করোনায় প্রাথমিকে ৫০০ আক্রান্ত, মৃত্যু ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ১৯:৩৩ | প্রকাশিত : ১০ জুলাই ২০২০, ১৯:১৫

প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে প্রায় ৫০০ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

করোনায় মৃতদের মধ্যে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। এ পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দুজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এরপরের অবস্থান চট্টগ্রামের। আর রাজশাহী বিভাগে এখনো কেউ সুস্থ হননি।

আজ শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) ওয়েবসাইট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সেখানে আক্রান্ত সবার নাম, পদবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঠিকানা এবং বর্তমান অবস্থার বিবরণ দেয়া রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের শুক্রবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯৪। এর মধ্যে ঢাকায় ১৬৪ জন, চট্টগ্রামে ১৩৮ জন, সিলেটে ৪৮ জন, বরিশালে ২৯ জন, রংপুরে ২৪ জন, ময়মনসিংহে ১১ জন, রাজশাহীতে ৪১ জন ও খুলনায় ৩৯ জন।

করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৩৭৪ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ৬৪ জন, কর্মচারী ৩৪ জন ও শিক্ষার্থী ১৯ জন।

বিভাগভিত্তিক করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮০ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১, চট্টগ্রামে ১৯, খুলনায় ৬, বরিশালে ৩, সিলেটে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ৪ জন। রাজশাহী বিভাগে এখনো কেউ সুস্থ হননি।

সুস্থদের তালিকায় রয়েছেন ৫৯ জন শিক্ষক, ১০ জন কর্মকর্তা, ৩ জন কর্মচারী ও ৮ জন শিক্ষার্থী।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনার কাদুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাসুম খান। তিনি এখন সুস্থ আছেন। তবে তার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনিও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে মাসুম খান চাকরির স্বার্থে ঘরের বাইরে যাওয়াকে সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে কেউ বাইরে বের না হলেও আমাকে অফিসের কাজে বাইরে যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ২ হাজার ৫০০ টাকা যাচাই-বাছাই করণের কাজ, উপজেলা পর্যায়ের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার কাজও করেছি। সন্দেহ করছি ওভাবেই হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম।'

লক্ষ্মীপুর সদরের মকরধ্বজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, 'মে মাসের ২৮ তারিখ করোনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম। এখন সুস্থ হলেও কোমর ব্যথায় ভুগছি।'

স্কুল বন্ধ থাকলেও আলমদিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আমিনা বেগম মে মাসের ৯ তারিখ উপবৃত্তির কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর জ্বরে পড়েন। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হবার পর জুনের ৯ তারিখ নমুনা দিয়েছি। পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে পাঁচজনেরই করোনা ধরা পড়ে।'

করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা নিয়মিত যোগাযোগ করছেন বলে জানা যায়। আক্রান্ত যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাও ঊর্ধ্বগামী।

করোনায় মৃত চট্টগ্রামের উত্তর পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফরহানা শবনমও উপবৃত্তির কাজে বাইরে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার ভাই দিদারুল আলম ঢাকা টাইমসকে বলেন, 'মাঝে মাঝে স্কুলের বিভিন্ন কাজ করতে হতো বোনকে। স্কুলের কাজে ব্যাংকেও গিয়েছিলেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর দিন তার শুধুই জ্বর ছিল, আর অন্য কোনো উপসর্গ ছিল না। তাই সুস্থ হচ্ছে এ রকম ভেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় দ্রুত হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার পর ইমার্জেন্সি রুমেই মারা যান তিনি।'

শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে করোনায় কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়নি।

রাজধানীর উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৃত প্রধান শিক্ষার খয়বর আলীর স্ত্রী আইরিন খয়বর ঢাকাটাইমসকে বলেন,'আমার স্বামী মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কাজে কখনোই বাইরে বের হননি। কিন্তু ঈদের আগে স্কুলে বিস্কুট বিতরনের জন্য উনাকে বের হতে হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক হওয়ায় তার কাজের চাপ অনেক রকমের ছিল। সবসময়ই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেন। বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাওয়া আসার পরেই তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারপর উনার প্রাণ গেল করোনায়।'

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ও কর্মচারীদের করোনায় মৃত ১২ জনের মধ্যে দুইজন নারী বাকি সবাই পুরুষ ছিলেন ।

তবে এত আশঙ্কার মধ্যেও স্বস্তির খবর হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন,'করোনায় শিক্ষকদের আক্রান্তের সংখ্যাটি আরো বেশি। কারণ অনেক শিক্ষক লক্ষণ উপসর্গ থাকার পরেও পরীক্ষা করাচ্ছেন না, কেউ কেউ নমুনা দিয়েছেন কিন্তু এখনো রেজাল্ট পাননি। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করোনা আপডেটে অনেক তথ্যই পৌঁছাচ্ছে না।'

(ঢাকাটাইমস/১০জুন/টিএটি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :