ঋণ-আমানতের টানাটানিতেও ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় উলম্ফন

-
সবচেয়ে বেশি মুনাফা বেড়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের
-
মুনাফা কমেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের
ঋণ-আমানতের টানাটানির কারণে আশানুরূপ ঋণ বিতরণ করতে পারেনি অধিকাংশ ব্যাংক। শেয়ারবাজার থেকেও ভালো মুনাফা আসছে না। তবে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য থেকে ভালো কমিশন আয় হয়েছে ব্যাংকগুলোর। খেলাপি ঋণ বাড়লেও ঋণস্থিতির বড় অংশের বিপরীতে আয় অব্যাহত আছে। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের।
এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে আসা ২৪ ব্যাংকের তথ্য থেকে দেখা যায়, তাদের মোট পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৭ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।
আনুপাতিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে আইএফআইসি ব্যাংক। গত বছরের চেয়ে ২৬৫ কোটি টাকা বেশি পরিচালন মুনাফা হয়েছে ব্যাংকটির।
আর পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পরিচালন মুনাফা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের- ২ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা গত বছর (২০১৯) ছিল ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রণী ব্যাংকের ১১০০ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৯০০ কোটি টাকা।
আর আলোচ্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমেছে। যেসব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে, শেষ পর্যন্ত কয়েকটি ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর নিট বা প্রকৃত মুনাফা বাড়বে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন ব্যাংকাররা।
পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়। পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এবং সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে করপোরেট কর পরিশোধের পর ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার হিসাব হয়।
নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে থাকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে শেয়ারবাজারে বেশ আগ্রহ থাকে।
মূল্যসংবেদনশীল বিবেচনায় শেয়ারবাজারে থাকা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগেভাগে প্রকাশের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ব্যাংকগুলো বিএসইসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য দেওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়। তবে বিভিন্ন সূত্রে পরিচালন মুনাফার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে।
ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ব্যাংকিং কার্যদিবস শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯০০ কোটি টাকা।
সর্বোচ্চ মুনাফার দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পূবালী ব্যাংক। এর পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা।
সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ১২ কোটি টাকা।
ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮২৫ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৬৮১ কোটি টাকা। আল আরাফা ব্যাংক মুনাফা করেছে ৮০১ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৬৪০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক মুনাফা করেছে ৭৮০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৭৫০ কোটি টাকা।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৫৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬৭৩ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৩০ কোটি টাকা, যা গত বছর ছিল ৬২০ কোটি টাকা। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৮২ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৬৬৭ কোটি টাকা।
আনুপাতিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের। গত বছরের চেয়ে ২৬৫ কোটি টাকা বেশি পরিচালন মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। এবার তাদের ৬৭৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা হয়, যা আগের বছরে ছিল ৪১০ কোটি টাকা।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৫৩ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৪৭৫ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬৫৫ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫৯১ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৫২৫ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়ার পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯৪০ কোটি টাকা, যা গত বছর ছিল ৮১১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে পরিচালন মুনাফা কমেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের। ২০১৯ সালে ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা করেছে ৯৪৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে যা ছিল ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা।
নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাউথ বাংলা ব্যাংক মুনাফা করেছে ২২৮ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ২০৩ কোটি টাকা। একই ভাবে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক মুনাফা করেছে ২৬২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২০১ কোটি টাকা। মেঘনা ব্যাংক ২০১৯ সালে মুনাফা করেছে ১২৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯৩ কোটি টাকা। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১১০ কোটি টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ২৫২ কোটি টাকা। মধুমতি ব্যাংক মুনাফা করেছে ২১৮ কোটি টাকা, গত বছর ছিল ১৯৭ কোটি টাকা। এনআরবি ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা গত বছরের ৯১ কোটি টাকার চেয়ে বেড়ে হয়েছে ৯৩ কোটি টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আশানুরূপ ঋণ বিতরণ না হলেও প্রবৃদ্ধি কমেছে তেমন নয়। ফলে ঋণ বিতরণ থেকে উল্লেখযোগ্য একটি আয় ব্যাংকগুলোর এসেছে। আর ২০১৯ সালে বিশেষ সুবিধায় বড় ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগের ফলে ওই সব ঋণের বিপরীতে আয় দেখানো গেছে। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি, এলসিসহ বিভিন্ন কমিশনের বিপরীতেও আয় আসায় মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৩১ডিসেম্বর/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































