ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

মেয়াদ গেছে তিন মাস কমিটির খবর নেই

মনিরুল ইসলাম
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১৫ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৪৮

তিন মাস আগে শেষ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তারা দিতে পারেনি হল কমিটি। কবে নাগাদ হল কমিটি হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত বলতে পারছেন না ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, হলে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নেতাদের দিনের অধিকাংশ সময়ই প্রটোকল দিতে হয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাশকে। দিনের এত সময় প্রটোকল দেওয়ার পরও কমিটি না দেওয়ায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে পদপ্রত্যাশী নেতাদের মাঝে। তবে সনজিতের অনুসারীদের তুলনায় কম সময়ই দিতে হয়ে সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারীদের।

কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এতে সনজিত চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও সাদ্দাম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সেই কমিটিরই মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে, গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কমিটি দিতে পারেননি বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদক। কবে নাগাদ হল কমিটি দেয়া হবে তা নিয়েও স্পষ্ট করে বলতেও পারেননি তারা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা পায়। আর জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। জেলা শাখাকে উপরিউক্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে।’

‘তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিবে।’

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও কমিটি না দেওয়ায় হলের নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ হলেও সনজিতের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন হলের পদপ্রত্যাশী শীর্ষ নেতারা। তবে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সনজিতের ওপর আস্থা রাখছেন না নেতাকর্মীরা।

এদিকে হল কমিটির অনেক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা করে নেওয়ায় প্রতিটি হলেই তৈরি হয়েছে উপদল। অভিযোগ আছে, ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো কথাও মানতে চাইছেন না।

এদিকে সম্প্রতি এক সাংবাদিকের ওপর হামলা করে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সনিজতের অনুসারীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ভুক্তভোগী সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দিতে কর্মীদের নির্দেশ দিলেও তাদের নির্দেশকে পাত্তায় দেয়নি কর্মীরা। এতে আরও স্পষ্টতা পেয়েছে নির্দেশ না মানার অভিযোগটি।

এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি সনজিত ও সাদ্দাম।

ঢাবি ছাত্রলীগের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমনিতেই নেতাকর্মীরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ তার ওপর এই  ঘটনায় জড়িত কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে নেতাকর্মীরা আরও ক্ষেপে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় তারা কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

কমিটি কবে হবে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা হল কমিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। হলের সাধারণ ছাত্রদের মাঝে কারা বেশি গ্রহণযোগ্য, দলের মধ্যে কার আত্মনিবেদন সবচেয়ে বেশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে কারা সক্ষম- এগুলো যাচাই বাছাই করার কাজ চলছে। তারপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্মেলন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা হলে নেতৃত্ব দেব।’

সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাশের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/এমআই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :