সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ ফাঁসিতে ঝুলবে কবে?

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকটাইমস
| আপডেট : ০১ জুন ২০২১, ১৮:৩২ | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০২১, ১০:১৩

পরকীয়ায় বেদম মার খেয়ে গ্রামের যুবক রসু খাঁর নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা নানা প্ররোচনায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা। গলা টিপে কিংবা পানিতে চুবিয়ে ওই নারীদের হত্যা করতেন এই সিরিয়াল কিলার। হত্যা করার আগে তাদের নিজে অথবা সহযোগীদের নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করার প্রবণতা ছিল রসুর। ভয়ংকর এই খুনির ফাঁসির আদেশ হয়েছে দুই মামলায়- তিন থেকে পাঁচ বছর আগে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অপেক্ষা- কবে হবে সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর ফাঁসি?

২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় টঙ্গী থেকে রসু খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোনের সূত্রে স্থানীয় এক কিশোরী হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তিন দিনের রিমান্ডে মুখ খোলেন রসু খাঁ। বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা তার সব ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ১১টি খুনের কথা ওঠে আসে। আরও ১০১ জন নারীকে হত্যা করার পরিকল্পনার কথাও স্বীকার করেন এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার।

চাঁদপুরের রসু খাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে খুলনার পোশাককর্মী শাহিদা হত্যা মামলায় এই খুনির প্রথম মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের রায় আসে আদালত থেকে। ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অরুণাভ চক্রবর্তী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন। ওই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর খুলনার দৌলতপুর এলাকার পোশাককর্মী শাহিদাকে কৌশলে চাঁদপুর সদর উপজেলার সোহবানপুর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পারে নিয়ে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ফেলে যান রসু খাঁ। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন তিনি।

এরপর কারখানার শ্রমিক পারভীন হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ রায়ে রসু খাঁর দ্বিতীয়বারের মতো মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। রায়ে রসু, তার ভাগ্নে জহিরুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ইউসুফ নামের অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামি এখনো পালাতক ।

এরই মধ্যে রসু খাঁর একের পর এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর বেরিয়ে আসে গণমাধ্যমে। ডজন খানেক নারীকে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের আত্মস্বীকৃত এই খুনির ফাঁসির রায় হয়েছে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। কবে তার শাস্তি কার‌্যকর হবে সেই অপেক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে থাকা রসু খাঁর বিরুদ্ধে ১১টি মামলার মধ্যে শাহিদা ও পারভীন হত্যা মামলার রায় হয়েছে। আর একটি হত্যা মামলা থেকে গত বছরের ২৫ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছে চাঁদপুরে দায়রা জজ আদালত। এর আগে ২০১১ সালে পপি হত্যা মামলা থেকেও খালাস পান প্রমাণ না থাকায়।

চাঁদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ও চাদঁপুর জেলা আদালতে এখনো রসু খাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তদন্তকাজ চলছে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর সাইয়েদুল ইসলাম বাবু ঢাকা টাইমসকে বলেন, রসু খাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটির রায় হয়েছে। অন্যগুলো আদালতে বিচারাধীন।

মুত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, এসব মামলা উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা। সেখানে বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকলে আসামি আবার আপিলের সুযোগ পাবেন। যদি আসামির আইনজীবী নিয়োগের সমর্থ না হয়, সে ক্ষেত্রে সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সহযোগিতা করে।

২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার পারভীন বেগম, রুনা বেগম, পপি, জাহানারা বেগম, রুনা বেগম, মাসরুরা খাতুন, শাহানারা খাতুন ও পপির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের পরিচয় উদঘাটন ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিটি মামলায় লাশ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।

মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি রসুর বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুর কারাগারের জেলার গোলাম দস্তগীর জানান, রসুর হত্যা মামলাগুলো কয়েকটির রায় হয়েছে। বাকিগুলোর বিচারকাচ চলমান।

চাঁদপর কারগার সূত্রে জানা গেছে, রসুর বিরুদ্ধে পারভীন হত্যা মামলার রায় হাইকোর্টে বহাল আছে। তিনি সর্বশেষ পারভীন হত্যা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।

যেভাবে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠেন রসু

গ্রামের এক সাধারণ চোর থেকে রসু খাঁ হয়ে উঠলেন একজন ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার। জবানবন্দি থেকে জানা যায়, বিয়ের পর অন্য এক নারীর প্রেম পড়েন রসু খাঁ। সেই নারীর ভাড়াটে গুন্ডাদের হাতে মার খেয়ে ১০১টা হত্যা করার পরিকল্পনা নেন তিনি। তবে পুলিশের হাতে আটকের আগ পর্যন্ত ১১ জন নারীকে হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন রসু খাঁ।

পরকীয়া করার অপরাধে নিজ শ্যালক মান্নানের স্ত্রী রীনাকেও মান্নানের সহযোগিতায় হত্যা করেন রসু খাঁ। রীনাকে তার বাড়ি হাতিয়া থেকে মিথ্যে প্ররোচনায় ফরিদগঞ্জের ভাটিয়ালপুরে এনে ধর্ষণের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ফেলে যায়।

মূলত রীনাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে রসু খাঁ নারী নির্যাতন ও হত্যায় পৈশাচিক আনন্দ পেতে শুরু করেন। এরপর একে একে আরও দশজন নারীকে কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কখনো ধর্ষণ করে, কখনো বা কন্ট্রাক্ট কিলিং করেন রসু খাঁ।

(ঢাকাটাইমস/১৮মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :