জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে নির্ভয়ে দাঁড়িয়েছেন জিয়া: কাদের গনি চৌধুরী

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একাত্তরে স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের ডাককে কেউ কেউ আওয়ামী কায়দায় ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এটা মীমাংসিত সত্য। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে নির্ভয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হৃদয়ে জিয়া পরিবার আয়োজিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সেক্টর কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা, সার্থক ও কীর্তিমান রাষ্ট্রনায়ক- বহু বিশেষণে অভিহিত করা যায়। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন্। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে।’
কারও নাম উল্লেখ না করে কাদের গনি চৌধুরী অভিযোগ করেন, এখন কেউ কেউ জিয়াউর রহমানের মর্যাদাকে কেড়ে নিতে চাইছে।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক এটা মীমাংসিত সত্য। আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের মর্যাদা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এখন আবার কেউ কেউ আওয়ামী স্টাইলে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের ডাককে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। যারা ইয়াহিয়ার কণ্ঠে বাংলাদেশের পতনের বাণী শুনতে উদগ্রীব ছিলেন, তারা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনবেন কী করে?’
জাতিগতভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা- এ কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা বলেন, ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানের অকস্মাৎ হামলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন, অপ্রস্তুত জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসে একটি বজ্রকণ্ঠ- ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। তার এ ঘোষণা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল সেদিন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ, সৈনিক জিয়া তখন হাল ধরলেন। ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাঙালি সৈন্যদের একত্রিত করে তিনি প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং সব ক্যান্টনমেন্টে যোগাযোগ স্থাপন করে বাঙালি সেনাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।’
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতিসত্তার রূপকার হিসেবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ শাসক। ঘোরতর বিরোধীরাও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনতে পারেননি কখনো।
বিএফইউজে নেতা এ সময় মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত সব রণাঙ্গনে জিয়াউর রহমানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনা এবং তার ‘জেড’ ফোর্সের যোদ্ধাদের গৌরবদীপ্ত ভূমিকার তথ্য তুলে ধরেন। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়ার নেতৃত্বে যুদ্ধকে ‘স্টালিনগ্রাদের’ যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন বলে বলে জানান তিনি।
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতিসত্তার রূপকার হিসেবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ শাসক। ঘোরতর বিরোধীরাও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনতে পারেননি।
হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জুনায়েদ আবরারের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, প্রফেসর শাহ আলম, মহিউদ্দিন মুনির, মাসুদ রানা প্রমুখ।
(ঢাকাটাইমস/৩ফেব্রুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































