শতাধিক সেনার মৃত্যুর পর ফের সংঘর্ষে জড়াল আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

২০২০ সালের পর গত সোমবার প্রাণঘাতি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দুই দেশ আরমেনিয়া এবং আজারবাইজান। সংঘর্ষে মঙ্গলবার উভয়পক্ষের ১০০ জন নিহত হয়। বুধবার ফের দেশ দুইটি নতুন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান পার্লামেন্টকে বলেছেন, ছোট, স্থলবেষ্টিত দেশটি আজারবাইজানি হামলার পর তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য মস্কোর নেতৃত্বাধীন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার কাছে আবেদন করেছে।
পাশিনিয়ানের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ‘যদি আমরা বলি যে আজারবাইজান আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছে, তার মানে হল তারা কিছু অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।’
পাশিনিয়ানের দাবি, আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০৫ আর্মেনিয়ান সেনা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জেরমুকের স্পা শহর। শহরটি উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন জুড়ে পরিচিত ছিল।
আজারবাইজানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার সীমান্তে মঙ্গলবার যে সহিংসতা শুরু হয়েছিল, তার জন্য ইয়েরেভান ও বাকু, উভয়েই একে অপরকে দায় দিয়েছে আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আর্মেনিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারুইর হোভহানিসিয়ান বুধবার রয়টার্সকে বলেছেন, মারাত্মক সংঘর্ষ একটি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ বর্তমানে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বিতীয় বড় সশস্ত্র সংঘাতে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে আক্রমণের দিকে মনোনিবেশ করছে।
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ সংঘাত রাশিয়া এবং তুরস্কে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করবে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ যেমন জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে তেমনি তেল ও গ্যাস বহনকারী পাইপলাইনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরকে অস্থিতিশীল করবে।
যুদ্ধের প্রথম দিনে ৫০ সামরিক হতাহতের কথা জানিয়েছে বাকু। বুধবার বলেছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই বেসামরিক লোক আহত হয়েছে।
আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অবস্থানগুলি পর্যায়ক্রমে গুলি চালানো হচ্ছে। আমাদের ইউনিটগুলি প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজারবাইজানীয় অবস্থানে গোলাবর্ষণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বুধবারের লড়াই মধ্যাহ্নের মধ্যে অনেকটা কমে গেছে।
(ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/এসএটি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











