‘শক্তি’ বাড়ছে ডিএমপির

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫২ | প্রকাশিত : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০৯:৫০
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার

ঢাকা মহানগর পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক ৩৫টি গাড়ি। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি আরমারড ক্যারিয়ার এ ছাড়া ২০টি এসকর্ট ভেহিকেল এবং পাঁচটি ফ্লাড লাইট ভেহিকেল।

এসব গাড়ি বিশেষ করে রাতের অভিযানের জন্য বেশ উপযোগী বলে জানাচ্ছে পুলিশ। তারা বলছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও রাতে অভিযান পরিচালনা করতে অসুবিধা হতো তাদের। এ জন্য অপেক্ষা করতে হতো দিনের আলো ফোটা পর্যন্ত। এ সমস্যা সমাধানের জন্যই ‘ফ্লাড লাইট ভেহিকেল’ কেনা হচ্ছে। এতে করে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশা করছে।

‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ নামে প্রকল্পের অধীনে গাড়িগুলো কেনা হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ হবে ৪০ কোটি আট লাখ এবং জাপান সরকার অনুদান দেবে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২১ সালে জুন মাসের মধ্যে গাড়িগুলো কেনা হবে।

ডিএমপির উপকমিশনার (অর্থ) শ্যমল কুমার মুখার্জি বলেন, ‘এই প্রকল্প পাস হয়ে প্রথমে জনপ্রশাসনে যাবে। তারপর পুলিশ সদরদপ্তরে যাবে এরপর ডিএমপিতে আসবে। তবে এই সরঞ্জাম কেনা হলে পুলিশের কাজে গতি বাড়বে।’

প্রকল্পের পটভূমি ও যৌক্তিকতায় বলা হয়েছে, সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। সীমিত জনবল এবং যন্ত্রপাতি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিগত কয়েক বছরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি অপারেশনের সফলাতা অর্জন করেছে যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রসংশিত হয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসের ধরণ পরিবর্তন হয়েছে, যা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বিপজ্জনক।

প্রয়োজনীয় যানবাহন ও লজিস্টিকস এর অভাবে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আরমারড ক্যারিয়ারের মতো সুজজ্জিত যানবাহনের অভাবে অনেক সময় অভিযান পরিচলনা করা সম্ভব হয় না।

আবার সন্ত্রাসী দলগুলো রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ হয়। কিন্তু ডিএমপির ফ্লাড লাইট ভেহিকেলস এর মতো বিশেষ ধরনের যানবাহন না থাকায় দিনের আলো ফোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রম পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত সময় পায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘পুলিশকে যত সুরক্ষিত যানবাহন দেওয়া হবে, তত পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। আধুনিক প্রযুক্তিসংযুক্ত এ গাড়িগুলো আসলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করতে পারবে ডিএমপি। অনেক সময় রাতে অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হতো। ‘ফ্লাড লাইট ভেহিকেল’ সংযুক্ত হলে সে সমস্যা দূর হবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৭জুলাই/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :