মিয়ানমার এখনই গণহত্যা বন্ধ করুক: গাম্বিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩১

মিয়ানমার যেন তার জনগৌষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ওপর এখনই গণহত্যা বন্ধ করে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা চেয়েছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

রাখাইনে গণহত্যার অভিযোগে দেশটির করা মামলায় মঙ্গলবার শুনানির প্রথম দিনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই নির্দেশনা চান গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

নেদারল্যান্ডের দ্য হেগের পিস প্যালেসে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুর আগে মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আদালতে উপস্থিত হন দেশটির বিতর্কিত নেত্রী অং সান সুচি। আদালতে প্রবেশের আগে সাংবাদিকরা মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

আইসিজে’তে শুনানির প্রথম দিন গাম্বিয়া নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেছে। বুধবার মিয়ানমার নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে। তারপর বৃহস্পতিবার উভয় দেশ পাল্টা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করবে। এরপর আলোচিত মামলাটিতে আইসিজে তাদের নির্দেশনা দেবে। যদিও আইসিজের বিধি অনুযায়ী এই মামলার রায় আসতে অন্তত ৮ সপ্তাহ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কয়েক বছরেও গড়াতে পারে।

প্রথমদিনের শুনানির শুরুতে আইসিজের প্রেসিডেন্ট আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ শুনানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আদালতকক্ষে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন। এর আগে গাম্বিয়ার প্রস্তাবিত নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের ক্লাউস ক্রেসকে এডহক বিচারপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরে তাদের শপথের মধ্য দিয়ে শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর আইসিজের রেজিস্ট্রার ফিলিপ গোটিয়ার অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গাম্বিয়া আবেদনে যা বলেছে, তা পড়ে শোনান।

তারপর কেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে গাম্বিয়া তার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু। তিনি বলেন, আমরা এত দূরে থেকেও কেন আইসিজেতে এসেছি? কারণ, বিশে^ যেকোনো স্থানে এমন গণহত্যা হলে দূরে থাকলেও এর বিচারের দায় আমরা এড়াতে পারি না।

গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু বলেন, ‘‘মিয়ানমার এখনও গণহত্যাপ্রবণ এবং এই বর্বরতা চালিয়ে যেতে চায়। রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনা হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। বরং একটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় রাখাইনে সুনির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মিয়ানমার রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা চালিয়েছে।’’

ইসলামি ঐক্য সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়ার করা এই মামলাটি নিজ দেশের পক্ষে আদালতে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী বিতর্কিত নেত্রী অং সান সুচি। সু চিকে সাহায্য করতে একদল ‘খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক’ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১০ডিসেম্বর/আরআর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :