কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনে যেতে চায় র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫৭ | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:৪৯

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনে যেতে চায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় শহীদ মিনারে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় শেষে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশীদ হোসেন এ কথা বলেন।

এদিন খন্দকার আল মঈনের লেখা ‘মাদকের সাতসতেরো: বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সমাধানসূত্র’ এবং ‘কিশোর গ্যাং: কীভাবে এলো, কীভাবে রুখব’- এ দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এসময় র‍্যাব ফোর্সেস মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনে যেতে চায় উল্লেখ করে র‍্যাব ডিজি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ হচ্ছে মাদকের একটি ট্রানজিট রুট। এর থেকে যদি বাঁচতে হয়, তবে আমাদের সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দেশ আমাদের, দেশের মানুষ আমাদের, বাংলাদেশ আমাদের অহংকার।”

তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে বসবাস করব, এদেশের শান্তি ও সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থার জন্য মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ জঙ্গিবাদ সম্মিলিতভাবে নির্মূল করতে হবে। নির্মূল আমি ওই অর্থে বলব না, কারণ বিশ্বের এমন কোনো দেশ নাই যারা মাদককে নির্মূল করতে পেরেছে। আমি মনে করি, যারা অনেক বড় কথা বলে সেই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো।”

র‌্যাব ডিজি বলেন, “আমাদের মূল কাজ হচ্ছে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, এলাকায় বসবাস করতে পারে, পাশাপাশি আমাদের সমাজ ব্যবস্থা যাতে সুন্দরভাবে পরিচালনা হতে পারে, সমাজের মানুষ যাতে কোনো প্রকার হুমকির মধ্যে না থাকে সেটি নিশ্চিত করা।”

মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলের বিষয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের বই দুটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার খুব বেড়ে গিয়েছিল। এতে র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করে বেশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এই সব কিশোর গ্যাংয়ের কেউ না কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা আছে। এরা সব সময় থাকে, অতীতেও ছিল এখনো আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চেষ্টা করছি কিশোর গ্যাং সমূলে কীভাবে বিনাশ করা হয়, পাশাপাশি যারা এদের পরিচালনা করছে আমরা তাদেরকেও আইনের আওতায় আনব। আমরা চাই সমাজের মানুষ যাতে কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেতে রেহাই পায়” বলেন এম খুরশীদ হোসেন।

মাদকের বিষয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, “মাদকের বিষয়ে কিছু দিন আগেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সেখানে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে সব বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলাম। মাদকের বিষয়টি এমন হয়েছে যে শুধু পুলিশ-র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিয়ে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ মাদক নিয়ন্ত্রণে অনেক বেআইনি পদক্ষেপও নিয়েছে। কিন্তু আমরা সেই পথে যাচ্ছি না, আইনের মধ্যে থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।”

তিনি বলেন, “দেশে যে জঙ্গি উত্থান হয়েছিল, যখন আমরা দলমত নির্বিশেষে সামাজিকভাবে এর মোকাবিলা করলাম তখন কিন্তু জঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।”

র‍্যাব ডিজি বলেন, “আমার ৩৪ বছর চাকরির অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এক সময় বাংলাদেশে মাদক আসতো স্থলপথে। তখন বেশি প্রচলন ছিল ফেনসিডিল ও হেরোইনের। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীপাক্ষিক বৈঠক হলো তারপরে কিন্তু বাংলাদেশে ফেনসিডিল আসা বন্ধ হয়েছে। কারণ তখন ভারতের বর্ডার এলাকাগুলোতে ফেনসিডিলের কারখানা ছিল। এরপরই বাংলাদেশে ফেনসিডিলের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। স্থলপথে রাজশাহীর বাগমারা এলাকা দিয়ে গোদাগাড়ি ওদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-দিনাজপুর-কুমিল্লা বিভিন্ন জায়গা দিয়ে মাদকগুলো আসত। এখন শুধু ফেনসিডিল নয়, কত ধরনের বিপজ্জনক মাদক যে বাংলাদেশে আসছে বিভিন্ন স্থলপথ বর্ডার এলাকা দিয়ে, জলপথে ও আকাশপথেও আসছে।”

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তার অভিজ্ঞতার আলোকে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিষয়ে দুটি বই লিখেছেন। এই দুটি বই সমাজের কিশোরদের কাছে পৌঁছানোর জন্য র‍্যাব কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব ডিজি বলেন, “আমি মনে করি এ ধরনের বই কিশোরদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে, পাঠ্যবইয়ে মাদকের কুফল কিশোর গ্যাংয়ের কুফলের বিষয়গুলো আগে থেকেই তুলে ধরা হলে সমাজে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তের সংখ্যা অনেকাংশে কমে যাবে।”

উন্নত দেশ জাপানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি আমরা জাপানের দিকে দেখি, সেখানে শিশুদের প্রথম দুই বছর কোনো পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা পড়ানো হয় না। তাদেরকে শেখানো হয় ম্যানার (আচার-আচরণ)। দুই বছর পর তাদের পাঠ্যবইয়ের পড়াগুলোকে শেখানো হয়। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে মাদকের কুফল কিশোর গ্যাংয়ের কুফল নিয়ে আলোচনা করা হয় বা ক্লাস নেওয়া হয়, তাহলে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া যাবে। অতীতেও আমি এ বিষয়গুলো দেখেছি। তাই সর্বোপরি সবাই সব জায়গা থেকে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।”

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/এসএস/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

প্রশাসন এর সর্বশেষ

নির্দিষ্ট সময়ে উদীচীর অনুষ্ঠান শেষ না করা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অনভিপ্রেত: ডিএমপি

পিআইবির পরিচালক হলেন কে এম শাখাওয়াত মুন

ডিএমপির দুই কর্মকর্তাকে বদলি

জীবন বীমায় নতুন এমডি, পরিচয় নিবন্ধনে নতুন ডিজি ও মহিলা সংস্থায় ইডি নিয়োগ

ঈদে মোটরসাইকেল নিয়ে ছুটিতে যেতে পারবেন না পুলিশ সদস্যরা

পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নতুন চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান

তিন যুগ্মসচিব নতুন দায়িত্বে

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ১৫৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত 

অগ্নিনিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার পরিদর্শক পদে আরও ১০৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি

রমজানে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিকের বিশেষ নির্দেশনা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :