এখন কী করেন সোনালী ব্যাংকের আলোচিত সাবেক এমডি প্রদীপ

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৫ মে ২০২১, ০৯:৩৮

দেশে বহুল আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব নেন প্রদীপ কুমার দত্ত। ২০১২ সালের ১৭ জুন দায়িত্বগ্রহণের পর আত্মসাত হওয়া অর্থ উদ্ধার, জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এমডি হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৬ সালের ১৭ জুন অবসরে যান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি হওয়ার পর প্রত্রিকায় পাতায় যার বক্তব্য বা কর্মকান্ড নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ প্রকাশ হতো সেই প্রদীপ কুমার দত্ত এখন প্রায় আড়ালে চলে গেছেন। তিনি কেমন আছেন, কি করছেন, কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন কেউ খোঁজ রাখেন না। এমনকি এক সময়ের ব্যাংকের সহকর্মীরাও তার খবরাখবর তেমন একটা জানেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে অবসরে গিয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ফারমার্স ব্যাংকের উপদেষ্টা পদে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি কোনও চাকুরি বা ব্যবসা কোনও কর্মকান্ডে যুক্ত নেই।

খোঁজ নিতে ঢাকা টাইমস যোগাযোগ করে সোনালী ব্যাংকের একসময়ের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তের সঙ্গে। এখন কোথায় আছেন, কিভাবে সময় কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেনম ‘এখন কিছু করি না, বাসায় থাকি। কিছু সামাজিক সংগঠনে নিজেকে যুক্ত রাখি। বই পড়ে, টিভিতে খেলা দেখা, ইন্টারনেটে এবং স্বজন-পরিজনকে সময় দিয়ে দিন পার করছি।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষার বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন হোটেল) শাখা থেকে ২০১০-২০১২ সময়ে মোট ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ একাই আত্মসাৎ করে নেয় ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া এই ব্যাংকের গুলশান ও আগারগাঁও শাখা থেকেও ১৪০ কোটি টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়, যা তাদের ঋণসীমার অনেক বেশি।

এই ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবিরসহ মোট ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন ডিএমডি ও পাঁচ জন জিএম ছিলেন।

কেলেঙ্কারির মধ্যে হুমায়ুন কবিরকে এমডি পদ থেকে সরানোর পর প্রদীপ কুমার দত্ত এমডি হিসবে যোগদান করেন। নিয়ম ভেঙে হলমার্ক গ্রুপকে ঋণ দেওয়ার অভিযোগে ৩০ আগস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে ব্যাংকের জিএম ও এর নিচের পদের ১৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন।

জানা যায়, ২০১২ সালের জুনে প্রদীপ দায়িত্ব নেওয়ার সময় সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে তা কমে হয় ৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। তবে ২০১২ সালে ঋণ অবলোপন ছিল ১ হাজার ১৯ কোটি। ২০১৬ সালে প্রদীপের দায়িত্ব শেষের সময় ব্যাংকটির অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

(ঢাকাটাইমস/১৩মে/আরএ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :