শর্ত সাপেক্ষে রাশেদ চিশতীর জামিন বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ জুন ২০২০, ১৯:২১

অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক পরিচালক রাশেদুল হক চিশতীকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন শর্ত সাপেক্ষে বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

জামিনের শর্তগুলো হলো- জামিনে থাকাকালে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না, পদ্মা ব্যাংকে ঢুকতে পারবেন না এবং মামলার তদন্ত কাজে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রাশেদুল হক চিশতী ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে।

মামলায় আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে রাশেদুল হকের পক্ষে শুনানি করেন বারের সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, শর্ত সাপেক্ষে আদালত রাশেদুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয় বর্হির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ তিনটি মামলায় জামিন বহাল রেখেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা থাকায় তিনি আপাতত জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন না।

এর আগে গত ২০ মে একটি মামলায় রাশেদুল হক চিশতীর জামিন স্থগিত করে দেন। পরে ২৮ মে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল এ মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেন।

এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেন।

এজাহারে বলা হয়, লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বখশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশান শাখায় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়। মামলার পরপরই চিশতীসহ চারজনকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। অন্য তিনজন হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।

পরে ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী), মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।

(ঢাকাটাইমস/২জুন/এমআই/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :