জাতীয় কবির ১২১ তম জন্মদিন, উদযাপনে ভার্চুয়াল আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ মে ২০২০, ১১:০৪

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১ তম জন্মদিন আজ। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এবার জাতীয় কবির জন্মদিন উদযাপন হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। লোক সমাগম করে কোনো উৎসব নয়, অনুষ্ঠান হবে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে। থাকবে টিভি অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে ইউটিউবের আঙ্গিনায়।

কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির প্রাণের কবি। বিদ্রোহী কবি হিসেবেও চিনি আমরা তাঁকে। বিচিত্র ছিল তাঁর জীবন। দরিদ্র পরিবারে জন্মের পর দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া। বাবার অকালমৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম, মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। তবে নিজের দুঃখ নিয়ে নয়, তিনি জাতির দুঃখ-ক্লেশ, দৈন্য-লজ্জা ঘোচানোর জন্য ভাবতেন সব সময়।

ছেলেবেলায় কখনও রুটির দোকানে কাজ করেছেন, কখনও বা গান করেছেন লেটো দলের সঙ্গে। বড় হয়ে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে।

পরে যুক্ত হন সাংবাদিকতায়, সম্পাদনা করেছিলেন ধূমকেতু সহ আরও কয়েকটি পত্রিকা। শেষ জীবনে বেতারেও কাজ করেছিলেন কিছুদিন। কবিতারা পাশাপাশি লিখেছেন উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রায় চার হাজার গান। ছোটদের জন্যও লিখেছেন মজার মজার অনেক ছড়া-কবিতা আর গল্প-নাটিকা। তাঁর এসব সৃষ্টি আমাদের প্রতিদিনের পাথেয়।

কাজী নজরুল ইসলামের বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। কাজী নজরুল ইসলাম বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যর্থ অনুকরণ ও অনুসরণের কৃত্রিমতা থেকে আধুনিক বাংলা কবিতাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে সফল। তিনিই রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ। নজরুল তাঁর কবিতা, গান ও উপন্যাসে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

কোমল আর কঠিনে মেশানো এক অপূর্ব ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেমে পূর্ণ, বেদনায় নীল। আবার প্রতিবাদে ঊর্মিমাতাল। তিনি আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎসও। বাংলার মানুষের সবচেয়ে কাছের, প্রাণের মানুষ তিনি। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে অসুস্থ কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। বঙ্গবন্ধু কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। পরে তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

নজরুজয়ন্তী উপলক্ষে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে জাতীয়ভাবে উন্মুক্তস্থানে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে না। তবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু সংগঠন ভার্চ্যুয়ালি নজরুলজয়ন্তী উদযাপন করবে। নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারের জন্য ‘জাগো অমৃত পিয়াসী’ শিরোনামে ৫৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। যা সোমবার সকাল ১১টা থেকে নিকটতম সময় প্রচারিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী প্রচারিত হবে।

নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে থাকছে ‘শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর পরিকল্পনায় যা বিকেল তিনটায় একাডেমির ফেসবুক পেজে প্রচারিত হবে। ‘নব যুগ ঐ এল ঐ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে অনুষ্ঠানটি।

(ঢাকাটাইমস/২৫মে/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :