উর্দুভাষীদের ‘দখলদারিত্বে’ অতিষ্ঠ মোহাম্মদপুরবাসী

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১৪:৪৫ | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৯, ০৮:৪১

রাজধানীর বেশ কিছু স্থানে রয়েছে আটকেপড়া পাকিস্তানি তথা উর্দুভাষীদের বসবাস। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পটি উর্দুভাষীদের অন্যতম ঘাঁটি। এই ক্যাম্পে বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। বিশাল এই জনগোষ্ঠী গাদাগাদি করে ক্যাম্পের ভেতরে থাকলেও তাদের বিচরণ অনেক বেশি এলাকাজুড়ে। ক্যাম্পের চারপাশে যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই তারা বসিয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দখলে নিয়েছে সড়কের অংশবিশেষ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা।  

জেনেভা ক্যাম্পের পাশের একটি সড়ক গজনবী রোড। সড়কের দুই পাশেই গাড়ি, মোটর সাইকেল, সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে দখলে রেখেছে উর্দুভাষীরা। ফলে সড়কের মূল আয়তনের অনেকটাই কমে গেছে। গাড়ির চাপ কিছুটা বাড়লেই ভোগান্তিতে পড়তে হয় এ সড়কে চলাচলকারীদের।

অথচ এই সড়ক দিয়েই মোহাম্মদপুরবাসীকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেতে হয়। এতে হাসপাতালগামী রোগীদের পোহাতে হয় দীর্ঘ ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দা রাহাত আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রাস্তাটা আর রাস্তা নাই। বিহারিরা নিজেদের ইচ্ছামতো দখল করে রাখছে। দুই পাশে দখল করলে মানুষ চলে কীভাবে?’

একই সড়কে ভোগান্তি চরমে পৌঁছায় সকালে। কারণ এই সড়কেই রয়েছে আল হেরা কলেজ ও মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি শুরু ও ছুটির সময় সড়কে গাড়ির চাপ বাড়ে। আর তখনই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সকালে আসার টাইমে ঝামেলা একটু কম হলেও বিকালে খুব বিপদে পড়তে হয়। রিকশা, গাড়ি কিছুই চলতে পারে না। রাস্তার অর্ধেকের বেশি তো দখল করা।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ঢাকাটাইমসকে বলেন, সড়ক দখলমুক্ত করতে তিনি একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন। এবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদাবি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি। বলেন, ‘এই রাস্তাটা এমন ছিল না। আমরা এটাকে সোজা করেছি। নতুন রাস্তা করে দিয়েছি। দখলমুক্তও করেছিলাম। কিন্তু আবার তারা বসে। আমরা বারবার উচ্ছেদ করেও তাদের সরাতে পারছি না।’

তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের তো এত ম্যাজিস্ট্রেট নেই যে প্রতিদিন, দুদিন পর উচ্ছেদ করবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা তো রাস্তা, ব্যবসার জায়গা না। সিএনজি রাখার গ্যারেজ না। এই রাস্তায় স্কুল আছে, হাসপাতাল আছে। মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। সমস্যাটা সমাধান করতে প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

এরমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। সাধারণ ডায়েরির একটি কপি দুই একদিনের মধ্যে ডিসি ট্রাফিকেও পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রায় একই ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে মোহাম্মদপুর আসাদ এভিনিউতে। এভিনিউয়ের টাউনহল বাজারের বিপরীতে রয়েছে উর্দুভাষীদের আরও একটি ক্যাম্প। এখানে বসবাসকারীর সংখ্যাও কয়েক লাখ।

ক্যাম্পের সামনের ফুটপাতের জায়গা দখল করে কাজ চলছে মোটর সাইকেল মেরামতের। ফলে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে ফুটপাতের সাধারণ মানুষের চলাচল।

এখানেও রয়েছে দুটি স্কুল। স্কুল শুরু ও ছুটির সময় বেশ বিপাকে পড়তে হয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের। কারণ চলাচলের ফুটপাত থাকে উর্দুভাষী ব্যবসায়ীদের দখলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রোমানা আক্তারের অভিযোগ, ক্যাম্পের সামনের ফুটপাতে উর্দুভাষীরা মোটরসাইকেল মেরামত ও সার্ভিসিংয়ের কাজ করেন। এসময় ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে গেলে যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় নারীদের।

তিনি বলেন, ‘ফুটপাত তো হাঁটার জায়গা। এত টাকা খরচ করে সিটি করপোরেশন ফুটপাতটা করেছে আমাদের চলাচলের জন্য নাকি তাদের মোটরসাইকেল রাখার জন্য? আর এখান দিয়ে চলতে গেলে প্রায়ই বাজে ছেলেরা বিরক্ত করে।’

সমস্যা সমাধানে এরমধ্যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিফুল ইসলাম সেন্টু। তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে স্কুলের সাথের দেয়াল ঘেঁষে তারা ব্যবসা করত। আমার সন্তানরাও ওখানেই পড়াশোনা করে। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা মোটরসাইকেলগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তারপরে যদি আবারো এমন হয় আমি আবার ব্যবস্থা নেব।’

(ঢাকাটাইমস/২১জুন/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :