এক শিক্ষকেই চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ)
 | প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ১৭:০২

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৩১ নম্বর লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। স্থানীয়রা বলছেন, যেদিন শিক্ষা অফিসে মিটিং থাকে সেদিন স্কুলের নৈশপ্রহরী বা প্রতিবেশীদের ডেকে পাঠদান করানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে। ফলে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়টির পাঠদানসহ শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারের লক্ষে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সচেতনমহল গত ১৯১০ সালে উপজেলার লক্ষীকোলা গ্রামে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়।

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, গত ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক ছিলেন। এরপর তিনজন শিক্ষকের মধ্যে পবিত্র মণ্ডল নামে একজন সহকারী শিক্ষক গত ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে চাকরি ছেড়ে দিয়ে একটি ব্যাংকে যোগদান করেন। এরপর থেকে দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলতো স্কুলের কার্যক্রম। এরই মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অপর সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার দেড় বছরের জন্য ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) ট্রেনিংয়ে চলে যান। এরপর থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি।

শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক সিট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া আবার সেগুলো নিয়ে আসা, খাতা মূল্যায়ন করা এবং অফিসের নানা রকম কাজকর্ম করা এগুলো নিয়ে যেন হাপিয়ে উঠেছি। একটি প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণে কাজকর্ম থাকে তাতে কোনভাবেই একজনের পক্ষে এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অফিসের কাজ করতে গেলে পাঠদান ব্যহত হয় আবার পাঠদান করতে গেলে অফিসের কাজকর্মে ব্যহত হচ্ছে। তারপরও দিন-রাত নির্ঘুম থেকে এসব কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক চেয়ে শিক্ষা অফিস বরাবর আবেদন করেছি। জানিনা কবে নাগাদ শিক্ষক পাবো।

অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, আগে বিদ্যালটির শিক্ষার মান খুবই ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে তা ব্যহত হচ্ছে।

তারা আরও বলছেন, এমনিতেই করোনাভাইরাস জনিত কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এর মধ্যে আবার শিক্ষক সংকট। এভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে এই বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী থাকবে না। তাই দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামছুজ্জামান বলেন, লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আসা করছি, দ্রুতই এই সংকট কাটবে।

(ঢাকাটাইমস/১৫অক্টোবর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :