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৩৬ | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৫

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জোট গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সময়ের বিবর্তনে শরিকদলের সেই সংখ্যা এখন ১৯। এই দুই দশকে বিএনপি জোটে এসেছে আর গেছে মাঝারি ও ছোট মানের আরও কিছু দল। সম্প্রতি দেশের অন্যতম প্রধান দলটির নেতৃত্বে থাকা জোটটি ছেড়ে গেছে ছোট দুটি দল। তবে জোট শরিক কমলেও এ নিয়ে বিএনপি অনেকটাই নির্বিকার।

বিএনপি জোটের বেশিরভাগই অবশ্য নামসর্বস্ব দল। তবে একসময় চেষ্টা-তদবিরে জোটে ভিড়লেও একপর্যায়ে মান-অভিমানে বিএনপি ছেড়েছে একাধিক শরিক। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গণে কথার যুদ্ধ চলছে তখন একে একে জোটের শরিকরা ছেড়ে গেলেও এতে নিজেদের কোনো ক্ষতি দেখছে না বিএনপি।

দলটির হাইকমান্ড থেকে তৃনমূল কারো মধ্যেই এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। জোট ছেড়ে যাওয়া দলগুলোর নেতাদের কেউ কেউ ‘সুবিধাবাদী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোট ছাড়া নিয়ে বিএনপির অভিযোগ- সরকারের চাপে তারা জোট ছাড়ছে।

এদিকে মূল অংশ জোট ছাড়লেও একাংশ রয়ে যাওয়ায় বিএনপিকে ‘ভগ্নাংশের’ জোটের খোটাও শুনতে হয়েছে। অবশ্য সবশেষ প্রায় দুইযুগের জোট সঙ্গী খেলাফত মজলিস বিএনপি ছাড়লেও এখন পর্যন্ত এই দলের কেউ জোটে রয়ে গেছেন এমন খবর জানা যায়নি। ফলে ২০ দল হিসেবে পরিচিতি পেলেও এটি এখন ১৯ দলীয় জোট।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, নিজ থেকে কেউ জোট ছাড়লে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এভাবে গেলে তাদেরও সেই অর্থে কোনো দায় থাকবে না। পাশাপাশি নিজেদের ‘একলা চলো’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন নেতারা। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াত নিয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থানে যেতে না পারায় চাপা ক্ষোভও আছে দলটির নেতাদের মধ্যে।

বিএনপি সূত্র অবশ্য বলছে, জোট না রেখে এককভাবে চলার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিএনপির একজন প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘খেয়াল করে দেখবেন যারা জোট ছাড়ছে তাদের কয়েকজনের দল মানে ওয়ানম্যান শো! তারা নিজেদের ইচ্ছায় এসে আবার নিজেরা চলে গেছে। এ নিয়ে টেনশন করার কিছু নেই। এখন নিজেদের পায়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের মন সেদিকেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেড়যুগ আগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আর বর্তমান চিত্র ভিন্ন। জোটে যারা আছে বা ছিল কাউকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মত কিছু নেই। তাই কাউকে ধরেও রাখছি না, ছেড়েও দিচ্ছি না। সিদ্ধান্তের রাস্তা ওপেন।’

অবশ্য জোটে থাকা দলের নেতাদেরও আকার ইঙ্গিতে বিএনপি এমন চিন্তার কথা বুঝিয়ে দিয়েছে। তবুও তারা জোট কার্যকরে বিএনপির ওপর চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অন্যথায় জোট ছাড়তে পারেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। তবে এসব কানে নিচ্ছে না বিএনপি।

সম্প্রতি জোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে কিছুটা প্রভাব রাখা সৈয়দ ইবরাহীম বীর প্রতীক এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু এখন অবধি বিএনপির পক্ষ থেকে জোট নিয়ে কোনো আলোচনা-উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

বিদায়বেলায় বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয় নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকলেও কখনো সেইভাবে অভিযোগ করেনি কেউ। জোট ছেড়ে যাওয়ার সময় অবমূল্যায়ণ, জোট অকার্যকর এসব অভিযোগ করাটা অসুন্দর দেখায়। তবে এমন রাজনৈতিক খেলা সবসময় হয়। এ নিয়ে পড়ে থাকা যাবে না। সামনের কর্মপরিকল্পনা করতে হবে।’

জোটের পথচলা-ভাঙনের ইতিহাস

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি বিএনপি, এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট (আমিনী) নিয়ে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। পরবর্তিতে ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের ব্যানারেই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি।

যদিও ২০০০ সালে এরশাদের জাপা জোট ছাড়লেও নাজিউর রহমান মঞ্জু ও কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে দলটির একাংশ বিজেপি নামে জোটে থেকে যায়। অবশ্য ২০১৯ সালের ৬ মে বিএনপি জোট ছাড়ে বিজেপির নেতৃত্ব দেয়া আন্দালিব রহমান পার্থ।

এই সময়ের মধ্যে বাড়তে থাকে বিএনপি জোটের কলেবর। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ১৮ দল এবং পরে আরও দুটি দল নিয়ে ২০-দলীয় জোট গঠিত হয়। কিন্তু কিছুদিন পর ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট জোট থেকে বেরিয়ে যায় শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। ওই সময় অবশ্য এনপিপির একটি অংশ জোটে থেকে যায়।

এরপর জোট ছাড়ে দীর্ঘদিনের শরিক মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট। ২০১৬ সালের ৭ জুন তারা ২০দল ছাড়ার পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টি। অবশ্য দুই দলেরই একাংশ এখনো বিএনপির সঙ্গে আছে।

এরপর ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ও খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন এনডিপি জোট থেকে বেরিয়ে যায়। প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের দল জাগপাও এ জোট থেকে চলে যায়। কিন্তু এই তিন দলেরই ব্যানারে কিছু নেতা শরিক দল হিসেবে টিকে আছেন বিএনপি জোটে।

নানামুখী চাপে থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জোট ছাড়ে গত ১৪ জুলাই। তাদেরও এক পক্ষ জোটে রয়ে গেছে। আর সবশেষ গত ১ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে ২২বছরের জোটের রাজনীতির সমাপ্তি টানে খেলাফত মজলিস। অবশ্য তাদের কেউ বিএনপির সঙ্গে নেই।

(ঢাকাটাইমস/০৯অক্টোবর/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :