ডাবের খোসার বিপদে মহানগর প্রকল্প

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৮:২৬ | প্রকাশিত : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৮:২৫

ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তারের মধ্যে অজান্তেই এর বাহক এডিস মশার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে যাচ্ছে এই নগরের বহু মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন, কিন্তু ‘গরমের আরাম’ ডাবের খোসা যে বিপদের কারণ হতে পারে, সেটি নিয়ে যেন ভ্রুক্ষেপই নেই।

রাজধানীর রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকায় লোকালয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় শত শত ডাবের খোসা। আর বৃষ্টি হলেই এই খোসায় পানি জমে থাকে। কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে।

তবে একজন গণমাধ্যমকর্মী সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এই চিত্র তুলে ধরার পর রামপুরা মহানগর আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছে।

বুধবার বেলা ১১টার সময় রাজধানীর রামপুরা মহানগর আবাসিক এলাকার ইয়েস কফি শপে উল্টো দিকের গেটের মধ্যে দেখা যায়, সেখানে ময়লার স্তূপ। তাতে রয়েছে শত শত ডাবের খোসা। ওই খোসার মধ্যে পানি জমে রয়েছে। আরও অনেক ময়লা-আবর্জনা রয়েছে। তা পরিষ্কার করছেন রামপুরা মহানগর আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির ভাড়া করা তিনজন শ্রমিক।

পুরো কাজের তদারকি করছিলেন সমিতির পিয়ন শহিদুল ইসলাম। জানান, তিনজন শ্রমিক দিনে সাতশ টাকার চুক্তিতে ওই ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছে।

শহিদুল বলেন, ‘এই ময়লা, ডাবের খোসা আমরা পুড়িয়ে ফেলব। আর যে ভাঙা বোতল প্লাস্টিক রয়েছে তা আমরা কেজি দরে বিক্রি করে দেব।’

এখানে কারা ডাবের খোসা ফেলে- এমন প্রশ্নে শহিদুল বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কারা যেন ডাবের খোসা এখানে ফেলে যায়। আমরা তাদের দেখতে পারিনি। তবে আমাদের সমিতির সভাপতি রামপুরা মহানগর এলাকায় ডাব বিক্রি নিষিদ্ধ করেছেন। আর ময়লা পরিষ্কারের কাজও আমরা শুরু করেছি। আশপাশে বস্তির লোকজন থাকে। তারা অতটা স্বাস্থ্য সচেতন নয়।’

ওই ময়লার স্তূপের পাশে মুন্সিবাড়ি বস্তি। এই বস্তিতে প্রায় ১১ বছর ধরে বসবাস করছেন রাজমিস্ত্রী বাচ্চু মিয়া। তিনি ও তার মা মিলে ডাবের খোসা সংগ্রহ করছিলেন। জানান, তারা শুকিয়ে রান্না করার কাজে ব্যবহার করবেন।

বাচ্চু মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমাই, আর আমাদের এখানে কাঠের চুলায় রান্না করা হয়। ধোঁয়ার কারণে অতটা মশার উৎপাত দেখা যায় না। আর কারা রাতের বেলায় ডাবের খোসা ফেলে যায় সেটা তো আমরা বলতে পারব না। তবে এই খোসা আমরা কুড়িয়ে নিয়ে রান্না কাজে ব্যবহার করি।’

রামপুরা মহানগর আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি আয়ূব আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এখানে কিছু ভ্রাম্যমাণ ডাবের দোকানদার ময়লা ফেলে যায়। এই কারণে আমরা এই এলাকায় ডাবের দোকানই নিষিদ্ধ করেছি।’

‘আমাদের এখানে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। তারাও সব সময় সতর্ক থাকে। তারপরেও কারা যেন ময়লা ফেলে যায়। তবে এখন থেকে নিয়মিত একজন নিরাপত্তাকর্মী সব সময় সেখানে দেওয়ার চেষ্টা করব যাবে এমনভাবে কেউ আর ময়লা ফেলে যেতে না পারে।’

‘আর ঢাকা সিটি করপোরেশনের কথা কী বলব। তাদের কোনো কাজের রুটিন নেই। ওষুধ দিতে আসে না। ময়লা-পরিষ্কার করারও কোনো লোকজন আসে না। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিয়াকত আলী আছেন। তাকে বলা হলে বলেন, তিনি একা মানুষ, কত দিকে সামাল দেবেন। আপনারা নিজ উদ্যোগে কিছু করেন।’

ঢাকাটাইমস/২২আগস্ট/এএ/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :