ক্যাসিনো-মলম পার্টি এমপি হয় কি না দেখতে হয়: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

ক্যাসিনো আর মলম পার্টিরা কেউ রাজনৈতিক পদবি অর্জনের পর জনপ্রতিনিধি হতে নির্বাচনে অংশ নেন কি না সে বিষয়ও তাদের খেয়াল রাখতে হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, প্রার্থীদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হয়।

আজ রবিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। দেশের ৪৯ উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে কর্মশালাটি আয়োজিত হয়।

সিইসি বলেন, ‘আমাদের দেশে তো মলম পার্টি ও ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। দেখা গেল যে একবার গুলিস্তানে, মহল্লায় যারা হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পর হয়তো দেখা গেল নেতা, পাতিনেতা, উপনেতা তারপর পূর্ণ নেতা। তারপর কমিশনার। এগুলোও আমাদের দেখতে হয়। উনি একদিন এমপিও হতে পারে। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়।’

দেশকে নিয়ে কখনো কখনো আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, জার্মানির সঙ্গে তুলনা করে এখানে সেরকম হয় না কেন- এমন প্রশ্ন উল্লেখ করে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসেছিল, আমি অত্যন্ত নিচু গলায় বললাম কানে কানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপরে। ইউ মাস্ট থিঙ্ক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি।‘

নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রণগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার উপায় হলো চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব।’

এ সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কথা বলেন সিইসি।

তিনি বলেন, ইভিএম এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বলা হয়, সুইজারল্যান্ডে তো পেপার ভোট হয়। কিন্তু সেখানে তো যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয় না। পোস্টারে আকাশ দেখা যায় না, বাতাস আসে না- এমন পরিবেশ হয় না।‘ বাংলাদেশের নির্বাচন এখানকার পরিস্থিতি অনুযায়ীই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইভিএমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘ ইভিএমের ফলেই এখন আর সেই দশটা হোন্ডা, বিশটা গুণ্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, এদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকে তাদের পেছনে যারা টাকা দিয়ে, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।’

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬ফেব্রুয়ারি/জেআর/ইএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :