দ্বিতীয় দিনে বোলিংয়ে নামছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৬| আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:০৯
অ- অ+

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শুরুটা কোনো রকম ধরে রাখতে সমর্থ্য হয়েছে বাংলাদেশ। পুরো দিনে ৮২.৫ ওভার খেলে সবকটি উইকেট হারানোর মধ্য দিয়ে রানের ঝুলিতে জমা হয় ২৩৩ রান।আলোক স্বল্পতার কারণে সাত ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচের ইতি টেনে দেন কর্তব্যরত আম্পায়াররা।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অল আউট হওয়ায় আজ দিনের শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নামবে পাকিস্তান। আগেরদিন টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। অভিষিক্ত সাইফ হাসান নিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি ভুলে থাকতেই চাইবেন, কারণ অভিষেক ম্যাচে রানের খাতাটাই খুলতে পারেননি তিনি। অপরদিকে বিসিএলে ত্রিশতক হাঁকানো তামিম ইকবাল মাত্র তিন রানে মাঠ ছাড়েন।

মাহীন আফ্রিদির করা সে ওভারের তৃতীয় বলে বাজেভাবে আউট হন অভিষিক্ত সাইফ। শাহীনের বল আলতো ছুঁয়ে দিইয়ে স্লিপের ফিল্ডারের হাতে তুলে দেন সাইফ। ঠিক পরের ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাস তামিম ইকবালকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন।হালকা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিটি সরাসরি আঘাত হানে তামিমের প্যাডে। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দেন। তবে রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে নেয় পাকিস্তান। ৩ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাজমুল হাসান শান্ত এবং তামিমের পর আসেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক। দুজন মিলে নেমে পড়েন চাপ সামাল দেয়ার মিশনে। তবে তাদের জুটিটা ছিল পুরোপুরি নড়বড়ে। বিশেষ করে অধিনায়ক মুমিনুলের ব্যাটিং।

ইনিংসের ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে নাসিম শাহর দ্রুতগতির বাউন্সারটি যেন দেখতেই পাননি মুমিনুল হক। চোখ সরিয়ে নেন বলের লাইন থেকে, মুহূর্তের মধ্যে সেটি গিয়ে লাগে তার ব্যাটের ওপরের দিকে, অল্পের জন্য গালিতে দাঁড়ানো ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে- মুমিনুলের ৫৯ বলের ইনিংসের প্রতীকী দৃশ্যই বলা চলে এই এক ডেলিভারির ঘটনাকে।

যেখানে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছেন পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহ। কিন্তু কোনোমতে নিজেকে বাঁচিয়ে ৪ রান পেয়ে গেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল। ঠিক এভাবেই বাজে শুরুর পর প্রথম ঘণ্টাটা কাটিয়ে দেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

তবে মুমিনুলের তুলনায় বেশি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাটিং করেছেন শান্ত। শাহীন আফ্রিদিকে দুর্দান্ত এক কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জানান দিয়েছেন নিজের আত্মবিশ্বাসের কথাও। অন্যদিকে মুমিনুল খুঁজে পাননি ছন্দ। নাসিম শাহর শর্ট লেন্থের ডেলিভারিতে বেশ বিপাকেই পড়তে দেখা গেছে তাকে। যার ধারাবাহিকতায় নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। ৩০ রান করে শাহীন শাহর শিকার হন ইনিংসের ২২তম ওভারে।

এরপর মাহমুদউল্লাহ আর শান্ত'র ৩৩ রানের একটি জুটি। দারুণ খেলছিলেন শান্ত। হঠাৎই কি মনে করে মোহাম্মদ আব্বাসের বেরিয়ে যাওয়া বলটায় ব্যাট ছুয়ে দেন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ হন ৪৪ রানে। তার ১১০ বলের ইনিংসটায় ছিল ৬টি বাউন্ডারির মার।

মিঠুন ক্রিজে আসার পর কিছুটা সময় ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। তবে মাহমুদউল্লাহ শাহীন শাহ আফ্রিদির অনেক বাইরের একটি ডেলিভারিতে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ হন আসাদ শফিকের। ৪৮ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তিনি তখন ২৫ রানে। ১০৭ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে ৫৪ রানের আরেকটি লড়াকু জুটি লিটন দাস আর মোহাম্মদ মিঠুনের। দারুণ খেলছিলেন লিটন। হঠাৎ একটি বল লেগে যায় পায়ে। হারিস সোহেলের টার্নিং ডেলিভারিটি লিটনের প্যাডে লাগলেও অবশ্য আউট দেননি আম্পায়ার নাইজেল লং। রিভিউ নেয় পাকিস্তান। এবারও জিতে যায় তারা। ৪৬ বলে ৭ চারের সাহায্যে ৩৩ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন।

তবে এরপর আবারও প্রতিরোধ বাংলাদেশের। সপ্তম উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে প্রায় ২৩ ওভারের মতো কাটিয়ে দেন তাইজুল, দলকে পার করে দেন ২০০ রান।

৫৩ রানের জুটিটি অবশ্য ভেঙেছে তাইজুলেরই ভুলে। হারিস সোহেলকে অযথা তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে ইয়াসির শাহর সহজ ক্যাচ হন তিনি। ৭২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তাইজুলের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। এরপর ১ রানেই রুবেলকে বোল্ড করে দেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।

পরের ওভারে এক বল বিরতিতেই বাংলাদেশের শেষ ভরসা মোহাম্মদ মিঠুনকেও তুলে নেন নাসিম শাহ। হাফসেঞ্চুরিয়ান মিঠুন অবশ্য নিজের ভুলে আউট হয়েছেন বলা যাবে না। নাসিমের দুর্দান্ত ডেলিভারিটি হাত আর পেটের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে ব্যাটে লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। পাকিস্তান রিভিউ নেয়। তাতে দেখা যায় পরিষ্কার ইনসাইড এজ।

মিঠুনের ১৪০ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংসটার সমাপ্তি সেখানেই। এরপর আর এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন আবু জায়েদ। শাহীন শাহর বলে এক রান নিতে চেয়েছিলেন জায়েদ, কিন্তু সঙ্গী এবাদত হোসেন না করে দেন। ক্রিজে ফিরে যান জায়েদ, কিন্তু বোকার মতো ব্যাটটা রাখেননি ক্রিজের দাগে। আব্বাসের থ্রোতে স্ট্যাম্প ভাঙলে শেষ উইকেটটির পতন হয় বাংলাদেশের।

পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল শাহীন শাহ আফ্রিদি। ৫৩ রানে তিনি নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ২টি করে উইকেট মোহাম্মদ আব্বাস আর হারিস সোহেলের।

(ঢাকাটাইমস/০৮ ফেব্রুয়ারি/এআইএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4