এমপির হস্তক্ষেপে নিরসন হলো উৎস কর জটিলতা, স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০২৪, ১৫:৫৩

জমি হস্তান্তর উৎস কর সংক্রান্ত জটিলতায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে গত কয়েক বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়েছিল জমি কেনা- বেচা। অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার উজ্জামানের হস্তক্ষেপে নিরসন হলো সেই জটিলতার। এ বছরের পহেলা জুলাই থেকে কাঠা প্রতি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ কার্যকর করা হবে। এ খবরে স্থানীয় জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন ২০২৩ এর ১২৫ ধারায় গেল বছরের অক্টোবরে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা-উপজেলার জমিকে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করে। নাল জমির কাঠাপ্রতি উৎস কর ন্যূনতম এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে জাতীয়ভাবে আইনটি সংশোধনের দাবি তোলা হলে ওই বছরের নভেম্বরে কিছু কিছু জায়গায় উৎস কর কমানো হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলাও ছিল । যা পরে ৫০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু তাতেও ভোগান্তি কমছিল না স্থানীয়দের। উৎস কর আর নিচে নামিয়ে আনার দাবি জানায় স্থানীয়রা।

সূত্র আরও জানায়, উৎসকর বৃদ্ধির পর থেকে প্রায় ৮ মাস ধরে এভাবেই চলতে থাকে কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। এতে প্রায় ২ সহস্রাধিক সাব-কবলা দলিল কম হয়েছে। তাছাড়া বাড়তে থাকে আম-মোক্তারনামা, হেবা, বিলএওয়াজ হেবা, দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি। ফলে সরকার হারাতে থাকে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল জমি কেনা-বেচা সংশ্লিষ্ট সকলেই।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন আবাসনের বালির নিচে পড়ে কৃষকের জমি। এদিকে উৎস কর বাড়ানোর কারণে তাদের জমি বিক্রি করতেও পারছেন না। আবার চাষাবাদও করতে পারছেন না। ফলে হজে গমন, চিকিৎসা সেবা, ছেলে-মেয়ের উচ্চ শিক্ষা, বিয়ে কিংবা বিদেশে পাঠানোর মতো বিশেষ প্রয়োজনেও জমি বিক্রি করতে না পারায় জমি ছিল কৃষকের গলার কাঁটা।

কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান বলেন, জমি রেজিস্ট্রি কম হওয়ায় কমেছে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের আয়। তাই ব্যাহত হচ্ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সেই সঙ্গে বিপাকে পড়েছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। উৎস কর আইন সংশোধনের দাবি ছিল স্থানীয় সর্বমহলে। প্রথম দফায় তা অর্ধেকে নেমে আসলেও তা কাজে আসছিল না। অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার উজ্জামানের হস্তক্ষেপে নিরসন হলো জমি হস্তান্তর উৎস কর সংক্রান্ত জটিলতার। এ বছরের পহেলা জুলাই থেকে কাটা প্রতি ২০ হাজার টাকা কার্যকর করা হবে। এতে স্থানীয় জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারউজ্জামান এমপি বলেন, স্থানীয় মানুষের জমি হস্তান্তরে উৎস কর সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়টি উল্লেখ করে এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদান করি। পরে ১২ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে ডিও লেটার প্রদান করা হয়। যার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইপূর্বক জমির উৎস কর পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

(ঢাকাটাইমস/০৯জুন/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :