ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক মেরামতের নামে লুটপাটের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:৪৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-তালশহর সড়ক মেরামতের কাজে নি¤œমানের ইট, বিটুমিন, বালি আর মাটি মিশ্রিত পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানরা।

গত বৃহস্পতিবার আশুগঞ্জ সদর ইপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন, তালশহর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু সামা ও আড়াইসিধা ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম ওই অভিযোগ দেন।

তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, এর আগে তারা সড়ক নির্মাণের কাজে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নি¤œমানের উপকরণ ও নির্মাণসামগ্রীর নমুনা দেয়া হয়। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।

জেলা সদরে যাতায়াতে বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিচিত এই সড়কের ৮ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজের জন্য গত বছরের ১৬ জুন দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। মেসার্স লোকমান হোসেন অ্যান্ড মোস্তফা কামাল (জেবি) এই কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত হয়।

জানা যায়, ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার এই কার্যাদেশে গত জুন মাসে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও প্রায় চার মাস পিছিয়ে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠে শুরু থেকেই। শিডিউলে যে মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কথা, তার চেয়ে অনেক নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মানুষজন।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতের স্পর্শে উঠে আসে সড়কের কার্পেটিং। নিম্নমানের ইটের খোয়া, বিটুমিন এবং মাটি মিশ্রিত পাথরসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তল্লা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘এই সড়ক আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কার হওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে আমরা হতাশ।’

সড়কের কাজ শিডিউল মতো হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন একই গ্রামের মো. দুলাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘উপরে কিছু পাথর দিয়ে মাটি আড়াল করে কাজ করা হচ্ছে।’

আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশীদ জানান, ‘এই রাস্তা দিয়ে তিন ইউনিয়নের মানুষ চলাফেরা করে। কাজ দেখে মনে হচ্ছে এর চেয়ে নিম্নমানের কাজ আর হতে পারে না।’

ঠিকদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফা সতর্ক করার পরও তারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আশুগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন। এরপর এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। সদর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা বন্ধ না হলে আমরা আন্দোলন করব।’

সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসেনের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন বলেন, যেটা মাটি বলা হচ্ছে সেটা পাথরের ডাস্ট। শিডিউল মোতাবেক কাজ হচ্ছে।

এলজিইডির আশুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মরিয়ম আখতার বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগটি আমরা খতিয়ে দেখছি। কিছু সামগ্রীতে সমস্যা থাকার কারণে আমরা ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি।’

এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের নমুনা পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/৯ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :