বড় নেতা তৈমূর, কিন্তু ভোটের লড়াইয়ে সাফল্য নেই!

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৭ | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩৮

রাত পোহালেই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন। এই নির্বাচনে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে বিএনপির তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যে। বিএনপি দলগতভাবে ভোটে না থাকলেও তৈমূরের দাবি, দলটির নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে আছেন। হেভিওয়েট আইভীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিশ্চিত বিজয়ের কথা বলছেন তিনি। যদিও বিএনপির নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ তৈমূর আলমের ভোটের মাঠে জয়ী হওয়ার ইতিহাস নেই।

দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সচেতন মহলের প্রশ্ন- তৈমূর আলম জয়ের দেখা কি পাবেন এবারের ভোটে? অবশ্য তৈমূরের দাবি, 'হারব না, ইনশাআল্লাহ। হারার কোনো স্কোপই নেই।’ তার ভাষ্য, গত ৫০ বছরে নিজের কাজ এবং বিগত সময়ে আইভীর ব্যর্থতা তাকে বিজয়ী পেতে সহযোগিতা করবে।

ভোটে দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামেরও কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন তিনি। অবশ্য বহু বছর ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত থাকায় শ্রমিক নেতা হিসেবেও খ্যাতি আছে তার।

তবে বিএনপি ভোটে না থাকার পরও মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় উপদেষ্টা ও আইনজীবী ফোরাম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তৈমূর আলমকে। অন্যদিকে জেলার আহ্বায়ক পদেও অন্য একজনকে তারস্থলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে বিএনপির রাজনীতিতে তৈমূর

তৈমূল আলম নিজেকে মজলুম জননেতা বলে দাবি করেন। শ্রমিক, রিকশা ও ঠেলাগাড়ী সংগঠন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে তার উত্থান। বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে যুক্ত হয়ে অনেক মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

২০০১ সালে শামীম ওসমানের অফিসে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছিল তৈমূর আলমকে। তার দাবি, এই মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির পদেও তাকে দেখা গিয়েছিল। একপর্যায়ে জেলা ও স্থানীয় বিএনপির সব পদ থেকেই আকস্মিক এই নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

নেতৃত্ব হারিয়ে দীর্ঘদিন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন তৈমূর আলম। পরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার উপদেষ্টা কাউন্সিলে তৈমূর আলমকে সংযুক্ত করেন। এছাড়াও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামেরও কেন্দ্রীয় পদ পান তিনি। তবে স্থানীয় বার কাউন্সিলের নির্বাচনেও তিনি কখনো বিজয়ী হতে পারেননি।

শেষ বেলায় থেমে গিয়েছিল তৈমূরের ভোটযাত্রা!

২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন শামীম ওসমান। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন বিএনপির তৈমূর আলম। জমজমাট লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হলেও দলীয় নির্দেশে শামীম-আইভীকে লড়াইয়ে রেখে ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তৈমূর।

সেই ঘটনাটি তখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছিল। যদিও সেই ঘটনার জন্য দলকে এখনো দায়ী করে কথা বলেন তৈমূর আলম। তার ভাষ্য, নির্বাচনে ভালো অবস্থান থাকলেও তাকে শেষ মুহূর্তে কোরবানি দেওয়া হয়।

সেই নির্বাচনে ভোটে জিতেন আইভী। এরপর ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী হলেও তৈমূরকে না দিয়ে দল থেকে মনোনয়ন পান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। ওই নির্বাচনেও বিজয়ী হন ডা. আইভী।

তবে এবার বিএনপি ভোটে না থাকলেও এবার নিজেকে জনতার প্রার্থী দাবি করে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তৈমূর আলম। সুষ্ঠু ভোট হলে নগরপিতা হবেন এমন আত্মবিশ্বাস আছে বলেও জানান তিনি।

ভোটের মাঠে বিজয়ী হওয়ার আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে পেলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম খন্দকার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি যেসব মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছি, এগুলোর বড় পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। যেমন ছিন্নমূল। এখনো আমি রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, ঠেলাগাড়ি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, হোটেল শ্রমিক ও হকারদের সংগঠন করি।’

তৈমূর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মীরা ধানের শীষে ভোট দেবে না। কিন্তু হাতি মার্কায় তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা তো ভোট দেবেই, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটও আসবে। তাই হারার কোনো সুযোগ নেই।’

নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনসহ বিএনপির অনেকে পাশে নেই- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন দুদকের মামলার কারণে ছেলের জন্যই ভোট করতে পারছেন না। জেলার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও সবাই আছেন আমার সঙ্গে।’

(ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :