জাস্টিস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার সালেহউদ্দিনের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২২ মে ২০২৬, ২২:৫০
অ- অ+

মহান ভাষা আন্দোলনের ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ), গণপরিষদ সদস্য (এমসিএ), জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি), বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট রাজনীতিক ও পার্লামেন্টারিয়ান মরহুম ব্যারিস্টার সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ২৪ মে (রবিবার)।

১৯৩৭ সালের ২ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীতে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার সালেহউদ্দিন। অবিভক্ত ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি রাজবন্দী হিসেবে কারাবরণ করেন। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বরিশালে অনুষ্ঠিত মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি বরিশালের তৎকালীন বিএম ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৬ সালে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের ইনার টেম্পল থেকে ১৯৬৮ সালে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন। তিনি ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি বরিশাল টাউন ইয়ুথ লীগের সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি “পাক ইয়ুথ ফেডারেশন” গঠন করেন এবং ১৯৬৮ সালের ৭ জুলাই পাকিস্তান হাইকমিশন ভবন দখলের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলেন।

একই বছরে তিনি “The Rights of East Pakistan Defence Front” গঠন করে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগে ব্রিটিশ এমপি ও কুইন্স কাউন্সিলর স্যার টমাস উইলিয়ামকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনি সহায়তার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তার নেতৃত্বে ফরিদপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া ১৮ মার্চ বোয়ালমারী ডাকবাংলোর সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন যুদ্ধক্যাম্প তত্ত্বাবধান এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সংবিধানে স্বাক্ষরদান করেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (বর্তমান ফরিদপুর-১) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মওলানা ভাসানীর ন্যাপে যোগ দিয়ে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নির্ভীক, প্রচারবিমুখ এবং সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন জননেতা।

১৯৮৩ সালের ২৪ মে তৎকালীন ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার স্মৃতিকে সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “ব্যারিস্টার সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন টেকনিক্যাল কলেজ”। এছাড়া তাকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে “ব্যারিস্টার সালেহউদ্দিন: জীবন ও রাজনীতি” গ্রন্থ।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি আজ মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের অন্যায় না করার শপথ করালেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
হঠাৎ অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকু, সিসিইউতে ভর্তি
আওয়ামী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল এখন দিচ্ছে জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পূবাইলে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবিতে দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা