কৃষি প্রণোদনা ঋণ

১০ শতাংশও অর্জন নেই ২০ ব্যাংকের

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২০:০৩ | প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৫

করোনাভাইরাসের ক্ষতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ২০টি ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশও অর্জন করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে বারংবার সতর্ক করার পরও এসব ব্যাংক কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঋণ বিতরণে অনীহা দেখিয়ে আসছে। এরমধ্যে ব্যাংকগুলোকে কড়া শাস্তির কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার চিঠিও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গেল মার্চে দেশে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব শুরুর পর অনেকটাই বিপর্যয়ের মুখে দেশের অর্থনীতি। এমন অবস্থায় সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় প্রণোদনা সুবিধার আওতায় কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার শতাংশ সুদে এ প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ৪৩ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সময় বেঁধে দেওয়া হয় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে দেখা গেছে ২০টি ব্যাংক এখনও ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রার ১০ শতাংশও অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে ২টি ব্যাংক শূন্য টাকা বিতরণ করেছে অর্থাৎ তারা এক টাকাও বিতরণ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ বিতরণের সময় আরও তিন মাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা ঋণ বিতরণে অনীহা দেখানো ব্যাংকগুলোকে কড়া সর্তক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলে প্রণোদনা ঘোষণার পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ১০ শতাংশও ঋণ দিতে পারেনি ২০ ব্যাংক। এগুলো হলো- বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কর্মাস ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল, প্রাইম ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কর্মাস ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রণোদনার ঋণ বিতরণে অনীহা দেখানো ২০ ব্যাংককে কঠোর হুশিয়ার করে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কৃষি ঋণ বিভাগ হতে প্রেরিত ১৯ মে এবং ১ জুলাই তারিখের পত্রের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। উক্ত পত্রসূমহের নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট জাতীয় আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলায় প্রণোদনা সুবিধার আওতায় কৃষি ঋণ বিতরণে কোনও রূপ অনীহা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে অতিশয় কঠোরতার সাথে দায়ী ব্যাংক/কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে কোনও ঋণই বিতরণ না থাকায় ৯ আগস্ট ও ২৬ আগস্ট ঋণ বিতরণের জন্য বিশেষভাবে পরামার্শ দিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। এরপরও তথ্য/বিবরণী হতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ হতে আপনাদের অনকূলে বরাদ্ধকৃত টাকার বিপরীতে এসডি সার্কুলার-১, তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০২০ এ বর্ণিত কৃষি খাতসমূহে ৪ শতাংশ নুদ হারে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপনাদের ব্যাংক ১০ শতাংশও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। স্বপ্রণোদিত হয়ে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গ্রহণের জন্য পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট করে তহবিল বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক সংকটকালে কৃষিঋণ বিতরণ না করে তহবিল আটকে রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা লঙ্ঘনের সামিল।

কৃষি খাতসমূহে ৪ শতাংশ সুদ হারে উল্লেখিত প্রণোদনা সুবিধার আওতায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম ত্বরান্মিতকরণের পুনরায় পরামর্শ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, অন্যথায় ব্যাংকের নতুন শাখা খোলা, অনুমোদিত ডিলার শাখা, বিদেশে এক্সচেইঞ্জ হাউজ খোলার অনুমোদনের ক্ষেত্রে এবং রিপো সুবিধার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিশয় কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করবে। ক্যামেল রেটিংয়ের সময় ব্যবস্থাপনা রেটিংয়ে এই নেতিবাচক কাজের ফলাফল হিসাবায়িত হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অতীব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিষেশভাবে পরামার্শ প্রদান করা হয়েছে এ চিঠিতে।

ছয়মাসেরও প্রণোদনার কৃষিঋণ বিতরণ শুরু করতে না পারার ব্যাপারে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফকরুল আলম ঢাকা টাইমসকে জানান, তাদের পল্লী অঞ্চলে শাখা কম থাকার কারণে এ ঋণ বিতরণ করতে পারেননি। তবে পরিকল্পনা করেছেন পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করবেন।

ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘করোনাকালীন পূর্ণমাত্রায় ব্যাংকিং করতে না পারার কারণে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ শুরু করতে পারেনি। করোনা মহামারী কিছুটা শিথিল হওয়ায় প্রণোদনার কৃষিঋণ বিতরণে উদ্যোগ নিয়েছি।’

(ঢাকাটাইমস/১১অক্টোবর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :