রাজধানীতে তীব্র পানি সংকট, লোডশেডিংকে দুষছে ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩, ১০:০১ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০২৩, ০৮:২৪

অসহনীয় গরম ও লাগামছাড়া লোডশেডিংয়ের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসা পানি সরবরাহ করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। কিন্তু পানি সংকটের জন্য লোডশেডিংকে দায়ী করেছে ঢাকা ওয়াসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর অধিকাং এলাকায় ওয়াসার লাইনে চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ওয়াসা গাড়ির মাধ্যমে যে পানি বিক্রি করে, তাও চাহিদামতো কিনতে পারছেন না কিছু এলাকার মানুষ।

ঢাকা ওয়াসা বলছে, লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পানির পাম্প চালাতে পারছে না। বিপরীতে প্রচণ্ড গরমের কারণে পানির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। যার ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন>>বিচার বিভাগকে স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোডাকশনের ইকুইপমেন্টে বা যন্ত্রপাতিতে কোনো সমস্যা নেই। পানি না পাওয়ার একমাত্র কারণ লোডশেডিং। আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই।’

তাকসিম এ খান বলেন, ‘আমাদের পানি প্রোডাকশন আমরা করতে পারছি, কিন্তু এটা সাপ্লাই দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিছুদিন ধরে আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ফলে আমাদের পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পানিতে প্রেসার দিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাম্পের ডিপ টিউবওয়েলগুলো বন্ধ থাকছে। ফলে পানি পৌঁছানো যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের মধ্যে ৪টি জোনে বেশি সমস্যা হচ্ছে। গাড়িতে করে পানি সরবরাহ করতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কারণ গাড়িতে অনেক সময় পানি ভর্তি করা যাচ্ছে না। পানি সরবরাহ করতে আমাদের ৪৮টি গাড়ি দিয়ে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলোকে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু জেনারেটরে বিদ্যুতের মতো প্রেসার পাওয়া যাচ্ছে না।’

তাপমাত্রা কমে গিয়ে বৃষ্টি হলে এবং লোডশেডিং কমে গেলে এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে বলে মনে করেন তিনি।

ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমরা নিজেরা বার বার মিটিং করে কর্মীদের সর্বোচ্চ এফোর্ট দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি।’

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বেশি পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ওয়াসার। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২৫৫ থেকে ২৬০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়। ওয়াসা প্রায় ২৮০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। অন্যান্য সময় বা শীতকালে রাজধানীতে দৈনিক পানির চাহিদা থাকে ২১০ কোটি লিটার। কিন্তু সরবরাহকালে অপচয় এবং পাম্প নষ্ট হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই এলাকাভিত্তিক কিছু সমস্যা তৈরি হয়।

ওয়াসা বলছে, গরমের কারণে এখন পানির চাহিদা বেড়ে দৈনিক ৩০০ কোটি লিটারের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে বেশির ভাগ এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।

পুরো ঢাকা শহরেই পানি সরবরাহ করে ঢাকা ওয়াসা। এরমধ্যে বেশকিছু এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার হট লাইন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আফতাবনগর, বনশ্রী, জোয়ারসাহারা, ছোলমাইদ, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দয়াগঞ্জ, কেবি রোড, মধ্য বাসাবো মাঠ–সংলগ্ন এলাকা, মানিকনগর; অঞ্চল–৩–এর আওতায় থাকা মোহাম্মদপুরের চাঁন মিয়া হাউজিং, আদাবর, শ্যামলী, পূর্ব রাজাবাজার, মহাখালী, জুরাইন, মাতুয়াইল, রহমতপুর, কোনাপাড়া, ডগাইর, কদমতলী, উত্তরা সেক্টর ১১ ও ১২, উত্তরখান ও দক্ষিণখান, ইব্রাহিমপুর, কাফরুল, ভাষানটেক, মিরপুর–১১সহ নানা এলাকার বাসিন্দারা পানি নিয়ে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওয়াসার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ওই এলাকার মানুষ খুব দুর্ভোগে পড়েছেন। রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বরের এক বাসিন্দা জানান, পানির অভাবে গত ৩ দিন ধরে তিনি বাড়ির ছাদ বাগানের গাছে পানি দিতে পারছেন না।

ঢাকা ওয়াসার লাইনে পানি না পাওয়া গেলে একমাত্র বিকল্প সংস্থাটির কাছ থেকে পানি কেনা, যা গাড়ির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। দুই, সাড়ে তিন, পাঁচ ও ছয় হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার গাড়ি রয়েছে। দাম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। কিন্তু চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ করতে পারছে না সংস্থাটি।

ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির প্রায় ৬৭ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপ দিয়ে টেনে এই পানি তোলা হয়। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এখন ঢাকা ওয়াসার ১ হাজার ৬১টি পাম্প (স্ট্যান্ডবাইসহ) রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ওয়াসা নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলো চালায়। তবে জেনারেটর দিয়ে সব পাম্প চালানোর মতো সক্ষমতা ওয়াসার নেই। অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ৫টি পানি শোধনাগার রয়েছে। তবে ৪টি শোধনাগার থেকে পানি পাচ্ছে সংস্থাটি। চলতি বছরে উপরি তলের পানির উৎপাদন ৭০ শতাংশে উন্নীত করার কথা থাকলেও সেই লক্ষ্য পূরণ এখনও করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে উপরি তলের পানি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। আর বাকি ৬৫ শতাংশ পানি তারা পাচ্ছে ভূগর্ভ থেকে।

(ঢাকাটাইমস/০৯জুন/আরকেএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :