বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ জুলাই ২০২০, ০৯:০৯

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিভিন্ন কোর্স অনলাইনে করাচ্ছে হার্ভার্ড, এমআইটিসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। এমন অবস্থায় সম্প্রতি অনলাইনে ক্লাস করা

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তারপরই ব্যাপক চাপের মুখে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যের মামলার মুখে অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়ার কথা জানায় ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মার্কিন সরকার জানিয়েছে, অনলাইনে ক্লাস করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। হার্ভার্ড ও এমআইটির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এদিন আদালতে শুনানি ছিল। সেখানেই সরকার পক্ষের আইনজীবী ট্রাম্প প্রশাসনের মত বদলের কথা জানান।

করোনা সংকটের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। তার মধ্যেই ৬ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করে, অনলাইনে যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন, তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ভিসা প্রত্যাহার করা হবে। তারা নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন।

মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়, এফ-১ এবং এম-১ ভিসাধারীদের মধ্যে যে সমস্ত শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করেছেন, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেয়া হবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, অনলাইনে ক্লাস করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে হবে। নয়তো এমন কোনো কোর্সে ভর্তি হতে হবে, যেখানে শারীরিক ভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়ে দেয়, অনলাইনে কোর্স করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের আর ভিসা দেওয়া হবে না।

ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্কুল-কলেজই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনলাইনে ক্লাস হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাত্রদের ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে। তবে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আগেই ঘোষণা করে, প্রতিটি কোর্স অনলাইনেই করানো হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সরব হয় গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো প্রথমসারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। ওই সংস্থাগুলো হার্ভার্ড এবং ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সঙ্গে একযোগে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।

ফেসবুক-মাইক্রোসফট জানায়, সাময়িকভাবে হলেও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন অভিবাসন আইন স্থগিত রাখুক। নতুন এই আইনের জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়া মার খাবে।

একই বক্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বণিক সংগঠন এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর উপদেষ্টা গোষ্ঠীর। সংগঠনগুলোর বক্তব্য, ৬ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার জেরে অন্যান্য দেশে শিক্ষার্থীরা সিপিটি এবং ওপিটি প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারবেন না। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে। শুধু তাই নয়, আমেরিকায় পড়ার জন্য বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা যে বিপুল টাকা খরচ করেন, তাও হাতছাড়া হবে।

ইস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে গিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন, তাদের ৫.৫ শতাংশ বিদেশি। ২০১৮ সালে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার।

বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আমেরিকার ১৭টি রাজ্য এবং কলম্বিয়া জেলা নতুন এই ভিসা আইনের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই নীতি শুধু নিষ্ঠুর নয়, বেআইনিও। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ থেকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী যায় চীন থেকে। তারপরই আছে দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, কানাডা ও ভারতের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা টাইমস/১৫জুলাই/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :