হাতিয়া পিআইওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৫

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাহিদ হাসান খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের চারটি প্রকল্প দেখিয়ে ১০০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ ও বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন নিজ দপ্তরের একজন কর্মচারীকে দিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ঘর নির্মাণের অভিযোগ।

তবে পিআইও জাহিদ হাসান খানের দাবি, তার অফিসের একজন কর্মকর্তা (অজ্ঞাত) বদলি হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্যের বিশেষ বরাদ্দ থেকে হাতিয়া উপজেলার বয়ারচর এলাকার ভট্ট রোড নির্মাণ, মাইন উদ্দিন বাজার স্কুল থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, জোড়খালী বাহার থেকে মধুর দোকান পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও কামাল উদ্দিন জামে মসজিদের মাঠ ভরাট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রকল্পগুলোর কোনোটিতেই কাজ করা হয়নি। তিনটি সড়কে ২৫ টন করে ৭৫ টন চালের কাজ দেখানো হয়েছে। সরকারি হিসাবে এই চালের দাম ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

মাইন উদ্দিন বাজার স্কুল থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী। একাধিক শিশু শিক্ষার্থী জানায়, বর্ষায় রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি ও কাদামাটি থাকে। তারা অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু রাস্তায় কোনো কাজ করা হয় না। রাস্তাটা সংস্কার হলে তাদের স্কুলে যাতায়াতের কষ্ট দূর হবে।

কামাল উদ্দিন জামে মসজিদের মাঠ ভরাটের জন্য ২৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মোশফেকুর রহিমের বাবার নামে স্থাপিত মসজিদের মাঠে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ত্রাণের টিন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার অফিসের নান্টু লাল দাস নামের একজন কর্মচারীকে দিয়েছেন।

স্থানীয় হরনী ইউনিয়নের (বয়ারচর) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দ অনিল চন্দ্র দাস জানান, মন্দিরের সড়কটি অনেক পুরনো। হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসূচির আওতায় নির্মিত এই সড়কে গত ৭ বছরে কোনো মাটি পড়েনি। কিন্তু কীভাবে এখানে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে সেই প্রশ্ন তার।

বর্ষাকালে চলাচলে অনেক কষ্ট হয় জানিয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সড়কের কোথাও এক ইঞ্চি মাটি পড়েনি। কেউ জানেও না এই সড়কের জন্য বরাদ্দ হয়েছে।’

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অভিযোগটি আমি শুনেছি। তবে এটা গত অর্থবছরের কাজ হওয়ায় আমি সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছি না। এই প্রকল্পগুলোর উল্লেখিত কাজগুলো  একেবারে হয়নি তা ঠিক নয়। কাজগুলো আমি পরিদর্শন করে বিস্তারিত বলতে পারব।’

(ঢাকাটাইমস/২২ফেব্রুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :