হোলির রঙে রাঙিয়ে অশুভকে বিদায় জানাল সনাতন ধর্মাবলম্বীরা 

আহম্মেদ মুন্নী, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ১৯:১০ | প্রকাশিত : ২৫ মার্চ ২০২৪, ১৯:০৮

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব। এই উৎসবে শুধু দেবতাকে রাঙিয়ে তোলা নয়, বাংলার হোলির ইতিহাসে মিশে আছে সম্প্রীতি জীবনের নানা রং। অঞ্চল ভেদে দোল উৎসব উদযাপনের বৈচিত্র্যও লক্ষ্য করা যায়।

শাস্ত্র অনুসারে বৈষ্ণবীয় উৎসবের শেষ উৎসব হলো হোলি বা দোল উৎসব। ফাল্গুনী পূর্ণিমায় উদ্যাপিত হয় এই উৎসব। পূর্ণিমার দিন হয় মূল উৎসব। দিন বিকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একে অপরকে আবিরের রঙে রাঙিয়ে তোলেন।

সোমবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশে এই উৎসবটি পালন করা হয়েছে। যা 'দোলযাত্রা' নামেও বাংলাদেশে পরিচিত।

বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির আর রং নিয়ে রাধিকা তার সখিদের সঙ্গে খেলায় মেতেছিলেন। সেই থেকেই দোল উৎসবের প্রচলন।

তবে কিছু ব্যতিক্রমী আচার অনুষ্ঠানও হয় উৎসবে। এর মধ্যেদোল ফোঁড়াফুঁড়িউল্লেখযোগ্য। এতে যুবকেরা দুটি দলে ভাগ হয়ে যান। এক দল থাকেন রাধার পক্ষে, আর এক দল কৃষ্ণের পক্ষে। পূজা স্থলে একটি পুরোনো সিংহদরজা স্থাপন করা হয়। এক দল সেই দরজার সামনে দাঁড়ান, আর এক দল তাদের বাধা অতিক্রম করে দরজা পেরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এটি পশ্চিমবঙ্গে বহুল প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না।

তবে প্রাচীনকাল থেকেই অন্যদেশের মতো বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এই উৎসবে মেতে উঠেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উৎসব উপলক্ষে ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে রমনা কালী মন্দিরে দোল উৎসব কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান রমনা কালী মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উৎপল সাহা।

তিনি বলেন, সকালে পূজা কীর্তন শুরু হয়েছে। এই তিথিতে আবিরের রংঙের বর্ণিল সাজে উৎসবটি পালন করা হয়েছে। ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে দোলনায় রেখে পূজা করি এবং প্রার্থনা করি এদিন মানুষের মাঝে যে হিংসা বিদ্বেষ থাকে তা ভুলে গিয়ে সকলে শ্রীকৃষ্ণের প্রেমে মাঝে থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে আবিরের রঙে রাঙিয়ে সকল অশুভকে বিদায় দেওয়ার উৎসব হলো হলি।

উল্লেখ্য, দোলযাত্রা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই থেকে দোল খেলার উৎপত্তি। কারণে দোলযাত্রার দিন মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহকে আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। সময় তারা রং খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন।

বিশ্বের অনেক স্থানে উৎসবটি শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা নামে অধিক পরিচিত হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মাদ্রাজ, উড়িষ্যা প্রভৃতি স্থানে দোল উৎসব এবং উত্তর, পশ্চিম মধ্য ভারত নেপালেহোলিনামে পরিচিত। কোনো কোনো স্থানে উৎসবকে বসন্ত উৎসবও বলা হয়।

সূত্র মতে বাংলাদেশে সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত উৎসব চলে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরস্পরকে আবির মাখিয়ে উৎসব উদযাপন করেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫মার্চ/এএম/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :