৩০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হারুন কবে যাবেন রংপুর?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২০:৪৫

ঢাকা থেকে রংপুরের দূরত্ব ৩০৬ কিলোমিটার। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পাঁচ দিনেও এই পথের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেননি আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ। তবে কি হারুন ঢাকায় থাকবেন, নাকি রংপুরে যাবেন? গেলেও সেটা কবে নাগাদ? দেরির কারণই বা কী? এসব নিয়ে পুলিশের ঊধ্বর্তন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে ঢাকাটাইমস।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই তিনি রংপুর পৌঁছাতে বাধ্য থাকবেন। কারণ তাকে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে এবং রংপুরে যেতে হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানা হেফাজতে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বেদম প্রহরের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হন ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশীদ। তাকে বদলি করে পুলিশ সদরদপ্তরে নেওয়ার পর ১২ সেপ্টেম্বর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে পুলিশের সমালোচিত এই কর্মকর্তা এখনো সেখানে যোগ দেননি। তিনি এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কবে নাগাদ রংপুর রেঞ্জে যাবেন সেটাও জানা যায়নি।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় রংপুরের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস্) পংকজ চন্দ্র রায় ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ এখনও আমাদের রেঞ্জে আসেননি। এলে আপনাদের জানাতে পারব।

রংপুরের যাবার জন্য হারুন সময় পাবেন জানিয়ে পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘নাহ তিনি এখনও আসেননি। আসার জন্য সময় পাবেন তিনি। তবে বলতে পারব না তিনি কবে আসবেন।’

ডিএমপির ঊধ্বর্তন একজন কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হারুন ডিএমপিতে নেই। তিনি সাময়িক বরখাস্ত হবার পরেই পুলিশ সদরদপ্তরে সংযুক্ত হয়েছেন।’ হারুনকে নিয়ে ডিএমপির গঠিত তদন্ত কমিটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, এজন্যই কি তিনি রংপুরে যোগ দেননি- এমন প্রশ্নে ডিএমপির এই ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, ‘এমনটি না। তিনি নতুন জায়গায় যোগদানের জন্য ‘জয়েনিং লিভ পান’। মানে, ঢাকা থেকে তিনি ডিপাচার নেবার পর যোগদানকালীন একটা ছুটি পাবেন। ওই ছুটিতে তিনি উল্লেখ করবেন- বাসার মালামালসহ বিভিন্ন জিনিস তাকে পদায়িত জায়গায় নিতে হবে। এই ছুটি সাত থেকে ১০ দিন। সেটাই নিচ্ছেন হারুন।’

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে হারুন বলেন, ‘আমি ঢাকাতেই আছি।’ এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডিএমপির তদন্ত কমিটি। তারা হারুনের বক্তব্য লিখিত রেকর্ড করেছে। এর আগেও তদন্ত কমিটি হারুনের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ধরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ। এসময় একজনের প্রায় পাঁচটি দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে। নারীঘটিত বিষয় নিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত।

বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, সাংবাদিক কিংবা শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগ রয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে। সবশেষ ডিএমপির এডিসি সানজিদা আফরিন নিপার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিম এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে বেদম মারধর করেন হারুন ও পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও সদস্য। এই ঘটনায় এডিসি হারুনকে প্রথমে পিওএম উত্তর বিভাগে বদলি এবং পরবর্তীতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় শাহবাগ থানার পরিদর্শক অপারেশনস মোস্তফাকেও বদলি করা হয়।

হারুনকাণ্ডের পর এডিসি সানজিদাকে বদলি করে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ সদরদপ্তর। তবে হারুনকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার পর সানজিদাকে রংপুরে বদলি থেকে সরে আসা হয়। সানজিদা বর্তমানে ডিএমপিতেই কর্মরত আছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/এসএস/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :