বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, বিলুপ্ত হচ্ছে পেট্রল-ডিজেল!

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯| আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭
অ- অ+

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের প্রভাব মোকাবিলায় পেট্রল ও ডিজেলের বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎসগুলোর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

পেট্রল ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন। ব্যাটারিচালিত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বাস পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খরচ সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় উচ্চমূল্যের কারণে সীমিত থাকা এই প্রযুক্তি এখন ধীরে ধীরে সাধারণ ক্রেতার নাগালে আসছে। আগামী দিনে পরিবহন খাতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

এছাড়া Compressed Natural Gas (CNG) ও Liquefied Natural Gas বর্তমানে অনেক দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, জ্বালানি তেলের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, Biodiesel ব্যবহৃত রান্নার তেল, উদ্ভিজ্জ তেল ও পশুর চর্বি থেকে উৎপাদিত একটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, যা সরাসরি ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহার করা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি হিসেবে Hydrogen fuel cell ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এতে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই যানবাহন চালানো সম্ভব।

এছাড়া সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে যানবাহন ও বিভিন্ন শিল্প চালানোর বিষয়টিও ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে Solar energy ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদনের প্রযুক্তিও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সম্ভাবনাময়। এ ধরনের প্রযুক্তিতে প্লাস্টিক বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর করে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং যানবাহনের ইঞ্জিন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবুও দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রযুক্তি পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোয় জোর দিচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। জানুয়ারিতে দেশটিতে ৮ হাজার গাড়ি বিক্রি হয়েছে যার মধ্যে ৮৪ শতাংশই ছিল বিদ্যুৎচালিত।

২০২৫-এর মধ্যে নরওয়েতে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ির বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২২-এর মধ্যে সকল প্রকার যানবাহনের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নরওয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশ “Green Initiative”–এর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৈদ্যুতিক গাড়ি বা Electric Vehicle হলো এমন যানবাহন যা অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের পরিবর্তে রিচার্জেবল ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহৃত না হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে খুব কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক যানবাহন সাধারণত কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক যানবাহন বা Battery Electric Vehicle
  • হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন বা Hybrid Electric Vehicle
  • প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহন বা Plug-in Hybrid Electric Vehicle
  • ফুয়েল সেল প্রযুক্তিভিত্তিক যানবাহন বা Fuel Cell Electric Vehicle

এগুলোতে ব্যাটারি, ইঞ্জিন বা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের বিভিন্ন সমন্বয়ে শক্তি সরবরাহ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রধান সুবিধা হলো কম জ্বালানি ব্যয়, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং শব্দ দূষণ হ্রাস। পাশাপাশি এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়লে এর পরিবেশগত সুফল আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। চার্জিং অবকাঠামোর স্বল্পতা, তুলনামূলক বেশি প্রাথমিক ব্যয়, দীর্ঘ চার্জিং সময় এবং ব্যাটারির সীমিত রেঞ্জ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি, সেখানে বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিবেশগত সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে। নরওয়ের মতো দেশে নতুন গাড়ি বিক্রির বড় অংশই এখন বিদ্যুৎচালিত। সরকারি প্রণোদনা ও কর সুবিধার কারণে সেখানে এ খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক যানবাহন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২১ এপ্রিল/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
খিলক্ষেতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়, ৫ ডাকাতসহ গ্রেপ্তার ২৯
সীমান্ত নিরাপত্তায় ১১ জেলায় আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন
গেন্ডারিয়ায় পায়ে রড ঢুকিয়ে বন্ধুকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
অনলাইন সংবাদ পোর্টালের জন্য নীতিমালা করছে সরকার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা