লকডাউন তোমাকে অভিবাদন!

আবু বকর সিদ্দিক
 | প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৩২

হে লকডাউন তুমি না আসলে বুঝতেই পারতাম না বাঙালি জাতি যে একটা তুমুল হুজুগে জাতি। লকডাউন দিলো সরকার ৭ দিনের জন্য। ওদিকে জনগণ রাস্তায় জ্যাম লাগিয়ে দিয়েছিল কাল সকাল থেকেই৷ সিলেটের মতো অতি ক্ষুদ্র শহরে গাড়ি এক ঘন্টা এক জায়গায় দাড়িয়ে আছে!

ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন। যেন আজকেই সব টাকা তুলতে হবে! যদি পরে টাকা না পাওয়া যায়! বুথে টাকা নাই। জনগণ তিন গুনের ও বেশি টাকা তুলে রাখছে! যদি পরে বুথ বন্ধ হয়ে যায়! আজকেই সব টাকা তুলে রাখতে হবে! ফলে ব্যাংক সার্ভার ডাউন!

রাস্তায় গাড়ি নেই। গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷ ওদিকে সাধারণ দোকানপাঠে কাঁচা বাজারে দীর্ঘ লাইন। যেন আজকেই সব বাজার করে রাখতে হবে! অথচ প্রশাসন বলছে কাঁচা বাজার খোলা থাকবে!

বেশ কিছু মহিলা দেখলাম নতুন করে শপিং করছেন। পাছে যদি লকডাউনের কারণে ঈদের শপিং করা না যায়৷ এই জাতি পারলে সারা বছরের খাবার নিয়ে ঘরে বসে থাকতো। শুধু পারে না বলে মাঝেমধ্যে ওদিকে সেদিকে ভীড় করে। আর গালাগাল করে। পুরো সমাজ ব্যবস্থা হুজুগে হয়ে যাওয়ার ফলে কাউকেই আর কিছু বলা যায় না। শুধু খোদাকে বলার অপেক্ষা!

খোদা আপনাকে ধন্যবাদ। এই রঙমঞ্চে আমাদের পাঠিয়ে এতোসব রঙ ডং দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমরা তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। লকডাউন তোমাকে আবার ও অভিবাদন!

আজ অবশ্য দেখে ভালো লাগলো৷ লোকজনের মাঝে কোনো হুজুগে হবার মতো কোনো চান্স নেই৷ সবাই ধীর এবং শান্ত। অনেকেই বের হইছেন তাও মনে হলো দরকারি হবে। অপ্রোয়জনীয় মানুষ জন রাস্তাঘাটে নেই বললেই চলে।

রাস্তাঘাটে গাড়িঘোড়া আছে। যেকোনো জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রায় তিনগুণ বা দ্বিগুণ ভাড়া হাকাচ্ছে ড্রাইভাররা। আমি আগে যে জায়গায় মাত্র বিশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে বাসায় আসতাম সেই একই জায়গায় ৫০ টাকা দিয়ে আসা লাগলো।

জন সচেতনতা তৈরি হবে কি না সেটা আমি বলার মতো ক্ষমতা রাখি না কিন্তু এটা বলতে পারি যে, সিলেটের মতো মফস্বল শহরে হয়তোবা একটু কম প্রভাব পড়েছে লকডাউনের। যেহেতু দেখলাম প্রায় সবকিছুই খুলে রাখা হয়েছে। রাস্তাঘাটে তেমন পুলিশ বা প্রশাসন চোখে পড়লো না৷

মানুষ জন কম যেহেতু রাস্তাঘাটে এর মানে লোকজন মানতে চাইছেন যে দেশে করোনার প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। দেখা যাক এভাবে কয়দিন চলে।

এই সপ্তাহের পরে আর লক ডাউন হউক আমি চাইব না কেননা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে আছে এমনিতেই করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে৷ দীর্ঘ মেয়াদী লকডাউন জাতীয় প্রভাব ফেলবে তা বলাই যায়।

দেশের বেশির মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না। নিরাপদ এবং সচ্ছল জীবন যাপন নিশ্চিত করার আগে এতো দীর্ঘমেয়াদি লক ডাউন দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। সার্বিক দিক বিবেচনা করে দীর্ঘ মেয়াদী লকডাউন থেকে সরে আসা উচিত।

লেখক: উদ্যোক্তা

ঢাকাটাইমস/৫এপ্রিল/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

পাঠকের অভিমত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :