আমি বঙ্গবন্ধুর নৌকা বাই: নিক্সন চৌধুরী

ফরিদপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫৮

‘আমি বঙ্গবন্ধুর নৌকা বাই’ বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কাজী জাফরুল্লাহ গত ছয় মাসেও এলাকায় আসেননি। আমি কাজী জাফরুল্লাহর মতো নৌকা বাই না- আমি বঙ্গবন্ধুর নৌকা বাই। বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই আমি এলাকাবাসীর জন্য কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি- আমি নৌকার বিপক্ষে রাজনীতি করি না । আমি তিন থানার জনগণকে মুক্ত করার জন্য একজনের বিপক্ষে রাজনীতি করি।’

শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে নিক্সন চৌধুরীর বাড়ি ভাঙ্গার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে চরভদ্রাসনে উপজেলা উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) চেয়ারম্যান কাউসার হোসেনের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। যোগদান সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী এমপির প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ও চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী কাউসারের যোগদান অনুষ্ঠান। প্রচারে চরভদ্রাসনে সর্বস্তরের জনগণ’।

‘যদি থাকে নসিবে আপনা আপনি আসিবে’ এ গানে কলি আউড়িয়ে কাউসারকে স্বাগত জানিয়ে স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান নিক্সন বলেন, ‘আমার ডান পাশে দেখেন, বাম পাশে দেখেন- সবাই এখন আমার লোক। আমি দুইবার এ এলাকার সাংসদ হয়েছি, এলাকার উন্নয়নে যে পরিমাণ কাজ করেছি- তা অতীতে হয়নি। তাই আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিচ্ছেন।’

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আওয়ামী লীগের রক্ত। আজকে অনেক বিএনপি নেতাও আমার সাথে জয়বাংলা স্লোগান দেয়। এটি আমার প্রাপ্তি বলে মনে করি।’

ওই যোগদান অনুষ্ঠানে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাউসার হোসেন বলেন, ‘আমি ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু তিনি (কাজী জাফরউল্লাহ) মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেন না। আমি ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে এ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। কিন্তু নির্বাচনে জিততে পারিনি। অনেক ভেবে-চিন্তে পরামর্শ করে আমি সাংসদের সাথে দেখা করেছি এবং যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘নৌকা হারলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ কালো হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে আমি স্বতন্ত্র সাংসদের সাথে যোগ দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এ যোগদান অনুষ্ঠান চরভদ্রাসনে করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সেখানে করা হলে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হতো। এ কারণে আমি সাংসদের বাড়িতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেন। এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, আনোয়ার মোল্লা প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকাল ৫টায় সাংসদের হাতে দুই একটি কাচের বাক্সে মোড়ানো দুই ভড়ি ওজনের একটি সোনার নৌকা তুলে দিয়ে নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যোগ দেন মো. কাউসার। একই সঙ্গে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে নিক্সনের সাথে যোগ দেন চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের সভাপতি রুবেল মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল মোল্লা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মৃধা।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ অক্টেবর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসার মৃত্যুর কারণে উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূণ্য হয়ে যায়। গত ২৯ মার্চ এ উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। মহামারী করোনার কারণে ওই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে আগামী ১০ অক্টোবর এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশন।

এ নির্বাচনকে ঘিরে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই ঘটতে শুরু করে নাটকীয় ঘটনা। স্বতন্ত্র সাংসদ সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার আলী মোল্লা আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাউসারের পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

স্বতন্ত্র সাংসদের সাথে যোগ দিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাউসার শুক্রবার দুপুরে সাংসদের ব্রাহ্মণপাড়াস্থ বাসভবনে আসেন। তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে সেখানে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করেন। পরে বিকালে এ যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :