অন্যায়ের প্রতিবাদে অশালীন ভাষা ব্যবহারও অপরাধ

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩১

বাড়ির ছাদে গাছ কাটা নিয়ে এক নারী ও তার পরিবারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ অশোভন প্রতিক্রিয়া আসছে তাও অপরাধ। কারও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে আরেকটি অপরাধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

সাভারের গাছ কাটার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীকে লক্ষ্য করে যেভাবে আক্রমণমূলক মন্তব্য আসছে সে বিষয়ে আলোকপাত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান একথা বলেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে তার অধিকাংশই শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন। এর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালা না থাকা এবং ব্যবহারকারীদের অজ্ঞতা ও সচেতনতা না থাকাকেই দায়ী করছেন এ সমাজ বিশ্লেষক।

সাভারের সিআরপি রোডের একটি বাড়ির ছাদে নির্বিচারে গাছ কেটে নেয়ার একটি ভিডিও গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই নারীকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য আসতে থাকে নেটিজেনদের। খালেদা আক্তার লাকী নামের ওই নারীকে বুধবার আটক করে পুলিশ। রাগের বশে সংঘটিত ওই ঘটনার জন্য ওই নারী ও তার পরিবার ক্ষমা চেয়ে অনুতাপও স্বীকার করেছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ভিডিওটি শেয়ার করছেন অনেকেই। আর তাতেই মন্তব্য আসছে বিভিন্ন জনের। এসব মন্তব্যের অধিকাংশই কুরুচিপূর্ণ আর আপত্তিজনক ভাষা ভ্যবহার করে লেখা। কেউ কেউ ওই নারীকে নিয়ে এমন মন্তব্যও করেছেন যা ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘণেরও বেশি। ওই নারীর ছেলের ফেসবুক প্রফাইলে তার মায়ের বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে শত শত অপমানজনক মন্তব্যও করেছেন, যা প্রকাশেরও অযোগ্য।

এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে কাউকে আক্রমণ করাকে অপরাধ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ক্রাইম করলে তার পানিসমেন্টের জন্য আইন আছে। আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। কিন্তু দেখা যায়, যে অপরাধ করছে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়। এটা হিউম্যান লিগ্যালিটির পরিপন্থি। শাস্তি দেয়ার অধিকার রাষ্ট্রের। আমরা বড়জোর নিন্দা জানাতে পারি। কিন্তু ব্যক্তির মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ তো আমরা করতেই পারি না।’

তিনি বলেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলেই অনেকেই সেটা নিয়ে অনেকে হুজুগে পড়ে মন্তব্য করেন। মন্তব্য কিন্তু তার ব্যক্তিত্যের বহিঃপ্রকাশ। অনেক সময় আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আনফ্রেন্ডলি ব্যবহার করি, অসহনশীল হয়ে যাই, মানবিকতা মূল্যবোধ থাকে না। আর কারও ছবি বিকৃত করলে সেটাও কিন্তু আর একটি অপরাধ। এ ব্যাপারে সবাইকে সহনশীল আচরণ করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে তার আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারপরও ব্যক্তি আক্রমণ করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে ছবি বিকৃত করা হচ্ছে এটা উচিত নয়।’

‘আসলে আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার জন্য যে ধরনের সামাজিক শিষ্টাচার থাকার কথা সেটাই অনেকের নেই। আবেগের বশবর্তি হয়ে আমরা এটা করছি। হয়তো পুরো ঘটনা না জেনেই একজনের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। তিনি যে গাছ কেটেছেন তারচেয়েও এটা বড় অপরাধ। তাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করা হচ্ছে এটাও অপরাধ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নীতিমালা তৈরি করার গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজ বিশ্লেষক তৌহিদুল বলেন, ‘শুধু এ ঘটনাই নয় কেউ কোনো অপরাধ করলো আর সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেই অনেকেই আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ছবি বিকৃত করে যা ইচ্ছে তা করেন। এ বিষয়টা সরকারের মনিটরিং করা প্রয়োজন।’

‘এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে শনাক্ত করার পর ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা থাকলে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানো যেত। একজনের একটির বেশি আইডি যেন না থাকে সেই ব্যবস্থা করা যেত। তাহলে সহজেই চিহ্নিত করা যেত কারা এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথা লিখছেন। এরপর শাস্তিস্বরূপ তাদের আইডি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেত।’

ঢাকাটাইমস/২৪অক্টোবর/জেআর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :