প্রকৃতি

রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ-ভাষ্যে বৃক্ষকথা

মোকারম হোসেন
 | প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৮, ১২:৪৮

রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমগ্র সৃষ্টিতে যে পরিমাণ বৃক্ষ লতা ও গুল্মের উল্লেখ করেছেন তা বিশাল ও ব্যাপক। এক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানীর সমতুল্য বা ততধিক। পথের ধারে অনাদরে বেড়ে ওঠা একটি ক্ষুদ্র তৃণ থেকে শুরু করে একটি সুউচ্চ দেবদারুও তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি। বাদ যায়নি বিদেশের বৃক্ষরাজিও। আবার কিছুু কিছুু বিদেশি বৃক্ষকেও তিনি নাম দিয়ে আপন করে নিয়েছেন। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভ্রমণের যে-বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেছেন সেখানেই আমরা ভিনদেশি গাছগুলোর বর্ণনা পাই। তখনকার দিনে বিদেশ বিভুঁইয়ে গিয়ে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো। এসব প্রতিকূলতা জয় করেই তিনি নিজের মতো করে আলাদা এক জগতে প্রবেশ করতে পারতেন। এ এক অসাধারণ গুণ, অনন্য ক্ষমতা। এসব কারণেই তিনি নিজ তাগিদে সে গাছগুলোর নাম-পরিচয় জেনে নিয়েছিলেন। আমরা যদি রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় কর্মক্ষেত্র একপাশে সরিয়ে রেখে মাত্র এই একটি ক্ষেত্রে নিয়েও কথা বলি তাহলে তাঁর সমকক্ষ আর কাউকে পাই না।

রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সৃষ্টিকর্মে ভ্রমণকাহিনি একটি বড় স্থান দখল করে আছে। এসব ভ্রমণকাহিনি যেমন চারপাশের বর্ণনায় সমৃদ্ধ তেমনি অনেক সরস উপস্থাপনায়ও প্রাণবন্ত। কোথাও কোথাও প্রকৃতির বর্ণনা আমাদের নিয়ে যায় ভিন্ন এক জগতে। রবীন্দ্রনাথ যখন বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতে বসে সেখানকার পুষ্প-তরুর কথা আমাদের শোনান তখন অবাক না হয়ে পারি না। যেখানে আমরা নিজেদের আশপাশের গাছগুলোই ভালোভাবে চিনি না সেখানে তিনি সুদূর ইউরোপ-আমেরিকায় বসে শোনাচ্ছেন সেখানকার গাছগুলোর গল্প। প্রকৃতির প্রতি তাঁর যে দরদ এসব পর্যবেক্ষণ তারই বহিঃপ্রকাশ। কলকাতায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ দেখা দিলে ১৮৭২ সালে ১১ বছরের বালক রবীন্দ্রনাথ পরিবারের সঙ্গে গঙ্গাতীরের পানিহাটিতে এক বাগানবাড়িতে আশ্রয় নেন। এ প্রসঙ্গে জীবনস্মৃতি এবং ছেলেবেলাতেও এসেছে, যেখানে তিনি পানিহাটিকে কথ্য ভাষায় পেনেটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রভাত সংগীতের পঙ্ক্তিমালায়ও এ স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। 

‘আরেকটি ছোটঘর মনে পড়ে নদীকূলে
সম্মুখে পেয়ারা গাছ ভরে আছে ফুলে ফুলে।’ (পুনর্মিলন)

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে মাত্র ১১ বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ ঘরের সামনের সেই পেয়ারা গাছের ফুলগুলোর কথা মনে রেখেছেন।

পাশ্চাত্য ভ্রমণ
এবার দেখা যাক তিনি পাশ্চাত্যের ভ্রমণকাহিনিতে পুষ্প বৃক্ষ নিয়ে কী বলেছেনÑ
ইউরোপ-প্রবাসীর ষষ্ঠ পত্রে তিনি লিখেছেন কমলাফুলের কথা। তখন তিনি বিলেতে। প্রসঙ্গটা এমনÑ 
আমি জিজ্ঞাসা করলুম, ‘বধূটি কে?’ অতগুলি মেয়ের মধ্যে একজন নববধূ কোথায় আছেন তা আমি জানতুম না। শুনে তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন, তিনি বললেন, ‘তার মাথায় কমলালেবুর ফুল দেখে চিনতে পারনি?’ এখানে প্রকারান্তরে একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উঠে এসেছে। এটুকু পড়ে আমরা জানতে পারি প্রথম অনুষ্ঠানে নতুন বউকে কমলালেবুর ফুল পরতে হয়। এটা বিলেতের রীতি। 

৭ সেপ্টেম্বর ১৮৯০, সুয়েজ খাল পেরিয়ে, ক্রীট দ্বীপ হয়ে ইউরোপের মূল গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছেন কবি। ব্রিন্দিসি পৌঁছে তিনি দেখলেনÑ

‘প্রথমে, দুই ধারে কেবল আঙুরের খেত। তার পরে জলপাইয়ের বাগান। জলপাইয়ের গাছগুলো নিতান্ত বাঁকাচোরা, গ্রন্থি ও ফাটল-বিশিষ্ট, বলি অঙ্কিত, বেঁটেখাটো রকমের; পাতাগুলো ঊর্ধ্বমুখ; প্রকৃতির হাতের কাজে যেমন একটি সহজ অনায়াসের ভাব দেখা যায়, এই গাছগুলোয় তার বিপরীত। এরা নিতান্ত লক্ষ্মীছাড়া, কায়ক্লেশে অষ্টাবক্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে; এক-একটা এমন বেঁকে ঝুঁকে পড়েছে যে পাথর উঁচু করে তাদের ঠেকো দিয়ে রাখতে হয়েছে।’

উল্লিখিত অঞ্চলের জলপাই আর আঙুর কবির পূর্ব-পরিচিত নয়। এ সম্পর্কে তাঁকে অবশ্যই জানতে হয়েছে। প্রকৃতির প্রতি দরদ ছাড়া এমন পর্যবেক্ষণ সম্ভব নয়। আমাদের জলপাইয়ের সঙ্গে ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলপাইয়ের কোনো সাদৃশ্য নেই। তাছাড়া আমাদের জলপাই গাছ অনেক বেশি সুদর্শন। তারচেয়ে আরো মনোহর পরিণত জলপাই পাতার রং।

‘...নগর পেরিয়ে আবার মাঠ। ভুট্টার খেত, আঙুরের খেত, ফলের খেত, জলপাইয়ের বন; খেতগুলো খ- প্রস্তরের বেড়া দেওয়া। মাঝে মাঝে এক-একটি বাধা কূপ। দূরে দূরে দুটো-একটা সঙ্গিহীন ছোটো সাদা বাড়ি।’

পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বরের বর্ণনাÑ

‘কাল আড্রিয়াটিকের সমতল শ্রীহীন তীরভূমি দিয়ে আসছিলুম, আজ শস্য-শ্যামলা লম্বার্ডির মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলছে। চারিদিকে আঙুর জলপাই ভুট্টা ও তুঁতের খেত। কাল যে আঙুরের লতা দেখা গিয়েছিল সেগুলো ছোট ছোট গুল্মের মতো। আজ দেখছি খেতময় লম্বা লম্বা কাঠি পোঁতা, তারই উপর ফলগুচ্ছপূর্ণ দ্রাক্ষালতা লতিয়ে উঠছে। ... সেই জলপাই এবং দ্রাক্ষাকুঞ্জ অনেক কমে গেছে; বিবিধ শস্যের ক্ষেত্র এবং দীর্ঘ সরল পপ্লার গাছের শ্রেণি। ভুট্টা, তামাক, নানাবিধ শাকসবজি। কেবলই যেন বাগানের পর বাগান। এই কঠিন পর্বতের মধ্যে মানুষ বহুদিন থেকে বহুযতেœ প্রকৃতিকে বশ করে তার উচ্ছৃঙ্খলতা হরণ করেছে।’ 

উপমা হিসেবেও রবীন্দ্রনাথ ফুলের যথার্থ ব্যবহার করেছেন।Ñ

‘ক্ষুধার সময়ে বকুলের চেয়ে বার্তাকুর দাম বেশি হয়। সে জন্য ক্ষুধাতুরকে দোষ দিই নে; কিন্তু বকুলকে যখন বার্তাকুর পদ গ্রহণ করার জন্যে ফরমাশ আসে তখন সেই ফরমাশকেই দোষ দিই। বিধাতা ক্ষুধাতুরের দেশেও বকুল ফুটিয়েছেন, এতে বকুলের কোনো হাত নেই। তার দায়িত্ব আছে এই যে, যেখানে যা-ই ঘটুক, তাকে কারও দরকার থাক্ বা না থাক্, তাকে বকুল হয়ে উঠতেই হবে; ঝরে পড়ে তো পড়বে, মালায় গাঁথা হয় তো তা-ই সই।’
আবার অন্যত্র আছেÑ

‘ফুলের মধ্যে যে-আনন্দ সে প্রধানত ফলের প্রত্যাশার আনন্দ এটা অত্যন্ত মোটা কথা। বিশ্ব সৃষ্টিতে দেখতে পাই সৃষ্টিতেই আনন্দ হওয়াটাই চরম কথা। তার ফুলেও আছে হওয়া, ফলেও আছে হওয়া। ফুলটা হলো উপায় আর ফলটা হলো উদ্দেশ্য, তাই বলে উভয়ের মধ্যে মূল্যের কোনো ভেদ দেখতে পাই নে।’   [ক্রাকোভিয়া, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯২৫] 

কবির স্মৃতিচারণ এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণ...
‘একদিন আমার মালী ফুলদানী থেকে বাসী ফুল ফেলে দেবার জন্য যখন হাত বাড়ালো, বৈষ্ণবী তখন ব্যথিত হয়ে বলে উঠল, লিখতে পড়তেই তোমার সমস্ত মন লেগে আছে, তুমি তো দেখতে পাও না।’ তখনই চমকে উঠে আমার মনে পড়ে গেল, হ্যাঁ তাই তো বটে। ঐ বাসি বলে একটা অভ্যস্ত কথার আড়ালে ফুলের সত্যকে আর আমি সম্পূর্ণ দেখতে পাই নে। যে আছে সেও আমার কাছে নেই; নিতান্তই অকারণে, সত্য থেকে, সুতরাং আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলুম। বৈষ্ণবী সেই বাসি ফুলগুলোকে অঞ্চলের মধ্যে সংগ্রহ করে তাদের চুম্বন করে নিয়ে চলে গেল।’ [ক্রাকোভিয়া, ভারত মহাসাগরÑ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯২৫] 
বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসেও কবি দেশের কথা ভোলেন না। স্মৃতিচারণে উঠে আসে ফুলের কথা। সরস কথকতা।

মস্কো ভ্রমণে কবি লিখেছেন...
স্থান রাকিছা। দৃশ্য, মস্কোর উপনগরীতে একটি প্রাসাদভবন। জানালার ভিতর দিয়ে চেয়ে দেখি, দিকপ্রান্ত পর্যন্ত অরণ্যভূমি, সবুজ রঙের ঢেউ উঠেছে-ঘন সবুজ, ফিকে সবুজ, বেগনির সঙ্গে মেশামেশি সবুজ, হলুদের আমেজ-দেওয়া সবুজ। বনের শেষ সীমায় বহু দূরে গ্রামের কুটিরশ্রেণি।

বেলা প্রায় দশটা, আকাশে স্তরে স্তরে মেঘ করেছে, অবৃষ্টিসংরম্ভ সমারোহ, বাতাসে ঋজুকায়া পপলার গাছের শিখরগুলি দোদুল্যমান।’ 

বঙ্গে কোনো পপলার গাছ নেই। কবির এই বাড়তি অনুসন্ধান এবং পরিবেশন প্রশংসার দাবি রাখে। 

প্রাচ্য ভ্রমণ
রবীন্দ্রনাথ ছিন্নপত্রাবলীর বিভিন্ন অংশে গাছগাছালির অনুপম বর্ণনা দিয়েছেন। যার পটভূমির সিংহভাগ জুড়েই আছে পূর্ববঙ্গ। এখানকার অনবদ্য প্রাকৃতিক বর্ণনার পাশাপাশি তিনি নানাভাবে সবুজ বন্ধুদের কথাও বলেছেন। 

‘... গুটিকতক খোড়ো ঘর, কতকগুলি চাল-শূন্য মাটির দেয়াল, দুটো একটা খড়ের স্তূপ, কুলগাছ, আমগাছ, বটগাছ এবং বাঁশের ঝাড়, গোটা তিনেক ছাগল চরছে...’ [পতিসর কাচারী বাড়ি, ভায়া আত্রাই-১৯.০১.১৮৯১]

‘...দুই তীরে বড়ো বড়ো নারকোল গাছ, আম গাছ এবং নানাজাতীয় ছায়াতরু, ঢালু পরিষ্কার তট সুন্দর সবুজ ঘাস এবং অসংখ্য নীল পুষ্পিত লজ্জাবতীলতায় আচ্ছন্ন; কোথাও বা কেয়াবন...মাঝে মাঝে খেজুর এবং নারকোল গাছের ম-লীর মধ্যে ছোটো ছোটো গ্রাম...মৃদু মৃদু স্রোত; যেখানে খুব সংকীর্ণ হয়ে এসেছে সেখানে জলের কিনারার কাছে কাছে কুমুদবন এবং বড়ো বড়ো ঘাস দেখা দিয়েছে...’
[তিরন, ০৭.০৯.১৮৯১]

‘তার পরে বিকেলে পদ্মার ধারে আমাদের নারকোল বনের মধ্যে সূর্যাস্ত হলো। আমি নদীর ধারে উঠে আস্তে আস্তে বেড়াচ্ছিলুম। আমার সামনের দিকে দূরে আমবাগানে সন্ধের ছায়া পড়ে আসছে এবং আমার ফেরবার মুখে নারকোল গাছগুলির পিছনে আকাশ সোনায় সোনালি হয়ে উঠেছে।’
 [শিলাইদহ, ০১.১০.১৮৯১]

‘...বড়ো বড়ো গাছে ছায়াময়। অধিকাংশ আম গাছ। এই সময়ে সমস্ত আম গাছে মুকুল ধরেছে, গন্ধে পথ আকুল হয়ে আছে। ঘন দীর্ঘ তরুশ্রেণির মাঝখান দিয়ে গাঢ় গেরুয়া রঙের দিব্যি তক্তকে পরিষ্কার পথটি চলে গেছে...আম অশ্বত্থ বট নারিকেল এবং খেজুর গাছ ঘেরা এক-একটি গ্রাম দেখা যাচ্ছে।’
 [পুরী, ১৪.০২.১৮৯৩]


‘বড়ো বড়ো গাছ জলের মধ্যে তার সমস্ত গুঁড়িটি ডুবিয়ে দিয়ে শাখা প্রশাখা জলের উপর অবনত করে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে- আমগাছ বটগাছের অন্ধকার জঙ্গলের ভিতরে নৌকো বাঁধা এবং তারই মধ্যে প্রচ্ছন্ন হয়ে গ্রামের লোকেরা স্নান করছে।...নালবনের মধ্যে সাদা সাদা নাল ফুল ফুটে রয়েছে এবং কালোবর্ণ পানকৌড়ি জলের ভিতরে ডুব দিয়ে দিয়ে মাছ ধরছে।’ [দিঘাপতিয়া জলপথে, ২০.০৯.১৮৯৪]

‘...এই ছোটো খামখেয়ালি নদী, দুই ধারে সবুজ-ঢালু ঘাট, দীর্ঘ ঘন কাশবন, পাটের ক্ষেত, আর সারি সারি গ্রাম-...’ [পাবনা-পথে, ০৯.০৭.১৮৯৫]

‘... ঘাটের পাশেই একটা মস্ত জামরুল গাছ; চারিধারেই বড়ো বড়ো ফলের গাছ ঘন হইয়া দাঁড়াইয়া ছায়ার আড়ালে পুষ্করিণীটির আবরু রচনা করিয়া আছে।...সেই মধ্যাহ্নেই অনেকদিন জামরুল গাছের ছায়ায়, ঘাটে একলা বসিয়া পুকুরের গভীর তলাটার যক্ষ্মপুরীর ভয়ের রাজ্য কল্পনা করিয়াছি।...’
 [বাহিরে যাত্রা]

‘...প্রশস্ত বালুতটের প্রান্তে বড়ো বড়ো ঝাউগাছের অরণ্য; এই অরণ্যের এক সীমায় কালানদী নামে এক ক্ষুদ্র নদী তাহার দুই গিরিবন্ধুর উপকূলরেখার মাঝখান দিয়া সমুদ্রে আসিয়া মিশিয়াছে।...’ [কারোয়ার]

‘....বাগানটি নূতন, বোধহয় ইঁহারাই প্রস্তুত করিয়াছেন। ঘন সবুজ তৃণক্ষেত্রের ধারে ধারে বিচিত্র রঙের ফুল ফুটিয়া কাঙাল চক্ষুর কাছে অজস্র সৌন্দর্যের অবারিত অন্নসত্র খুলিয়া দিয়াছে। গ্রীষ্ম ঋতুতে ইংল্যন্ডে ফুলপল্লবের যেমন সরসতা ও প্রাচুর্য এমন তো আমি কোথাও দেখি নাই।... তাহারা প্রত্যেকেই নিজের কুটিরের চারিদিকে বহু যতেœ খানিকটা করিয়া ফুলের ও তরকারির বাগান করিয়াছে। ইহারা সমস্ত দিন মাঠের কাজে খাটিয়া সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরিয়া এই বাগানের কাজ করে।...’ [ইংল্যান্ডের পল্লী গ্রাম ও পাদ্রি]

প্রাচ্য ভ্রমণের পুরোটা জুড়েই আছে সমৃদ্ধ বৃক্ষরাজির বর্ণনা। বিশেষত এখানে পূর্ববঙ্গের বৃক্ষ-প্রাচুর্যের কথা উঠে এসেছে নানাভাবে, যা এখন প্রায় অনুপস্থিত। 

হিমালয়যাত্রা 
‘...এটা যেন একটা দূরবীনের উলটা দিকের দেশ। নদী-পাহাড়গুলোও যেমন ছোটো ছোটো, মাঝে মাঝে ইতস্তত বুনো-জাম বুনো খেজুরগুলোও তেমনি বেঁটেখাটো। আমার আবি®কৃত ছোটো নদীটির মাছগুলিও তেমনি, আর আবিষ্কারকর্তাটির তো কথাই নাই।...’

‘...বনস্পতিগুলা প্রকা- দৈত্যের মতো মস্ত মস্ত ছায়া লইয়া দাঁড়াইয়া আছে; তাহাদের কত শত বৎসরের বিপুল প্রাণ! কিন্তু এই সেদিনকার অতি ক্ষুদ্র একটি মানুষের শিশু কতটা অসংকোচে তাহাদের গা ঘেঁষিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছে, তাহারা একটি কথাও বলিতে পারে না! বনের ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করিবা মাত্রই যেন তাহার একটা বিশেষ স্পর্শ পাইতাম। যেন সরীসৃপের গাত্রের মতো একটি ঘন শীতলতা এবং বনতলের শুষ্ক পত্ররাশির উপরে ছায়া-আলোকের পর্যায় যেন প্রকা- একটা আদিম সরীসৃপের গাত্রের বিচিত্র রেখাবলী।...’ 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত