জনগণের ক্ষোভ কমাতে সরকারকে গয়েশ্বরের ‘টিপস’!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩৫

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর দেশের মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এই ক্ষোভ কমাতে সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশেই যেহেতু থাকতে হবে, সরকারে বা বিরোধী দলে যেখানে থাকেন শান্তিতে থাকতে পারবেন সেই উদ্যোগ গ্রহণ করুন। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন দিন। এতে করে দেশের মানুষের আপনাদের ওপর যত ক্ষোভ আছে, আপনাদের যতটা ঘৃণা করে তা কমে যেতে পারে।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া নাগরিক ফেরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অনেকদিন ধরে উপলব্দি করেছি, ঘরে বসে আলোচনা করে সমস্যার ফয়সালা হবে না। পরিবেশ পরিস্থিতিতে রাজপথের পাশাপাশি ঘরকে অবহেলা করারও সুযোগ কম।

করোনাকে সরকার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এমন মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষনেতা।

তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে সরকারের বিধিনিষেধ দীর্ঘকাল মানতে আমরা বাধ্য নই। সময়ই আমাদের বলে দেবে কখন কী করতে হবে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কর্মসূচি হয়েছে। বিএনপির শক্তি সরকার পরিমাপ করতে পেরেছে। এ কারণেই সরকার করোনা নামক বিধিনিষেধের অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জরিপেও ৮৮ শতাংশ মানুষ বলছে রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন শীত কাল, ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। করোনার বিধিনিষেধ দিয়ে সরকার আরো ঠান্ডা করেছে। সরকার কৌশল করতে পারে। যদি রাজপথ উত্তপ্ত হয় এবং তাদের পতন হয় তাহলে পরিনতি ভয়াবহ হবে। এই ঠান্ডায় ঠান্ডা মাথায় কেটেও পড়তে পারে। পরিবেশ কিন্তু তাই বলছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, বিদেশিরা কাকে অপছন্দ করছে বা করছে না তা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু যাদের নাম তালিকায় ছিল না তারাও ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরত আসছেন। অর্থাৎ সরকারের ভেজাল মাল যা বিদেশে চালান করতে চেয়েছিল সব ফেরত আসছে। আবার বিদেশিরা যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদেরকে সরকার পুরস্কারও দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সরকার যদি তাদের বিচারের আওতায় আনত তাহলে বিশ্ববাসীর রুষ্টতা কিছুটা লাঘব হতে পারত। কিন্তু তারা চ্যালেঞ্জ করেছে। আসলে এদের বুদ্ধিকম মনে হচ্ছে।

প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশন আইন প্রসঙ্গ টেনে সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, এর আগে বিনা কাবিনে সংসার করেছেন, এখন কাবিন করে সংসার করবেন। যতদিন বিনা কাবিনে সংসার করলেন, সেই অপকর্মের বিচার হবে না?

মন্ত্রী-এমপি ও নেতাকর্মীসহ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হয়ত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে যাওয়ার পর্বটা শেষ হবে। তবে, কারাগার ফাঁকা থাকবে না। নানা দুর্নীতি, সন্ত্রাসসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীনদের কারাগারে যেতে হবে। দ্বিগুন বড় করতে হবে কারাগার।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এই সরকারের জাতীয় সংসদে যারা আছেন, তাদের দেশের মানুষ ভোট চোর বলে। চোর তো চোরই। চোর কখনও সাহসী হয় না। চোরদের যারা সাহসী ভাবে তারা কাপুরুষ। আশাকরি আমরা কাপুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হব না। জিয়াউর রহমান সম্মূখভাগে যুদ্ধ করে যেমন দেশ স্বাধীন করেছেন, তেমনি যায় রক্ত যাক সকল বাধা মোকাবেল করে জনগণের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবই। আমরা যদি সরকারের নির্যাতনের কথা না ভেবে ঘুরে দাঁড়াই, এই চোররা পালাবে।

সংগঠনের সভাপতি মিয়া মোহা. আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জামানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :