১৫ দশমিক ৯ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৮:১০ | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৭:০৯

নির্বাচনী বছরকে সামনে রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডি‌সেম্বর) ঘোষিত এ নীতিতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি  ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। যেটা জানুয়ারি-জুলাই মেয়াদে ছিল ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এসময় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান, আহমেদ জামাল, প্রধান অর্থনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদ সহ ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যাংকিং খাত থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের ১৪.৬ শতাংশের বিপরীতে ২০১৯ অর্থবছরে ১৫.৯ শতাংশ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ, সরকারি খাতে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।

তিনি বলেন, বিগত বছরে এক অংকে নেমে আসা ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ২০১৯ অর্থবছরে ১২.০ শতাংশে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তবে এই বৃদ্ধির অর্জন নির্ভর করবে প্রধানত বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি সহনীয় মাত্রায় বজায় রাখার উপর।

এক প্রশ্নের উত্তরে ফজলে কবির বলে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি যদিও গতবারের মুদ্রানীতির মত ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে, কিন্তু সরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের চাহিদা কম থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণের উচ্চতর প্রবৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন,  বিগত অর্থবছরের মূদ্রানীতির দুটি মূল অভীষ্টের একটি ছিল প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৭.৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমর্থন দেয়া, অন্যটি গড়বার্ষিক মূল্যষ্ফীতি জুন ২০১৮ নাগাদ ৫.৫ শতাশে পরিমিত রাখা। ২০১৮ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত ৭.৪ শতাংশ লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে প্রকৃত অর্জন বেশী অর্থাৎ ৭.৬৫ শতাংশ।তবে আগের মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, তা অর্জিত হয়নি, এ বছরের জুনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

গভর্নর বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণের ব্যবহার বিলাসী অপ্রযোজনীয় আমাদনি পণ্যের জন্য না হয়ে প্রকৃত উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থান সৃজনমুখী অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহার হবার বিষয়ে ব্যাংগুলোর নিজস্ব নজরদারীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ববোর্ডের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি নিবিড়তর করা প্রয়োজন হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে কবীর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ছয় স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। ৪২টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা মনিটরিং করা হয়। কাস্টমস যেভাবে জমা রেখেছিলো স্বর্ণ সেভাবেই আছে। এখানে কোন স্বর্ণ হেরফের হওয়ার সুযোগ নেই। 

ঋণপত্র খোলা হলেও দেশে পণ্য আসছে না, রপ্তানি হলেও দেশে টাকা আসছে না। অনেকে মনে করছে এতে করে বিদেশে টাকাপাচার হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকে টাকার সংকট তৈরি হয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাব দেন আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তিনি বলেন, চার হাজার কোটি টাকার ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এ বিষয় মনিটরিং করছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডেপুটি গভনর্র আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে  জানান,  হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিজার্ভের টাকা চুরি হওয়া সব টাকাই আইনিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত আনা সম্ভব হবে।

মুদ্রানীতি কি?

প্রতি বছর দুইবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একবার বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারিতে। আরেকবার  মুদ্রানীতি ঘোষণা হয় বছরের মাঝামাঝিতে অর্থাৎ জুলাইতে। মুদ্রানীতি দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।  তবে মুদ্রানীতির আরেকটা কাজ হলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে খোলাবাজার কার্যক্রম, সংবিধিবদ্ধ জমার অনুপাত পরিবর্তনসহ ব্যাংক হার পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

ঢাকাটাইমস/৩১জুলাই/জেআর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :