অশালীন ছবি ভাইরালের হুমকি পেয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

সৈয়দ মাহফুজ রহমান, পিরোজপুর
 | প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৫৭
ফাইল ছবি

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ইন্টারনেটে বানোয়াট ছবি ভাইরালের হুমকি পেয়ে দশম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরীর আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে।

১৫ বছর বয়সী রুকাইয়া আক্তার রুপা নিজ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের হোটেল ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা আহবায়ক রুহুল আমিন মুন্সির মেয়ে। তিনি ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পড়তেন।

শুক্রবার রাতে নিজ ভাণ্ডারিয়া গ্রামের টিঅ্যান্ডটি সড়কের নিজ বাসা প্রাণ বিসর্জন দেন রুপা। এ ঘটনায় তামিম খান নামে একজনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ফটোশপ করে অশালীন ছবি তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পেয়ে অতিরিক্ত ওষুধপানে আত্মহত্যা করেছে রুপা।

রুপার সহপাঠীরা বলছে, শুক্রবার বিকালে প্রাইভেট পড়ে সহপাঠীদের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন এই কিশোরী। স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে তাদের পথরোধ করে তাকে প্রেম নিবেদন করেন তামিম। সঙ্গে ছিলেন দুই সহযোগী।

তামিম সদর উপজেলারই বাসিন্দা। তিনি আমানউল্লাহ মহা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র বলে তথ্য মিলেছে।

প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তামিম তার মোবাইল ফোন বের করে একটি বাজে ছবি দেখিয়ে হুমকি দেয়, এই ছবির সঙ্গে রুপার ছবি জুড়ে দিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রুপা তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে বাসায় অতিরিক্ত ওষুধ পান করলে তার মৃত্যু হয়।

রুপার বাবা রুহুল আমিন মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, তামিম গত দুই বছর ধরে তার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এ নিয়ে থানায় মামলাও করতে যান তিনি। তবে দুই পক্ষই প্রতিবেশী হওয়ায় মীমাংসার দিকে যায় পুলিশ। আর তামিম অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তবে তিন থেকে চার দিন ধরে আবার উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন।

শুক্রবার রুপা বাসায় ফিরে ঘটনা পরিবারকে জানান। বাবা বাসায় ফিরে তার স্ত্রী শান্তা বেগমকে বলেন মেয়েক ডেকে আনতে। শান্তা দেখতে পান তার মেয়ের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে রুপাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

স্বজনরা ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা রুপাকে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটির মৃত্যু হয়। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার দুপুরে রুপার স্কুলের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি তামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব কুমার হালদার বলেন, ‘রুপা অত্যন্ত ভদ্র, বিণয়ী, শান্ত প্রকৃতির মেয়ে। সম্প্রতি ওই স্কুলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল সে। এমন একটি প্রাণ এভাবে চলে যাবে সেটা মেনে নেয়া যায় না।’

ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাকসুদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তাদেরকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

ঢাকাটাইমস/৩১আগস্ট/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :