মেটা’য় এআইকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ, চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ৮ হাজার কর্মী

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা’য় বড় আকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২০ মে থেকে ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ কমানো হতে পারে, ফলে আনুমানিক ৮ হাজার কর্মী প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে মেটার অন্যতম বড় কর্মী ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থাটি মূলত এআই প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের পণ্য ও সেবাকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেটার প্রধান সিইও মার্ক জাকারবার্গ ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এআই প্রকল্পে মেটার বিনিয়োগ কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। লক্ষ্য হলো, কোম্পানির বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে এআই নির্ভর করে তোলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি খাতে দ্রুত অটোমেশন ও এআই ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানবশক্তির প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী কাঠামো পুনর্গঠনে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মেটায় আরও কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। তবে সেই সময় কতজন কর্মী প্রভাবিত হবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
উদাহরণ হিসেবে, অ্যামাজন সম্প্রতি প্রায় ৩০ হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ফিনটেক কোম্পানি ব্লক, আইএনসি তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই এআইনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
চাকরি ছাঁটাই পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট লেঅফ.এওয়াইআই জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২১২ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার। ২০২২ সালের শেষে ইয়ার অব ইফিশিয়েন্সি পুনর্গঠনের পর এটিই সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে যাচ্ছে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। বর্তমানে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হলেও, ব্যবস্থাপনা স্তর কমানো এবং এআইনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্ক-ভিত্তিক এই কোম্পানিতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭৯,০০০ কর্মী কাজ করছেন। সম্প্রতি মেটা তাদের রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে পুনর্গঠন করেছে এবং বিভিন্ন দল থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ‘অ্যাপ্লায়েড এআই’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখতে ও জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরিতে কাজ করবে।
সব মিলিয়ে, এআই কেন্দ্রিক এই পরিবর্তন বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে বড় ধরনের রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
(ঢাকাটাইমস/১৮ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































