অধ্যাপক মোবাশ্বের আলী: স্বাধীনতা পুরস্কারের অপেক্ষায় এক সাংস্কৃতিক মহীরুহ

তাসফিয়া তাসমিন মিশু
  প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯| আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৩
অ- অ+

একটি জাতির ইতিহাস শুধু যুদ্ধবিগ্রহ, রাজনৈতিক উত্তরণ বা অর্থনৈতিক মাইলফলকের সমষ্টি নয়। এর সবচেয়ে স্থায়ী ও গভীর স্তরটি নির্মিত হয় ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিভূমির উপর। যে ব্যক্তিরা নীরবে, নিরলসভাবে এই ভিত্তি প্রস্তর গেঁথে দেন, তাঁরা প্রায়শই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আলোকমঞ্চ থেকে দূরে থেকে যান। অধ্যাপক মোবাশ্বের আলী (১৯৩১-২০০৫) হলেন তেমনই এক মহীরুহসম ব্যক্তিত্ব, যাঁর বহুমুখী ও মৌলিক অবদান বাংলাদেশের জাতীয় সত্তার তিনটি স্তম্ভ—ভাষা আন্দোলন, সাহিত্য চর্চা ও শিক্ষাক্ষেত্র—কে অলঙ্কৃত ও শক্তিশালী করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে তিনি একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত অনুবাদক, সুযোগ্য ভাষাবিদ এবং সাহিত্যিক। কিন্তু সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ছিলেন এক জীবন্ত সেতুবন্ধন, যিনি ভাষা আন্দোলনের তীব্র আদর্শবাদকে পাণ্ডিত্যের নির্মল গভীরতায় রূপান্তরিত করেছিলেন, ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারকে বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ আঙ্গিনায় নিয়ে এসেছিলেন এবং পাশ্চাত্য দর্শনের ধ্রুপদী রত্নগুলোকে বাংলাভাষীর মনের খোরাকে পরিণত করেছিলেন। তাঁর এতবড় একটি উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার পরও স্বাধীনতা পুরস্কার—জাতীয় জীবনে সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি—থেকে তাঁর অনুপস্থিতি একটি বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক শূন্যতা। এই নিবন্ধে অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর জীবন ও কর্মের আলোকে বিচার করে দেখানো হবে, কেন তাঁর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তি কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং জাতির একটি জরুরি ঋণশোধ এবং ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য পদক্ষেপ।

প্রথম অধ্যায়: জন্ম ও শিক্ষাজীবন—একটি সংগ্রামী চেতনার উন্মেষ

অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর জীবনযাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩১ সালের ১লা জানুয়ারি, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গপ্রদেশের কুমিল্লা জেলার বাগিচাগাঁও গ্রামে। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রাম বাংলার সনাতনী পরিবেশে, যে পরিবেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধের বীজ রোপিত হয়। কিন্তু তাঁর জীবন গ্রহণ করেছিল এক অনন্য মোড়, যখন তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে গিয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর পিতার ইচ্ছা। তবে অচিরেই তিনি অনুভব করেন যে বিদেশি ভাষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জন তাঁর অন্তর্গত সত্তাকে স্পর্শ করছে না। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি এক সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেন—তিনি কলকাতার পড়া বাতিল করে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। এই সিদ্ধান্তটি ছিল কেবল একটি বিষয় বদলের নয়; এটি ছিল তাঁর চেতনাগত দিশার এক মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর আত্মিক ও বৌদ্ধিক শিকড় প্রোথিত রয়েছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মাটিতে। ফজলুল হক হলের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তিনি প্রত্যক্ষ করলেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাংলা ভাষার উপর চেপে বসা আঘাত। ১৯৪৮ এভাবেই একজন কিশোর থেকে তিনি রূপান্তরিত হতে থাকেন একজন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ও ভাষাসৈনিকে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ভাষা আন্দোলনের এক অগ্রসৈনিক—কালো পতাকা উত্তোলনের প্রতীকী শক্তি

১৯৫২ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হাজারো তরুণের মধ্যে অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর ভূমিকা ছিল অনন্য, প্রতীকী এবং সূচনাকারী। ১ এই কাজটি কোনো আকস্মিক বা আবেগপ্রবণ ঘটনা ছিল না; এটি ছিল সুচিন্তিত, সাহসিকতাপূর্ণ ও গভীর প্রতীকী অর্থবহ এক রাজনৈতিক বক্তব্য। সেসময় কালো পতাকা ছিল শোক, প্রতিবাদ ও হতাশার সার্বজনীন প্রতীক। মোবাশ্বের আলীর এই পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি আসন্ন ভাষাগত ন্যায়বিচারের 'মৃত্যুতে' প্রকাশ্যে শোক ঘোষণা করেছিলেন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সাংস্কৃতিক দমননীতির বিরুদ্ধে এক কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। এটি ছিল একটি নিরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী ঘোষণা—বাংলা মায়ের বুক থেকে তাঁর সন্তানেরা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রস্তুত।

এই সাহসী পদক্ষেপ তাকে শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে ফেলে দেয়। কারাগারের অন্তরীণ থাকাকালে ভাষার অধিকারের জন্য লড়াইয়ের তাত্ত্বিক চেতনা রূপান্তরিত হয় এক গভীর, জীবনব্যাপী অঙ্গীকারে। তিনি কেবল আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারীই ছিলেন না, ছিলেন একজন 'ভাষা সৈনিক'—যার প্রাথমিক প্রতিরোধ জাতীয় চেতনার দাবানল প্রজ্বলিত করতে সহায়তা করেছিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, সেখানে মোবাশ্বের আলীর মতো অগ্রসৈনিকদের ভূমিকা ছিল প্রাণসঞ্চারী। তাই, স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার থেকে তাঁর বিচ্ছিন্ন থাকা, যেন সেই সংগ্রামেরই এক অংশকে উপেক্ষা করার সামিল।

তৃতীয় অধ্যায়: সাহিত্য ও অনুবাদের পৃষ্ঠপোষক—জ্ঞানভাণ্ডারের সীমান্ত প্রসারক

ভাষার জন্য রাজপথের সংগ্রাম শেষ হওয়ার পর মোবাশ্বের আলী মনোনিবেশ করলেন একটি বৃহত্তর ও স্থায়ী যুদ্ধে—বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ, মর্যাদাশালী ও বৈশ্বিক করে তোলার যুদ্ধে। তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসামান্যভাবে বিস্তৃত, যা যেকোনো একক ধারা বা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকতে অস্বীকার করত। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি ভাষার সমৃদ্ধি নির্ভর করে তার নিজস্ব ঐতিহ্যের চর্চা এবং অন্যান্য মহান সভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডারকে আত্মস্থ করার সামর্থ্য উভয়ের উপর।

পাশ্চাত্য সাহিত্য ও দর্শনের বাংলায়ন: তিনি গ্রিক দর্শন, রোমান ইতিহাস থেকে শুরু করে রুশ সাহিত্যের গহীন অরণ্যে প্রবেশ করেছিলেন। দস্তয়য়েভ্স্কি, লিও টলস্টয়, বার্ট্রান্ড রাসেল, পি.বি. শেলি, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-এর মতো চিন্তাবিদ ও শিল্পীদের রচনা তিনি বাংলায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেন। এর মধ্যে বারিস পাস্তনাকের বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস 'ডক্টর জিভাগো'-এর বাংলা অনুবাদ ছিল একটি সাহসী ও যুগান্তকারী কাজ, যা বাংলাভাষী পাঠকদের একটি জটিল রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রচিত বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

বাংলা সাহিত্যের সমালোচনামূলক বিচার: তিনি শুধু বিদেশি সাহিত্য বাংলায় আনেননি, বাংলা সাহিত্যের নিজস্ব ধনভাণ্ডারকেও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ সাহিত্যিকদের উপর তাঁর রচিত গ্রন্থ ও গবেষণাপত্র বাংলা সাহিত্য-চর্চাকে এক পণ্ডিত্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বাংলা ভাষার দক্ষ শিল্পী—এই সংবেদনশীলতা নিয়ে গ্রন্থের কাছে এসেছিলেন। তাঁর অনুবাদ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল এর স্পষ্টতা, প্রাঞ্জলতা এবং মূল রচনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার জন্য। লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষীর জন্য তাদের মাতৃভাষায় বুঝে পড়ার পথ উন্মুক্ত করে দেয়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় কাজই ছিল না; এটি ছিল ভাষাগত বাধা ভেঙে, একটি জাতির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে এক সুতোয়ে গেঁথে দেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন। স্বাধীনতা পুরস্কারের মানদণ্ড 'জাতীয় জীবনে ব্যতিক্রমী অবদান'-এর ক্ষেত্রে এই একক কাজই তাঁকে যোগ্য প্রার্থী করে তোলে।

চতুর্থ অধ্যায়: শিক্ষাক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ জাতি-গঠনকারী

অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর তৃতীয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে শ্রেণীকক্ষে। তিনি শুধু বই পড়াতেন না, জীবন পাঠ করাতেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি নেত্রকোনা কলেজ, যশোরের এম.এম. কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, খুলনা বি.এল. কলেজ-এ অধ্যাপনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৮৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর শ্রেণীকক্ষ ছিল অনন্য। সেখানে ব্যাকরণ বা সাহিত্যের তত্ত্বের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শুনতে পেত ১৯৫২ সালের উত্তাল দিনগুলোর প্রত্যক্ষ বিবরণ। তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের এক জীবন্ত ইতিহাসের গ্রন্থ। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু জ্ঞানই বিতরণ করতেন না, সঞ্চার করতেন দেশপ্রেম, মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ। তাঁর দর্শন ছিল স্পষ্ট: "প্রকৃত উন্নয়ন ও মুক্তি তখনই সম্ভব যখন মানুষ নিজের ভাষায় চিন্তা, গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারবে।" প্রজন্মের পর প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীর মনন গঠনে তাঁর এই ভূমিকা সরাসরি বাংলাদেশের বৌদ্ধিক মূলধন তৈরি করেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই একজন জাতি-নির্মাতা।

পঞ্চম অধ্যায়: স্বীকৃতি, শূন্যতা ও স্বাধীনতা পুরস্কারের যৌক্তিকতা

অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৪), একুশে পদক (১৯৯২), মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় সমাজ পদক সহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা। মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে ভারতের এমটিসি গ্লোবাল প্রতিষ্ঠান তাঁকে মরণোত্তর সম্মাননা জানায় এবং তাঁর নামে একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করে, যা তাঁর প্রভাবের আন্তঃসীমান্ত প্রসারকে নির্দেশ করে।

কিন্তু প্রশ্ন জাগে, যখন জাতির সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার-এর কথা আসে, তখন কেন তাঁর নামটি অনুপস্থিত? এই পুরস্কারের মাপকাঠি হলো জাতীয় জীবনে ব্যতিক্রমী ও বহুমুখী অবদান। অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীর জীবনকর্ম সেই মানদণ্ডকে কয়েকটি ক্ষেত্রে একসাথে পূরণ করে:

১. মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদ: ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা সরাসরি বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা তৈরি করেছিল, যা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মৌল ভিত্তি।

২. ভাষা ও সাহিত্য: কুরআন অনুবাদ, বিশ্বসাহিত্য বাংলায়ন এবং বাংলা সাহিত্যের গবেষণার মাধ্যমে তিনি ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

৩. শিক্ষা ও সংস্কৃতি: একজন আদর্শ শিক্ষক ও অধ্যক্ষ হিসেবে প্রজন্ম গড়ার মাধ্যমে তিনি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন।

তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি ভাষা আন্দোলনের মতো মৌলিক ঘটনা-এর সাথে জড়িত, যিনি জাতীয় ধর্মগ্রন্থের অনুবাদ-এর মতো কালজয়ী কাজ করেছেন, এবং যিনি শিক্ষার মাধ্যমে হাজারো মেধা গড়ে তুলেছেন, তিনি স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন—এটি কোনো যুক্তি বা ন্যায়বিচার দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি একটি ঐতিহাসিক শূন্যতা এবং বিচারবিমুখতা।

ষষ্ঠ অধ্যায়: উপসংহার—একটি জরুরী জাতীয় কর্তব্যের আহ্বান

অধ্যাপক মোবাশ্বের আলী ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক জগতের এক স্থপতি। তিনি বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে, সমৃদ্ধ করতে এবং বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশালী করতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আদর্শ, পাণ্ডিত্য ও পরোপকারের মূর্তপ্রতীক। মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করলে তা কেবল একজন ব্যক্তিকে সম্মানিত করবে না; এটি করবে আরও বৃহত্তর কাজ:

এটি ভাষা আন্দোলনের এক অগ্রযোদ্ধাকে তাঁর যথোপযুক্ত স্থান দেবে।

এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আজীবন নিবেদনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হবে।

এটি একটি ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধন হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ আখ্যানকে সম্পূর্ণ করব।

এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাবে যে দেশ কেবল রাজনৈতিক নেতাদেরই নয়, তার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নায়কদেরও স্মরণ ও সম্মান করে।রাষ্ট্রের কাছে তার ইতিহাসের প্রতি, তার নায়কদের প্রতি একটি দায়বদ্ধতা থাকে। অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীকে স্বাধীনতা পুরস্কার না দিয়ে বাংলাদেশ সেই দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ শোধের, সেই শূন্যতা পূরণের। তাঁর নামে স্বাধীনতা পুরস্কারের ঘোষণা হবে না কোনো দান, বরং একটি বিলম্বিত কিন্তু অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ন্যায়বিচার। এটি হবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিবেকের জয়। আশা করি, দায়িত্বশীল মহল এই ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে অচিরেই অধ্যাপক মোবাশ্বের আলীকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করবে।

লেখক: প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ,বাংলাদেশ ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কালকিনিতে মহিলা মাদ্রাসায় হাতবোমা বিস্ফোরণে আহত ৪ শিক্ষার্থী
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যারা পেলেন দায়িত্ব
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪৪
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা