‘থ্রিলার নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে’

সায়রা সামসিয়া
| আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:১০ | প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৩০

এই সময়ের তরুণ নির্মাতা ময়ূখ বারী। ‘উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান’, ‘অভিশপ্ত ক্যামেরা’, ‘সিরিয়াল কিলার’ সহ বেশ কয়েকটি নাটকের এই নির্মাতা কম সময়েই আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা টাইমসের মুখোমুখি হয়েছেন। কথা বলেছেন টিভি নাটকের বর্তমান চালচিত্র নিয়ে। কথার ফাঁকে উঠে এসেছে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও। আলাপে ছিলেন- সায়রা সামসিয়া 

রম্য নাটকের ছড়াছড়ি। নাটক দেখলে জীবনটাকে অনেক আনন্দময় মনে হয়। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে তফাতও কম নয়। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

রম্য নাটক একটু বেশি তৈরি হয় হয়তো। তবে নাটক বর্তমানে সব রকমই হচ্ছে। রম্য আর রোমান্টিক নাটকের চাহিদা বেশি। এই চাহিদাটা দর্শকদের কারণেই তৈরি হয়েছে। শুধু আমাদের দেশে না, প্রতিবেশি দেশের দর্শকদের দিকে তাকালেও আপনি একই চিত্র পাবেন। কারণ মানুষ জীবন অনেক দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে যায়। জীবন থেকে একটা সময় হাসির আয়োজন কমে আসে। তখন রম্যনাটক বা এই জাতীয় আয়োজন মানুষকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও মানসিক স্বস্তি দেয়। তবে আমরা অনেকেই প্রকৃত রম্য বা কমেডি বলতে যা বোঝায় তা দর্শকদের দিতে পারি না।

এ ক্ষেত্রে পরিচালকদের কোনো সীমাবদ্ধতা কি রয়েছে?

সীমাবদ্ধতার দিক থেকে নয়, আমার দৃষ্টিতে পরিচালকদের মধ্যেও পার্থক্য আছে। সবাই তো এক নয়। কেউ হয়তো দর্শকদের চাওয়াকে প্রাধান্য দেন। আবার কেউ নতুন কিছু করে নতুন দর্শক তৈরি করতে চান। রুচির পরিবর্তন করতে চান। তবে নতুন দর্শক তৈরির চেয়ে দর্শকদের চাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া পরিচালকদের সংখ্যাই বেশি বলে মনে হয়। এটা তাদের এক রকম বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে চলে যায়। কারণ একজন নির্মাতার কোনো কাজে হাত দেওয়ার আগে তার মাথায় দর্শকদের বিষয়টি ভালোভাবেই থাকে। তাই তিনি কাজের ক্ষেত্রেও এই চাওয়াকেই গুরুত্ব দেন। নাটক না চললে স্পন্সর, প্রযোজক, পরিবেশক পাওয়া যায় না। এটাও ঠিক। এটাকে আমি সীমাবদ্ধতা বা অপারগতা কিছুই বলব না। 

অনেকে অভিযোগ করেন নাটকের গল্পে বৈচিত্র নেই। অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতারও ঘাটতি থাকে। স্ক্রিপ্টের বিষয়েও অনুযোগ রয়েছে। কারণ কী?

ভালো গল্প আর স্ক্রিপ্টের কিছুটা সংকট আছে এটা ঠিক। তার মানে এই নয় যে, দেশে ভালো নাট্যকার বা গল্পকার নেই। ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটারও কিন্তু আমাদের আছে। কিন্তু এই মেধাগুলো ধরে রাখতে যে ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, তা নেই।

কী ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার কথা বলছেন?

এই কাজগুলো যারা করেন, তাদের পারিশ্রমিকের বিষয়টি বলতে চাচ্ছি। দেশে এখনো সৃজনশীল কাজের যথপোযুক্ত মূল্যায়ন হয় না। বর্তমানে ৯০ ভাগ টিভি নাটকের স্ক্রিপ্টের জন্য বাজেট থাকে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই টাকায় কে আপনাকে তার মূল্যবান দীর্ঘ সময় নষ্ট করে ভালো গল্প বা স্ক্রিপ্ট লিখে দেবে? আবার যারা লিখছেন তাদের লেখার মান অনুযায়ী এই বাজেটতো ঠিকই আছে। বাংলাদেশের ভালো লেখকরা নাটক লিখতে উৎসাহ বোধ করেন না। এ কারণেই ভালো স্ক্রিপ্টের সংকট তৈরি হয়েছে বলে আমার মনে হয়।

দেশের টিভি চ্যানেল দর্শক খড়ায় ভুগছে বলে প্রায়ই শোনা যায়। বিকল্প হিসেবে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় হচ্ছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

টিভি দর্শক খড়ার বিষয়টি সত্যি হতে পারে। তবে এটা ঠিক যে বর্তমান তরুণদের একটি বড় অংশ ওয়েব প্ল্যাটফর্মের দর্শক। তারা সেদিকে ঝুঁকছে। টিভিতে না দেখে নাটক দেখছে ইউটিউবে। এর একটা বড় কারণ বিজ্ঞাপন বিরতি। হাতে গোনা দুই-একটা চ্যানেল ছাড়া দেশের কোন চ্যানেল কখন কী দেখায়, বোঝা বড় দায়। এ সব কারণে দর্শক টিভিতে দেশি প্রোডাক্শন না দেখে অনলাইনে দেখছে। সময়টাও একটা বিষয়। অনলাইনে তো আপনি যখন খুশি দেখতে পারেন। এ জন্য টিভি সেটও প্রয়োজন নেই। হাতের মুঠোফোনটাই যথেষ্ট। আমার জানা মতে, বর্তমান সময়ে ইউটিউবে কোনো একটি নাটকের সর্বোচ্চ ভিউ দুই কোটির কাছাকাটি। ১০ লাখ ভিউ এখন সাধারণ বিষয়।

ছোট পর্দার নির্মাতা হিসেবে বিষয়টিকে কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করেন?

নির্মাতা হিসেবে আসলে মাধ্যমটা আমার কাছে প্রাধান্য পায়নি কখনো। আমার তৈরি জিনিস আমি দর্শকদের কাছে কতটুকু সফলভাবে পৌঁছাতে পারছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার নির্মাণগুলো সঠিকভাবে দর্শককে দেখাতে চাই সেটা টিভি হোক, সিনেমা হল হোক, অনলাইনে হোক- আমার কাছে একই কথা। বিশেষ করে টিভি আর অনলাইন তো কাছাকাছি মাধ্যম। সিনেমা হলের বিষয়টা আলাদা।

ওয়েব প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা কিছু করার পরিকল্পনা কি আছে?

যুগের সঙ্গে সঙ্গে মাধ্যমেও পরিবর্তন আসে, এটা স্বাভাবিক। স্যাটেলাইট টিভিতে না পারলে অনলাইন টিভির জন্য কাজ করব। দর্শক যদি টিভি না দেখে, চ্যানেলগুলো যদি বাজেট দিতে না পারে, তাহলে এর পর যে মাধ্যম বাজেট দিতে সক্ষম সে মাধ্যমে কাজ হবে। সেটা সময়ই বলে দেবে।

আপনার সম-সাময়িক নির্মাতাদের কথা শুনতে চাই।

নির্মাতাদের মূল্যায়ন করার দায়িত্ব দর্শকের। দর্শকরা সেটা করেন। এখন দর্শক অনেক সচেতন। ভালো নির্মাতাদের কদর দর্শকদের কাছে সবসময় ছিল। আছে। থাকবে। তবে যারা সফল হতে পারেননি বলে মনে করছেন, তাদের থেমে গেলে হবে না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমরা মনে হয়, বর্তমানে দেশে ভালো-মন্দ দুই ধরনের নির্মাতাই আছেন। তবে পেশাদারিত্বের জায়গায় ঘাটতি আছে। কাজের পরিবেশেরও সীমাবদ্ধতা আছে।

আপনার নির্মাণ তুলনামূলক কম। এর কারণ কী?

আমি যেমন কাজ করতে চাচ্ছি বা যেমন বাজেটে করতে চাচ্ছি, তেমন কাজ বা বাজেট পাচ্ছি না। তাই কাজ কম হচ্ছে। তাছাড়া কাহিনিচিত্র নির্মাণ করাটাকে পুরোপুরি পেশা হিসেবে নিতে পারিনি এখনো। শুধু মাত্র নাটক বানিয়ে তরুণ নির্মাতাদের জীবিকা নির্বাহ করাটা বাংলাদেশে খুব কঠিন। যেদিন পারব সেদিন নিয়মিত কাজ করব।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বলতেন।

সব ধরনের কাজই করতে চাই। তবে থ্রিলারের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। এ নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছি। আরও কাজ করতে চাই। তবে থ্রিলার নিয়ে কাজ করাটাও বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। এই মুহূর্তে ভালো বাজেট পাচ্ছি না। তাই কিছু রোমান্টিক ধাচের নাটক বানানোর পরিকল্পনা আছে। স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে। চারপাশে অনেক বিষয় চোখে পড়ে। যেগুলো নিয়ে কাজ করা হয়নি। এ সব নিয়ে কিছু করার চিন্তাও আছে।  

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :