ঝুঁকি এড়াতে স্বেচ্ছা ‘লকডাউন’ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৪১

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে বাংলাদেশে। শুরুতে এ নিয়ে সচেতন হওয়ার জন্য নানা নির্দেশনা দেয়া হলেও খুব একটা আমলে নেননি নাগরিকরা। তবে এখন ভয়াবহতা বুঝতে শুরু করেছেন তারা। কারণ কোথাও একজন রোগী শনাক্ত হলে পুরো বাসা বা এলাকা লকডাউন করে দিচ্ছে প্রশাসন। তাই ঝুঁকি এড়াতে নিজেরাই অঘোষিত লকডাউন শুরু করেছেন।

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকার বাইরেও কিছু কিছু এলাকার জনসাধারণ এই পথে হাঁটছেন। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাসা বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। অতিথি, গৃহপরিচারিকাদের আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এসব এলাকায়।

দেশে করোনার প্রকোপের শুরুর দিকে মিরপুরের টোলারবাগে একজন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২৩ মার্চ নিজ উদ্যোগে ওই এলাকার লোকজন লকডাউন করে ফেলে। এলাকায় আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা হয়। পরে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে লকডাউন করা হয়। ইতিমধ্যে দেশের অনেক জায়গায় এটা হয়েছে।

নিজ উদ্যোগে ‘লকডাউন’ করা লোকজন বলছেন, একজন করোনা আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা বা ভবন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই আগেভাগেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যাতে করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকা যায়।

কোথাও কোথাও এলাকার তরুণদের দিয়ে অনানুষ্ঠানিক কমিটি করে এসব কার্যক্রম পরিচালিত করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, রাজধানীর বসুন্ধরা, ওয়ারীসহ কিছু এলাকার বাসা-বাড়ি লকাডাউন করেছে প্রশাসন। আইইডিসিআরের নির্দেশনায় এটা করা হচ্ছে। তবে এর বাইরে বনশ্রী, শান্তিনগরের কিছু অ্যাপার্টমেন্ট নিজেরাই লকডাউন করেছে এলাকাবাসী। এছাড়া যশোরেও একটি এলাকায় লোকজন সড়কে আড়াআড়ি কাঠ দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে।

এর আগে পার্বত্য অঞ্চলে বেশ কিছু এলাকা সেখানকার অধিবাসীরা নিজেরাই সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। যাতে করে কোনো লোকজন বাইরে থেকে যাওয়া আসা করতে না পারে সেজন্য এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়।

দেখা গেছে, রাজধানীর বনশ্রী আবাসিক এলাকা যেখানে মধ্যরাত পর্যন্তও সরগরম থাকতো সেখানে সন্ধ্যার মধ্যেই পুরো এলাকা নীরব হয়ে যাচ্ছে। সব বাসার গেটে তালা। বাসায় আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোরতা।

এলাকার লোকজনদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, কোন আত্মীয়-স্বজন যেন বাসায় না আসে। সবসময় গেট তালা দিয়ে রাখতে। খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাসার লোকেরাও বাইরে যেতে পারে না এবং বাইরের লোকেরাও বাসায় প্রবেশ করতে পারে না সেখানে। প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় সহায়তা করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

তবে লোকজনের চলাফেরা কম থাকায় চুরি-ডাকাতি যাতে না হয় সেজন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এখানে।

এদিকে নিজ উদ্যোগে লকডাউন করা হয়েছে শান্তিনগরের ইস্টার্ন পয়েন্ট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারেন না অ্যাপার্টমেন্ট থেকে।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেনো বাসার বাইরে না যান সেজন্য বাড়ির মালিক কমিটি নির্দেশনা দিয়েছে। এখন সবাই তা মানছেন।

এদিকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ও নওয়াপাড়া গ্রামকে সোমবার লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় যুবকরা। গ্রামের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে নিজেরাই লকডাউনের ঘোষণা করেন তারা।

জানা গেছে, গ্রাম দুটির ছয়টি প্রবেশ পথে বাঁশ দিয়ে ফটক তৈরি করে বাধা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামজুড়ে ছিটানো হয়েছে জীবাণুনাশক। প্রবেশ পথে রাখা হয়েছে হ্যান্ডস্যানিটাইজার। বাইরের এলাকার কাউকেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না তাদের গ্রামে। আবার যৌক্তিক কারণ ছাড়া কাউকে গ্রাম থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় দোহাকুলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদার বলেন, ‘প্রতিদিন বাইরের লোকজন এই দুই গ্রামে এসে ভিড় করছে। আড্ডাবাজি করছে। এটা আমাকে জানায় কয়েকজন যুবক। আমি তাদেরকে বলেছি বাইরের লোকজন প্রবেশ বন্ধ করে দিতে।’

কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার একজন গণমাধ্যমকর্মী যিনি ঢাকায় কাজ করেন। রবিবার ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অফিস থেকে বাসায় ঢোকার সময় বেশ কিছু তরুণ কোথা থেকে আসছি, কেন আসছি জানতে চায়। পরে তারা জানায় এলাকায় যাতে বাইরের কেউ না আসতে পারে সেজন্য তারা মিলে কাজ করছেন। নিজেদের চিন্তা থেকেই এটা করছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শুরু থেকেই নানাভাবে মানুষকে করোনার বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। একটু সময় লাগলেও এখন মানুষ সচেতন হয়ে ঘরে থাকছে এটা সবার সম্মিলিত চেষ্টার ফসল।’

(ঢাকাটাইমস/০৭এপ্রিল/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :