দুই হাত নেই, থুতনি দিয়ে স্নুকার খেলেন পাকিস্তানের ইকরাম

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১৪:২৩

কথায় আছে চেষ্টা করলেই উপায় হয়। এই প্রচলিত কথারই জ্বলন্ত প্রমাণ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সামুন্দ্রি শহরের মোহাম্মদ ইকরাম। জন্ম নিয়েছেন দুই হাত ছাড়াই। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ার কষ্ট ভুলে স্নুকার বোর্ডে আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন তিনি। কিউ হাতে বোর্ডের বলগুলো পকেটে ফেলতে বহু কাঠখড় পোহাতে হয় সাধারণ একজন খেলোয়াড়কে, তবে নিজের থুতনি দিয়ে খুব সহজেই সেই কাজটি করতে পারেন ৩২ বছর বয়সী এই যুবক। স্নুকার খেলার সুবাদেই ইকরামের নাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পাকিস্তানে।

আট ভাই-বোনের অভাবের সংসারের সদস্য মোহাম্মদ ইকরাম সামুন্দ্রির একটা স্নুকার হলে ছোটবেলায় নিয়মিত খেলা দেখতেন। খেলা দেখতে দেখতেই এক সময় স্নুকার খেলার নেশা জেগে ওঠে ইকরামের। দুই হাত ছাড়াই খালি বোর্ডে অনুশীলন করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে খেলায় উন্নতিও হতে লাগল এবং একপর্যায়ে অন্যদের সঙ্গে খেলতে শুরু করেন। স্নুকার হলে অন্যদের খেলার জন্য ফি লাগলেও ইকরামকে কিছুই দিতে হয় না। বরং খেলে কিছু উপার্জনও করতে পারেন। প্রতিভার এমন ভিডিও ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের স্নুকার অঙ্গনে রীতিমতো তারকায় পরিণত হয়েছেন ইকরাম।

অসাধ্য সাধনকারী ইকরামের কণ্ঠে, ‘খুব কঠিন কাজ এটা। এর জন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরুতে পুলের খালি টেবিলে একাই বলগুলো নিয়ে অনুশীলন করতাম। ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। এরপর অন্যদের সঙ্গে খেলতে শুরু করি।’

থুতনি দিয়ে নিখুঁতভাবে যখন লাল বলগুলো পকেটে ফেলেন অন্য খেলোয়াড়েরা মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করে ইকরামের। পাকিস্তানে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। তবে স্নুকারও সে দেশে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে আছে। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা খেলাটা চালু করেছিল।

সামুন্দ্রি স্নুকার হলের মালিক মোহাম্মদ নাদিমের চোখে ইকরাম একজন সত্যিকারের খেলোয়াড়। ইকরামের খেলায় মুগ্ধ নাদিম বলেন, ‘খেলার জন্য ওর কাছ থেকে কোনো অর্থ নিই না আমরা। উল্টো লোকে তাদের সঙ্গে খেলার জন্য ওকে কিছু অর্থকড়ি দেয়। সে প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট ও ফুটবলে খেলে না। কিন্তু খেলাটা যখন স্নুকার তখন তো তাকে খেলোয়াড় হিসেবে মানতেই হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৬ অক্টোবর/এআইএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :