প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূলের বঞ্চিতদের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ মার্চ ২০২১, ২০:৪১

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিক্ষুব্ধদের সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে গতকাল বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পশ্চিমবঙ্গ ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকে দলের মধ্যে বিক্ষুব্ধদের সংখ্যা বাড়ছে। কেউ কেউ দল ছেড়েছেন, কেউ বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করছেন।

শুক্রবার কালীঘাটে দলের কার্যালয়ে ফিরহাদ হাকিমকে পাশে নিয়েই ২৯১টি আসনের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেন মমতা। তালিকায় দেখা যায়, কয়েকটি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দল আগলে পড়ে থাকা সৈনিকদের সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ টলিউড তারকাদের। এটা নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জামাতা ইয়াসির হায়দরকে প্রার্থী না করায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বার্তায় বলেন, ‘কয়েকবছর আগে একজন আমাকে বলেছিলেন যে, তারকা বা বিখ্যাত হলে সহজেই টিকিট পাওয়া যায়। তখন ওর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত ছিল আমার। যারা বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা তথাকথিত দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান, দিনের শেষে উপেক্ষিতই থেকে যান তারা। এটাই কঠিন বাস্তব।’

অন্যদিকে, প্রার্থী না করায় তৃণমূল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য ও রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সাবেক তৃণমূল সভাপতি নাসির শেখ। শনিবার তার পাশাপাশি তৃণমূলের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক কংগ্রেস দলে যোগ দিয়েছেন।

নাসির শেখ বলেন, ‘আগামী ২ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের অবস্থা হবে গভীর সমুদ্রে ফুটো হয়ে যাওয়া নৌকার মতো। তাই আমরা অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নাসির শেখের অভিযোগ, `তৃণমূল দলটা চলছে শুধু লেনদেনের উপরে। দলে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তৃণমূলকে নির্ভর করতে হচ্ছে নায়ক-নায়িকাদের উপরে! আর এই জেলায় যারা চুরি-চামারি করে টাকা রোজগার করে, তারাই তৃণমূলের টিকিট পাচ্ছে। দিদির দলে পরিশ্রম করে টিকিট পাওয়া যাবে না। রাজনীতি করে টিকিট পাওয়া যাবে না। নায়ক-নায়িকারা টিকিট পাবে কিংবা দুর্নীতিগ্রস্তরা। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হবে না।’

বামফ্রন্ট আমলের সাবেক মন্ত্রী ও ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা কলিমুদ্দিন শামসের ছেলে মৈনুদ্দিন শামস ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে বীরভূমের নলহাটি থেকে বিধায়ক হন। প্রার্থী তালিকায় তার নাম না থাকায় নিজের ‘সরাসরি’ অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল মুখে ‘মুসলিম প্রীতি‘র কথা বলে, আর অন্যদিকে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। আমাকে বাদ দিয়ে যদি কোনও ‘সংখ্যালঘু ভাই’কে প্রার্থী করা হতো, তা হলে আমি বুঝতাম! কিন্তু প্রার্থী করা হয়েছে রাজেন্দ্র প্রসাদ সিংকে। আমি তৃণমূল ছেড়ে দিলাম।’

দলীয় টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘দলের আজ আমার প্রয়োজন ফুরোল!’ তিনি তার আক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, এই দলটাকে বুকে আঁকড়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছি। ভাঙড়ের মানুষের পাশে থেকেছি। এখন ভাঙড়ের মানুষ যা বলবেন, আমি তাই করব।’

আরাবুলের অনুগামীরা সড়ক অবরোধসহ রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অন্যদিকে, সাতগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ও বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ টিকিট না পাওয়ায় বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে সোনালী গুহ বলেন, মমতা তাকে ‘ঘরের লোক’ মনে করতেন। তিনি এমন করতে পারেন, বিশ্বাসই করতে পারছেন না! একনিষ্ঠভাবে দলের জন্য কাজ করার এমন ‘পুরস্কার’ জুটবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন সোনালী গুহ।

বনগাঁর তৃণমূল নেতা শঙ্কর আঢ্য টিকিট না পাওয়ায় শনিবার তার সমর্থকরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শঙ্কর বাবু এ ব্যাপারে দলীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তার আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/০৬মার্চ/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :