অবশেষে বনানীর থ্রী স্টার হোটেল ‘সুইট ড্রিম’ বন্ধ ঘোষণা

আহম্মেদ মুন্নী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৩ | প্রকাশিত : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২২

বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বনানীর বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত তিন তারকা হোটেল ‘সুইট ড্রিম’। অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে এবং শর্ত ভঙ্গের দায়ে হোটেলটির লাইসেন্স বাতিল করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

হোটেল সুইট ড্রিমের বিরুদ্ধে বিদেশি মদ আমদানির ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও গভীর রাত পর্যন্ত বার খোলা রাখা, অনৈতিক ব্যবসা খুলে বসা, ঘণ্টা চুক্তিতে রুম ভাড়া দেওয়া, হোটেল বারের নিয়ম কানুন ভেঙে সেখানে রাতভর তরুণ-তরুণীদের নৃত্য আর অসামাজিক কাজসহ শর্তভঙ্গ করার কারণে ২০১৭ সালে হোটেলটির বার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এবার হোটেলটির লাইসেন্স সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো। বুধবার হোটেলটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক আয়েশা হক (সিনিয়র সহকারী সচিব) স্বাক্ষরিত চিঠিতে লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘রাজধানীর বনানী ৬০ কামাল আতার্তুক এভিনিউ, ঢাকার অনুকূলে সুইট ড্রিম হোটেলকে অত্র মন্ত্রণালয় থেকে তিন তারকামানের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। যার লাইসেন্স নম্বর ঢাকা-১৩/২০০৭। বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরা আইন ২০১৪ এবং বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরা বিধিমালা ২০১৬ এবং বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরা সংশোধিত বিধিমালা ২০১৯ অনুসরণ করে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার নিদের্শনা ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে বার এবং স্পা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যা বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪ এর ১৭ ধারার (খ) সুস্পষ্ট লঙ্গন করা হয়েছে। হোটেলটিকে আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে বার এবং স্পা হিসেবে ব্যবহার করায় বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন ২০১৪ এর ১৭ ধারা মোতাবেক হোটেল ‘সুইট ডিম’ এর তিন তারকা মান হোটেল লাইসেন্সটি নিদের্শক্রমে বাতিল করা হলো। এবিষয়ে হোটেল সুইট ড্রিমের অফিস এডমিন গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ঢাকা টাইমস প্রতিবেদকের। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘হোটেলের মালিক দেশের বাহিরে রয়েছেন। লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি তারা জানেন না। উনাদের সঙ্গে (সাহাবউদ্দিন আল ইসলাম ও তার পুত্র হোটেলটির ব্যবস্থাপক ফয়সাল আল ইসলাম) যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কথা হলে পরে জানানো হবে।’ তবে এই মূর্হূতে হোটেলটি বন্ধ হলে প্রায় ১০০ জন লোক র্কমসংস্থান হারাবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ১০ র্মাচ রাতে সুইট ড্রিমে খুন হন ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী শেহজাদ খান খায়রুল। পরে তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, মোহাম্মদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার বাবু হাওলাদার এবং বনানীর ইমপোর্ট এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী শেহজাদ খান খায়রুল হোটেল সুইট ড্রিমে একসঙ্গে মদপান করতে যান। তারা দু’জনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেখানে কলগার্ল নিয়ে প্রবেশ করেন তারা। কলগার্লকেও মদপান করান। অংশ নেন ডিজে পার্টিতে। মদের নেশা আর ডিজে পার্টিতে ডিসকো তরুণীদের উন্মাতাল নাচে বেসামাল হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে দু’জনই কলগার্লকে ঢোকাতে চান হোটেলের গোপন রুমে। একপর্যায়ে কলগার্ল নিয়ে ২০৬ নম্বর রুমে ঢুকে যান খায়রুল। হোটেল স্টাফ সজিব রুমের ব্যবস্থা করে দেন। খায়রুল ওই রুম থেকে বের হওয়ার পরই হোটেলের ভেতর দুই বন্ধুর মধ্যে মারামারি হয়। পরে হোটেলের বাইরেও মারামারি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুকে ধাক্কা মারেন খায়রুল। সেখানে এক দফা মারামারির পর তারা পৃথকভাবে নিচে নামেন। নিচে নামার পর দু’জনের মধ্যে পুনরায় হাতাহাতি হয়। এ সময় খায়রুলের বুকে লাথি মারেন বাবু। লাথির আঘাতে খায়রুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তিনি তার এক পরিচিতকে (প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক) খবর দেন। ওই লোক দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাবুকে ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে বাবু পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা খায়রুলকে উদ্ধার করে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ১১ মার্চ সকালে তার লাশ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। তখনই আলোচনায় আসে হোটেল সুইট ড্রীমে আবাসিক সুবিধার কথা বলে অবৈধ বার ও মদ বিক্রয় সহ স্পা সেন্টারের বিষয়টি। এই ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদেশি মদ আমদানির ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও গভীর রাত পর্যন্ত বার খোলা রাখার প্রমাণ পেয়ে ২০২০ সালে হোটেলটির বার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরিচালনার শর্ত লঙ্ঘন করায় হোটেল বার সিলগালা করা হয় এবং হোটেলের বিষয়ে তদন্ত চলমান রেখে তাদের লাইসেন্সটি বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়। এই ঘটনার ২ বছর পর হোটেলটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা এলো।

(ঢাকাটাইমস/০৯ফেব্রুয়ারি/এএম/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :