সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ হচ্ছে গর্ভপাত ক্লিনিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ১৭:৩২ | প্রকাশিত : ২৫ জুন ২০২২, ১৭:২৯
ছবি- রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চাশ বছর ধরে চলে আসা গর্ভপাতের বৈধতা আইন শুক্রবার বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গত মাসের শুরুর দিকেই সুপ্রিম কোর্টের ফাঁস হওয়া একটি গোপন খসড়া নথিতে ঐতিহাসিক গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল হতে পারে বলে আভাস মিলেছিল। এবার বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশটির গর্ভপাত ক্লিনিক।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত দেশব্যাপী গর্ভপাতকে বৈধতা দেওয়া ১৯৭৩ সালের আইনি সিদ্ধান্ত ‘রো বনাম ওয়েড’ উল্টে দেওয়ার পক্ষে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা শিগগিরই এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করতে পারেন।

শুক্রবার রায় ঘোষণার পর দেশটির অর্ধেক রাজ্যেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ হওয়ার পট প্রস্তুত হল। প্রতিটি রাজ্যই এখন নিজস্বভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নিতে পারবে। এরই মধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে গর্ভপাত করানোর ক্লিনিক বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে।

এতদিন ১৩ টি রাজ্য গর্ভপাতকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে আইন ও সংবিধান সংশোধনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেগুলো নিজে নিজেই কার্যকর হয়ে যাবে।

তবে এ রায়ে স্তম্ভিত দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রিপাবলিকান অধ্যুষিত সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘বেদনাদায়ক ভুল’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু শহরে গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

অ্যারিজোনা রাজ্যের ফিনিক্সে বিক্ষোভকারীরা ক্যাপিটল ভবনের দরজা-জানালায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দিয়েছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করতেকাঁদুনে গ্যাস ছুড়তে হয়েছে পুলিশকে। লস এঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীরা সাময়িক সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনলাইনে আসার পরপরই আরকানসোর লিটল রকের এক গর্ভপাত ক্লিনিক রোগীদের থাকার দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়। ক্লিনিকের কর্মীরা ফোনে বিভিন্ন নারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলও করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লিনিকটির বাইরে গর্ভপাতবিরোধীরা তখন উল্লাসে মত্ত ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

লুইজিয়ানার তিনিটি গর্ভপাতের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হলো নিউ অরলিন্সের উইমেনস হেলথ কেয়ার সেন্টার। স্টোরটি সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর কর্মীদেরও তৎক্ষণাৎ বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে গর্ভপাতের পক্ষে থাকা অনেকেই দাবি করছেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর ধনী নারীরা এখন যে রাজ্যে গর্ভপাতের সুযোগ থাকবে সেখানে চলে যেতে পারবে। কিন্তু বিপাকে পড়বে দরিদ্ররা। তাদেরকে তখন অবৈধ পন্থায় গর্ভপাতের দিকে ঝুঁকতে হবে।

দেশটিতে গর্ভপাত নিয়ে কাজ করা স্বাস্থ্যসেবা সংগঠন ‘প্ল্যানড প্যারেন্টহুড’ এর গবেষণা বলছে, সব মিলিয়ে দেশটিতে প্রজননক্ষম প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নারী গর্ভপাতের অধিকার হারাতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, আরকানসো, সাউথ ডাকোটা, মিসৌরি, ওকলাহোমা ও অ্যালাবামায় গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়ে গেছে। মিসিসিপি ও নর্থ ডাকোটায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে তাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদনের পর।

উয়োমিংয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ৫দিনের ভেতর; উটাহ-র নিষেধাজ্ঞা তাদের আইনপরিষদে স্বীকৃত হতে হবে। আইডাহো, টেনেসি ও টেক্সাসে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ৩০ দিনের মধ্যে।

গর্ভপাত ইস্যুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি স্পষ্ট হলেও সম্প্রতি পিউ-র এক জরিপে ৬১ শতাংশ আমেরিকান ওই অধিকারের পক্ষে এবং ৩৭ শতাংশকে বিপক্ষে পাওয়া গেছে।

জো বাইডেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ নারীদের জীবন ও স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যেসব রাজ্যে গর্ভপাত বৈধ থাকবে অন্য রাজ্যের নারীরা যেন সেখানে যেতে বাধার মুখে না পড়ে তা নিশ্চিতে এবং গর্ভনিরোধক ও ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভধারণ বন্ধে বিভিন্ন ওষুধ সহজে পেতে পারে সেজন্য বিভিন্ন রাজ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ও ওরেগনের গভর্নরার অন্য রাজ্য থেকে গর্ভপাত করাতে আসা রোগীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিনের মতো কিছু কিছু রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে গর্ভপাতের পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থন প্রায় সমান সমান। এসব রাজ্যে প্রত্যেকটি নির্বাচনের ফলের ওপর সেখানে গর্ভপাত বৈধ থাকবে কিনা তা নির্ভর করতে পারে।

দেশটির সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং এই মামলার আগের রায়ের দীর্ঘদিনের সমালোচক মাইক পেন্স দেশটির সবগুলো রাজ্যে যতদিন পর্যন্ত আইনিভাবে ‘জীবনের পবিত্রতা’ সুরক্ষিত না হবে ততদিন লড়াই চালিয়ে যেতে গর্ভপাতবিরোধীদের পরামর্শ দিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/এসএটি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :