মেঘালয়ের ঢলে প্লাবিত তাহিরপুর, বন্ধ সড়ক যোগাযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
| আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪, ২৩:৩৮ | প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০২৪, ২১:১১
প্লাবিত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে উপজলার সব সড়কযোগাযোগ

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।যাদুকাটা, বৌলাই নদী দিয়ে পানি প্রবল বেগে ভাটির দিকে প্রবাহিত হওয়ায় ইতোমধ্যে উপজেলার ৮ থেকে ১০টি গ্রামের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের মতোই বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন রয়েছেন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন এই পরিস্থিতিতে উপজেলায় পর্যটকদের আগমনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জের ষোলগড় পয়েন্টের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যায় তা কমে ৬৪ সেন্টিমিটারে এসেছে। অন্যদিকে ছাতক পয়েন্ট সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ঢলের পানি ভাটির দিকে প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় হু হু করে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা উপজেলার ভাটি এলাকায় বাড়ছে পানির উচ্চতা। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদের আনন্দ ভুলে ভুক্তভোগীরা বন্যার আতঙ্কে নিজেদের ও বসতবাড়ির মালামাল রক্ষায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় আছে।

নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের মসজিদ, মন্দির, শ্বশ্বান, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন বাজারে দোকান পানিতে ডুবে গেছে। পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় উপজেলা ও জেলার সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

তাহিরপুর বিশ্বম্ভরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের দূর্ঘাপুর ও শক্তিয়ারখলা সড়ক এবং আনোয়ারপুর সড়ক, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকায় চলাচল করতে গিয়েও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ ৪টি উপজেলার মানুষ।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ে বাসিন্দা শামিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা হাওর পাড়ের মানুষজন বন্যার আতঙ্কে আছি। যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে বসতঘরে পানি প্রবেশ করবে যদি আর সামান্য পরিমাণ পানি বাড়ে।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন জানান, এই উপজেলার পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর্যটকদের আগমনে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প মেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ঢলের পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বন্যা মোকাবিলা সর্তক থাকা নিদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

মঙ্গলবার সিলেটের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে তলিয়ে যায় সাদা পাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/১৮জুন/এসএ/এসআইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :