দেলোয়ারের সনদ জালিয়াতি ধরতে ২০ বছর!

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩৯

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দেলোয়ার হোসেন কাজ করেছেন ২০ বছর ধরে। মাস্টার্স পাসের সনদ দিয়ে কাজে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত সুচারুরূপে।

চাকরিজীবনের দুই দশক পর এসে জানা গেল তিনি এইচএসসি পাস। ভুয়া সনদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছিলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার এই জালিয়াতি প্রমাণ হওয়ায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চাকরীচ্যুত দেলোয়ার হোসেনের এমন প্রতারণার খবর শুনে বিস্মিত তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা। তারা বলছেন, প্রায় দুই যুগ ধরে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দেলোয়ার হোসেন যে মাত্র এইচএসসি পাস তা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না।

শনিবার ঢাকার ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনের মেজর এটিএম হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণবিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের এক জরুরি সভায় তাকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের অশ্লীল ফোনালাপ ভাইরাল হয়। ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ফোনালাপটি ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ডাকা হয় ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠক। এরইমধ্যে কর্তৃপক্ষ দেলোয়ার হোসেনের শিক্ষা সনদও ভুয়া বলেও নিশ্চিত হয়। পরে বৈঠক করে তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১৭ সালেও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ ইউজিসিতে দিয়েছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে কাছে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে ইউজিসি সূত্রে জানা যায়।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নারী শিক্ষক রেজিস্টার কর্তৃক নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়।

ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম সভাপতিত্বে সভায় সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক হোসনে আরা শাহেদ, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জুমের মাধ্যমে জরুরি সভায় যোগ দেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদ্দাচ্ছের আলী, ওয়ালিউল ইসলাম এবং শিরীন পারভীন হক।

জানা যায়, ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিয়ে ২০০২ সালের ৩ আগস্ট গণবিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড তার আচার-আচরণ দেখে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে গোপনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তদন্ত করতে থাকে।

তদন্তের এক পর্যায়ে জানা যায় রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন উচ্চমাধ্যমিক পাস। তিনি নিজেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী পরিচয় দিয়ে ও মাস্টার্স পাসের সনদ দিয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, দেলোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বলে পরিচয় দিতেন। দাবি করতেন, মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন তিনি। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করা কেউ কখনো সন্দেহ করেনি।

এছাড়াও কিছু নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তার সঙ্গে তার সখ্যতা ছিল বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন। নাম প্রকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি আমরা কেউই জানতাম না। তবে কোনো কোনো নারী কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অনেকেই জানতেন। তার গাড়িতে অনেকে যাওয়া আসা করতেন, তার রুমে অনেকে বিনাপ্রয়োজনেও বসে আড্ডা দিত। ইনক্রিমেন্টের সময় তারা অতিরিক্ত সুবিধা পেতেন।’

এদিকে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানা গেছে। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠকে একবছর আগে ইউজিসিতে দেয়া অন্য একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

(ঢাকাটাইমস/১৩সেপ্টেম্বর/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :