উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন নয়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লজিস্টিকের অদৃশ্য সংকট

বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যে এগোলেও অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ লজিস্টিক ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; পণ্য দ্রুত, কম খরচে এবং নির্ভরযোগ্যভাবে বাজারে পৌঁছানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৫–২০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং এটি রপ্তানি প্রতিযোগিতা ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জাতীয় লজিস্টিকস নীতি–২০২৫ বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত লজিস্টিক হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাস্তব পরিবর্তনের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, কোল্ড চেইন, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং মাল পরিবহন ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তৈরি পোশাক, কৃষি, ওষুধ সরবরাহ, ই-কমার্স এবং আমদানি-নির্ভর শিল্পে উন্নত লজিস্টিক ব্যবস্থা সরাসরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে।
বেসরকারিকরণ এখানে সম্পদ বিক্রি নয়, বরং দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মক্ষমতা আনার সুযোগ। বন্দর, রেল ফ্রেইট, গুদাম ও লজিস্টিক পার্কে পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন, নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক সেবা, সমন্বিত মাল পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল PPP নীতিমালা প্রয়োজন।
সঠিক নীতি, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে লজিস্টিক খাত আগামী দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
লেখক:
সাকিফ শামীম, অর্থনীতিবিদ (এফএসিএইচই, এফএলএময়াই) ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































