সংলাপে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান

কারসাজি রোধ হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়বে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৬

বাজারে সব ধরনের কারসাজি রোধ করা গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা নীতি’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি বিরাজমান। এই বাজারের বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে গিয়ে এর কিছু দাওয়াইয়ের কথাও বলেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান। বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সরকারের তেমন কিছু করার থাকে না। এখানে অসাধু ব্যবসায়ীসহ অনেকে মনোপলি করে। তাই মাঝেমধ্যে সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন আছে। তবে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা বাড়াতে হবে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। তবে এ জন্য লোকজল সংকটকে দায়ী করেন বলেন,  ‘আমাদের নিজস্ব জনবল বলতে মাত্র দুজন। তবে দুয়েক মাসের মধ্যে জনবল ৩০-৩৫ জন হয়ে যাবে।’

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান। এতে বাজারে সব পক্ষের মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রবৃদ্ধি গতিশীল, বাজার ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক উৎপাদন ক্ষমতা ও ভোক্তার কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশের বাজারে যারা ছোট খেলোয়াড়, তারাই বড় ভূমিকা রাখছে। যেমন- দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৮৩ ভাগই নিযুক্ত আছে ক্ষদ্র ও কুটির শিল্পে। এসব শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন কার্যকর প্রতিযোগিতা নীতি। প্রতিযোগিতা নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সব অংশীজনের চ্যালেঞ্জগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার জন্য একসঙ্গে এক ছাদের নিচে কাজ করতে হবে।

বাজারে সব ধরনের প্রতিযোগিতা বিরোধী তৎপরতা নিষিদ্ধ করে নজরদারি বাড়নোর পরামর্শ দিয়ে ড. আতিউর বলেন,  প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন হলেও এর নীতিকাঠামোর বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে  সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে জীবন যাপনের খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করছে উন্নয়ন  সমন্বয়।

মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা পুরো সমাজের কাজ। এখানে যত মানুষ অংশগ্রহণ করবে, তার সুফল তত মানুষ পাবে। সবাই অংশগ্রহণ করলে গণতন্ত্রায়ণও সম্ভব। সবাইকে সুযোগ করে দিতে হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গুণগত প্রতিযোগিতা দরকার।

ইস্ট-ওয়েস্ট ইইনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক একে এনামুল হক বলেন, শিল্পায়নের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কমিশনের কাজের সমন্বয় জরুরি। কারণ বাজারে পণ্য ও সরবরাহ বাড়লে ভোক্তা উপকৃত হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নতুন আইডিয়া নিয়ে আসা উদ্যোক্তারা অর্থায়নের সমস্যায় বাজারে আসতে পারে না। তাদের ব্যাংকও ঋণ দিতে চায় না। কোথাও গন্ডগোল আছে।

বিআইডিএসের সিনিয়র রেসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা না ভেঙেও জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে। যেমন-সরকার বাজেট ঘোষণার পরপরই ওই সব জিনিস বাজারে না এলেও দাম বেড়ে যায়। তাই যে কোনো জিনিসের দাম বাড়লেই প্রতিযোগিতা কমিশন কমাতে পারবে না। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকলল্পনা থাকতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে।

সংলাপে অংশ নিয়ে অন্য বক্তারা বলেন, নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় কিছু কিছু নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তা। অথচ দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দেশে আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই।

(ঢাকাটাইমস/৫ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :