দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা বাড়ছে, উদ্বোধন হলো রহমতপুর বিওপি

দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রহমতপুর এলাকায় নবনির্মিত ‘রহমতপুর বিওপি’ উদ্বোধন করেন।
রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) অধীন এই বিওপি উদ্বোধনকালে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এ এলাকায় বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদার হলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। নতুন বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়বে। পাশাপাশি চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিওপি উদ্বোধন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) পরিদর্শন করেন। পরে চট্টগ্রাম বিজিবি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিজিবি সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন বিজিবি মহাপরিচালক।
পরবর্তীতে বিজিবি মহাপরিচালক জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের (২৩ বিজিবি) অধীন বগাপাড়া বিওপি এবং রাঙ্গামাটি সেক্টরের অধীন রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি) পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বিজিবি সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি গুইমারা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোর অধিনায়কসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































