ঢাকায় ওয়েবিল বাদ, স্টপেজ ছাড়া থামবে না বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৫ | প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২২, ২২:৪৯
ফাইল ছবি

ঢাকা ও এর আশপাশের শহরতলির বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে ওয়েবিল প্রথা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। বুধবার থেকেই এটি কার্যকর বলে সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। গত সোমবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মালিক সমিতি জানায়, এখন থেকে রাস্তায় কোনো পরিদর্শক (চেকার) থাকবে না। এক বাসস্ট্যান্ড থেকে অন্য বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচলের সময় বাসের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ রুট পারমিটে বর্ণিত বাসস্ট্যান্ডের বাইরে থামিয়ে যাত্রী তোলা যাবে না।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানিয়েছে, পরীবাগে সংগঠনের সোমবারের বৈঠকে ১২০টি পরিবহন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি বাস সরকার নির্ধারিত তালিকা মেনে ভাড়া আদায় করবে। বাসের দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা টানাতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, `গেটলক, সিটিং সার্ভিস, ওয়েবিল, চেকার—এসব থাকবে না। প্রত্যেক বাসে ভাড়ার তালিকা নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নেমেছেন তারা। বাড়তি ভাড়া আদায় করলে কেউ ছাড় পাবেন না।'

নগর ও শহরতলির বাস-মিনিবাসে ওয়েবিল প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এই ব্যবস্থায় একটি রুটে সাধারণত নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় বাসমালিকের লোকেরা এই পরিদর্শন বা চেক করেন। তারা নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামিয়ে কতজন যাত্রী আছে তা লিখে দেন। এর ফলে একজন যাত্রীকে বাসে উঠে পরের স্ট্যান্ডে নেমে গেলেও পরবর্তী ওয়েবিল লেখার স্থান পর্যন্ত ভাড়া দিতে হয়। এভাবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি আদায় করে থাকেন পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা।

সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে, ওয়েবিল প্রথা, সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস অবৈধ। বাড়তি ভাড়া আদায়ের দায়ে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির চলাচলের অনুমতি বাতিল করার বিধান আছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় আইনের এই কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োগ করেনি।

অবশ্য সড়ক পরিবহন আইনে এসব বিষয় মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু পরিবহনমালিকেরা তালিকা টানানো এবং সেই অনুযায়ী ভাড়া আদায় করেন না। সরকারও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে কিছু জরিমানা করে। এবারও ঢাকায় ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব আদালতের সঙ্গে পরিবহনমালিকদের একটি করে দল থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তারা বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহায়তা করবে।

এবার জ্বালানি তেলের মূল্য যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর চেয়ে বেশি হারে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এরপরও পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা বাড়তি ভাড়া আদায় করে যাচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/১০আগস্ট/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :